News Bangladesh

নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ২০:২৮, ২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

শিশু নির্যাতনের মামলায় কারাগারে বিমানের এমডি দম্পতি

শিশু নির্যাতনের মামলায় কারাগারে বিমানের এমডি দম্পতি

ছবি: সংগৃহীত

১১ বছরের এক শিশু গৃহকর্মীকে অমানুষিক নির্যাতনের অভিযোগে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) শফিকুর রহমান ওরফে সাফিকুর রহমান এবং তার স্ত্রী বিথীসহ চারজনকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। 

সোমবার (০২ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রাজু আহমেদ শুনানি শেষে জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাদের কারাগারে পাঠানোর এই আদেশ দেন।

কারাগারে পাঠানো অন্য দুই আসামি হলেন সাফিকুর রহমানের বাসার গৃহকর্মী রুপালী খাতুন ও মোছা. সুফিয়া বেগম।

এর আগে, রবিবার (০১ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত ৩টার দিকে উত্তরা ৯ নম্বর সেক্টরের বাসভবন থেকে উত্তরা পশ্চিম থানা পুলিশ তাদের গ্রেফতার করে। গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মুহাম্মদ তালেপুর রহমান।

সোমবার আসামিদের আদালতে হাজির করা হলে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উত্তরা পশ্চিম থানার এসআই রোবেল মিয়া (ভিন্ন সূত্রে রোমের মিয়া) তাদের কারাগারে আটকে রাখার আবেদন করেন। 

অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট জাকির হোসেন জামিনের আবেদন করলে রাষ্ট্রপক্ষের উপ-পুলিশ পরিদর্শক তাহমিনা আক্তার এর তীব্র বিরোধিতা করেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত আসামিদের জেলহাজতে পাঠানোর সিদ্ধান্ত দেন।

আরও পড়ুন: শেখ হাসিনার ১০, টিউলিপের ৪ বছর কারাদণ্ড

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের জুন মাসে হোটেল কর্মচারী গোলাম মোস্তফা তার ১১ বছরের মেয়ে মোহনাকে উত্তরা ৯ নম্বর সেক্টরে সাফিকুর রহমানের বাসায় গৃহকর্মী হিসেবে কাজে দেন। গত বছরের ০২ নভেম্বর মোহনাকে সর্বশেষ সুস্থ অবস্থায় দেখেছিলেন তার বাবা। এরপর থেকে আসামিরা মোহনার সঙ্গে তার পরিবারকে আর দেখা করতে দেননি।

গত ৩১ জানুয়ারি বিথী ফোন করে মোহনার বাবাকে জানান যে শিশুটি অসুস্থ, তাকে নিয়ে যেতে হবে। ওইদিন সন্ধ্যায় মোহনাকে আনতে গেলে তার বাবা মেয়ের শরীরের বিভিন্ন স্থানে বীভৎস ক্ষত দেখতে পান। শিশুটির দুই হাতসহ শরীরের বিভিন্ন অংশ গরম খুন্তির ছ্যাঁকায় দগদগে ঘা ও জখমে ক্ষত-বিক্ষত ছিল। আঘাতের তীব্রতায় শিশুটি তখন কথা বলার অবস্থায় ছিল না। 

জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে শিশুটি জানায়, গত নভেম্বর থেকে বিভিন্ন সময়ে শফিকুর রহমান ও তার স্ত্রী বিথীসহ অন্যরা অকারণে তাকে মারধর ও উত্তপ্ত খুন্তি দিয়ে ছ্যাঁকা দিয়ে আসছিলেন।

নির্যাতনের শিকার শিশুটিকে বর্তমানে গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। 

উত্তরা পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী মো. রফিক আহমেদ জানান, শিশুটির বাবা মোস্তফা বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলাটি দায়ের করেছেন। এদিকে শিশুটির চিকিৎসার জন্য ডিএমপি কমিশনারের পক্ষ থেকে ৫০ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।

অসহায় বাবা হিসেবে গোলাম মোস্তফা এই অমানবিক নির্যাতনের সুষ্ঠু বিচার এবং দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন। 

পুলিশ জানিয়েছে, আসামিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের অধিকতর তদন্ত চলছে।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়