হরমুজ প্রণালি স্থায়ীভাবে খোলার ঘোষণা ট্রাম্পের
ছবি: সংগৃহীত
বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম কৌশলগত ও গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি ‘স্থায়ীভাবে’ উন্মুক্ত করে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
বুধবার (১৫ এপ্রিল) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই চাঞ্চল্যকর দাবি করেন।
ট্রাম্পের মতে, এই পদক্ষেপের ফলে চীন ‘খুবই সন্তুষ্ট’ এবং ওয়াশিংটন ও বেইজিং এখন যুদ্ধের পরিবর্তে বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে সহযোগিতার পথে হাঁটছে। তবে ট্রাম্পের এই একক দাবির প্রেক্ষিতে বেইজিং বা তেহরানের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক সমর্থন বা যৌথ বিবৃতি পাওয়া যায়নি।
ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া পোস্টে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প লিখেছেন, আমি স্থায়ীভাবে হরমুজ প্রণালি খুলে দিয়েছি। এতে চীন খুবই খুশি হবে। আমি এটা তাদের ভালোর জন্য এবং বিশ্বের স্বার্থে করছি। এই নৌপথে অতীতে যে ধরনের অচলাবস্থা তৈরি হয়েছিল, ভবিষ্যতে আর কখনোই তার পুনরাবৃত্তি হবে না।
ট্রাম্প আরও দাবি করেন, বেইজিং এখন থেকে ইরানে সমরাস্ত্র না পাঠানোর বিষয়ে একমত হয়েছে। চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের এই সম্ভাব্য সমঝোতাকে যুদ্ধের চেয়ে শ্রেয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, কয়েক সপ্তাহ পর আমি যখন চীন সফরে যাব, প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং আমাকে উষ্ণ আলিঙ্গন দেবেন। আমরা খুব ভালোভাবে একসঙ্গে কাজ করছি। তবে একই সঙ্গে প্রচ্ছন্ন হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি যোগ করেন, প্রয়োজন হলে লড়াইয়ে যুক্তরাষ্ট্র অন্য যে কারও চেয়ে বেশি দক্ষ।
আরও পড়ুন: স্কারবরো শোল ও হরমুজ প্রণালি ঘিরে বিশ্বযুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে চীন-যুক্তরাষ্ট্র
ট্রাম্পের এই নমনীয় বার্তার বিপরীতে ইরান থেকে তীব্র প্রতিক্রিয়ার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। তেহরান স্পষ্ট করে জানিয়েছে, তাদের বন্দরগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-অবরোধ অব্যাহত থাকলে তারা পারস্য উপসাগর, ওমান উপসাগর এবং লোহিত সাগরে সব ধরনের বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল অচল করে দেবে।
ইরানের সামরিক বাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ডের প্রধান আলী আবদুল্লাহি দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি অবরোধ বহাল রাখে এবং ইরানের বাণিজ্যিক জাহাজ ও তেল ট্যাংকারের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করে, তবে একে বর্তমান যুদ্ধবিরতির লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচনা করা হবে।
এই বক্তব্য থেকে স্পষ্ট যে, অঞ্চলে একটি নাজুক যুদ্ধবিরতি চললেও তা যেকোনো সময় ভেঙে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।
ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল, আল-জাজিরা ও এনবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বের জ্বালানি তেল সরবরাহের একটি বিশাল অংশ হরমুজ প্রণালির ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় এই নৌপথ নিয়ে যেকোনো অস্থিরতা আন্তর্জাতিক বাজারে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি করে।
ট্রাম্প এই প্রণালিকে ‘স্থায়ীভাবে উন্মুক্ত’ করার যে দাবি করেছেন, তা যদি বাস্তবে কার্যকর হয় তবে বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় স্বস্তি আসতে পারে। তবে কূটনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে, চীন ও যুক্তরাষ্ট্র কি আসলেই কোনো গোপন সমঝোতায় পৌঁছেছে, নাকি এটি ট্রাম্পের একতরফা কূটনৈতিক চাল। বিশেষ করে চীনের পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য না আসায় বিষয়টি নিয়ে ধোঁয়াশা রয়ে গেছে।
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এই ঘোষণা এবং ইরানের পাল্টা হুঁশিয়ারি মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় নতুন মেরুকরণ তৈরি করছে। একদিকে ট্রাম্প চীনের সাথে সুসম্পর্ক ও বাণিজ্য পথ সচল রাখার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন, অন্যদিকে ইরানের সামরিক হুমকি এই পথটিকে ঘিরে উত্তজনা জিইয়ে রাখছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের আসন্ন চীন সফর এবং এর পরবর্তী কূটনৈতিক পদক্ষেপগুলোই নির্ধারণ করবে যে হরমুজ প্রণালির এই ‘স্থায়ী সমাধান’ কতটা বাস্তবসম্মত। আপাতত বিশ্ববাসীর নজর এখন বেইজিং ও তেহরানের পরবর্তী আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়ার দিকে।
নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি








