News Bangladesh

নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ০৯:২৩, ১৬ এপ্রিল ২০২৬

বাইকারদের হাত ধরেই শুরু ডিজিটাল জ্বালানি সেবা ‘ফুয়েলপাস’

বাইকারদের হাত ধরেই শুরু ডিজিটাল জ্বালানি সেবা ‘ফুয়েলপাস’

ফাইল ছবি

দেশের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় আরও শৃঙ্খলা, স্বচ্ছ ও প্রযুক্তিনির্ভর করতে রাজধানী ঢাকার ফিলিং স্টেশনগুলোতে পরীক্ষামূলকভাবে চালু হয়েছে বিশেষায়িত মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন ‘ফুয়েলপাস’। আপাতত শুধু মোটরসাইকেল চালকরা এই ডিজিটাল সেবার আওতায় এলেও পর্যায়ক্রমে সব ধরনের যানবাহনের জন্য এটি উন্মুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।

সরকারি পরিকল্পনা অনুযায়ী, ভবিষ্যতে ধাপে ধাপে অন্যান্য যানবাহনকেও এই অ্যাপের আওতায় আনা হবে। শুরুতে সাতটি ফিলিং স্টেশনে অ্যাপভিত্তিক জ্বালানি সরবরাহ কার্যক্রম চালু হলেও পর্যায়ক্রমে আরও ১০ থেকে ১৫টি স্টেশনে এটি সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ঢাকার পর চট্টগ্রামেও এই সেবার ব্যবহার শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে।

বর্তমানে জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের আইটি বিশেষজ্ঞরা সংশ্লিষ্ট স্টেশন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে অ্যাপ ব্যবহারের প্রশিক্ষণ ও কারিগরি প্রস্তুতি কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। 

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আগামী মে মাসের মধ্যে দেশের সব জেলায় এই ব্যবস্থা চালুর লক্ষ্যে কাজ এগিয়ে চলছে। রাজধানীর সাতটি পাম্পে পাইলট প্রকল্প হিসেবে অ্যাপ ব্যবহারের কথা থাকলেও সরেজমিনে ট্রাস্ট ও সোনার বাংলা ফিলিং স্টেশন ছাড়া অন্যত্র এর বাস্তব প্রয়োগ এখনো সীমিত। 

কয়েকটি স্টেশন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে এবং দ্রুতই তারা পূর্ণাঙ্গভাবে কার্যক্রম শুরু করতে পারবেন।

আরও পড়ুন: অ্যাপের মাধ্যমে কিনতে হবে জ্বালানি তেল

এই অ্যাপের মাধ্যমে ব্যবহৃত তথ্য মূলত বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) থেকে যাচাই করা হচ্ছে। তবে তথ্য বিনিময় ও কারিগরি সমন্বয়ের ক্ষেত্রে কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। বিশেষ করে বিআরটিএর এপিআই ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতার কারণে সব তথ্য একসঙ্গে উন্মুক্ত করা সম্ভব হচ্ছে না।

প্রাথমিকভাবে ঢাকা মেট্রো এলাকায় নিবন্ধিত মোটরসাইকেল মালিকরা এই অ্যাপে নিবন্ধন করতে পারছেন। শুরুতে নিবন্ধন প্রক্রিয়ায় কিছু জটিলতা থাকলেও ১৪ এপ্রিল থেকে তা কিছুটা সহজ করা হয়েছে।

জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের আইসিটি শাখার প্রোগ্রামার মো. মাফরুল আলম জানান, এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে ফুয়েলপাস কার্যক্রম চালু হয়নি; এটি পরীক্ষামূলক পর্যায়ে রয়েছে। সফলতা অর্জনের পর মন্ত্রণালয় থেকে ফিলিং স্টেশনে আলাদা লেন চালু করা বা সম্পূর্ণ স্টেশনকে এই অ্যাপভিত্তিক ব্যবস্থায় নিয়ে আসার নির্দেশনা দেওয়া হতে পারে।

তিনি আরও বলেন, বর্তমানে পাম্প কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। অনেক স্টেশনেই এখনো স্মার্টফোন ও ইন্টারনেট সুবিধার ঘাটতি রয়েছে, যা ধীরে ধীরে সমাধান করা হচ্ছে। মে মাসের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে কাজ চলছে।

ফুয়েলপাস চালু হলে একাধিকবার জ্বালানি গ্রহণে নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা সম্ভব হবে। বিআরটিএ নিবন্ধন ছাড়া কেউ এই সিস্টেম ব্যবহার করতে পারবেন না এবং নির্ধারিত সীমার বাইরে জ্বালানি নেওয়ার সুযোগও থাকবে না। এর ফলে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ও ভোগান্তি কমবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়