News Bangladesh

আন্তর্জাতিক ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ২১:৩৩, ১৪ এপ্রিল ২০২৬
আপডেট: ২১:৩৭, ১৪ এপ্রিল ২০২৬

ইরান ইস্যুতে ট্রাম্পের শুল্ক হুমকির জবাবে পাল্টা ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি চীনের

ইরান ইস্যুতে ট্রাম্পের শুল্ক হুমকির জবাবে পাল্টা ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি চীনের

চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুও ​​জিয়াকুন। ছবি: সংগৃহীত

ইরানকে উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও সমরাস্ত্র সরবরাহের অভিযোগে চীনা পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ পর্যন্ত নতুন শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন গোয়েন্দা তথ্যের বরাতে ওঠা এই অভিযোগকে ‘সম্পূর্ণ বানোয়াট’ দাবি করে বেইজিং স্পষ্ট জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র যদি এই ভিত্তিহীন অজুহাতে শুল্ক বৃদ্ধি কার্যকর করে, তবে চীনও সমপর্যায়ের কঠোর পাল্টা ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

সম্প্রতি মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন তিনজন সূত্রের বরাত দিয়ে এক প্রতিবেদনে জানায়, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির সুযোগে তেহরান তাদের অস্ত্রভান্ডার পুনরায় পূর্ণ করার চেষ্টা করছে। 

মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর ইঙ্গিত অনুযায়ী, চীন আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ইরানকে নতুন বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সরবরাহ করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। বিশেষ করে ‘ম্যানপ্যাড’ বা কাঁধ থেকে নিক্ষেপযোগ্য বিমান বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র হস্তান্তরের বিষয়টি সামনে এসেছে, যা নিচু দিয়ে ওড়া মার্কিন যুদ্ধবিমানের জন্য বড় হুমকি। 

উল্লেখ্য, বিগত ৪০ দিনের যুদ্ধে এই ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র দিয়েই যুক্তরাষ্ট্রের একটি এফ-১৫ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করেছিল ইরান। নিউ ইয়র্ক টাইমস-এর দাবি, বেইজিং ইতোমধ্যে এমন একটি চালান পাঠিয়ে থাকতে পারে।

গোয়েন্দা তথ্যের এই গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ার পরপরই গত ১২ এপ্রিল প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী চীন যদি ইরানকে সামরিক সহায়তা দিয়ে থাকে, তবে তারা বড় ধরনের সমস্যার মুখে পড়বে। বেইজিংয়ের পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ বা তারও বেশি ‘বিস্ময়কর’ শুল্ক আরোপ করা হবে। আগামী মে মাসে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সাথে ট্রাম্পের একটি দ্বিপাক্ষিক বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। তার ঠিক আগমুহূর্তে এই হুমকি দুই পরাশক্তির মধ্যে নতুন করে বাণিজ্যযুদ্ধের আশঙ্কা তীব্রতর করেছে।

আরও পড়ুন: ৫ আরব দেশের বিরুদ্ধে ক্ষতিপূরণ দাবি ইরানের

ট্রাম্পের এই হুমকির তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে বেইজিং। মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) এক সংবাদ সম্মেলনে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া বিবৃতিতে চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুও জিয়াকুন মার্কিন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনগুলোকে ‘সম্পূর্ণ বানোয়াট’ ও ‘মিথ্যা’ বলে অভিহিত করেন। 

তিনি বলেন, মিথ্যা অভিযোগের ভিত্তিতে যদি যুক্তরাষ্ট্র শুল্ক বাড়ায়, তবে চীন তার জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় দৃঢ় ও কার্যকর পাল্টা পদক্ষেপ নেবে। চীন সামরিক পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে সর্বদা আন্তর্জাতিক বাধ্যবাধকতা ও নিজস্ব আইন মেনে অত্যন্ত বিচক্ষণতা ও দায়িত্বশীলতার সাথে কঠোর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখে।

বিশ্লেষকদের মতে, চীন ও ইরানের সম্পর্ক মূলত ‘তেলের বিনিময়ে অস্ত্র’ এই সমীকরণের ওপর ভিত্তি করে দাঁড়িয়ে আছে। চীন ইরানের তেলের প্রধান আমদানিকারক হলেও দেশ দুটির মধ্যে কোনো আনুষ্ঠানিক সামরিক চুক্তি নেই। 

তবে বিভিন্ন অসমর্থিত রিপোর্ট অনুযায়ী, বেইজিং গোপনে তেহরানকে অ্যান্টি-শিপ ক্রুজ মিসাইল, ড্রোন ও বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাসহ প্রায় ৫ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র সরবরাহ করেছে। এছাড়া ইরান চীন থেকে ৮০০টি ব্যালিস্টিক মিসাইল তৈরির উপকরণ অর্ডার করেছে বলেও জানা গেছে।

এদিকে, ভূ-রাজনৈতিক এই উত্তেজনার মধ্যেই রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ বেইজিং সফরে পৌঁছেছেন। হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন নৌ-অবরোধের ফলে চীন ও রাশিয়ার জ্বালানি স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় উভয় দেশই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ভূমিকার নিন্দা জানিয়েছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি দিয়ে চীন তার প্রয়োজনীয় তেলের এক-তৃতীয়াংশ আমদানি করে থাকে। বর্তমান পরিস্থিতিতে একদিকে মার্কিন শুল্ক হুমকি এবং অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি সংকট চীনকে এক গভীর অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখে ঠেলে দিয়েছে। যুদ্ধবিরতি ভেস্তে গেলে এবং ইরান নতুন চীনা অস্ত্র হাতে পেলে এই সংকট ওয়াশিংটন ও বেইজিংয়ের সরাসরি দ্বন্দ্বে রূপ নিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়