News Bangladesh

আন্তর্জাতিক ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ২০:৩০, ১৪ এপ্রিল ২০২৬

৫ আরব দেশের বিরুদ্ধে ক্ষতিপূরণ দাবি ইরানের

৫ আরব দেশের বিরুদ্ধে ক্ষতিপূরণ দাবি ইরানের

ছবি: সংগৃহীত

ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ সামরিক হামলায় সহযোগিতা করার গুরুতর অভিযোগ তুলে মধ্যপ্রাচ্যের পাঁচটি প্রভাবশালী মুসলিম দেশের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষতিপূরণ দাবি করেছে ইরান। 

দেশগুলো হলো সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই), বাহরাইন, কাতার এবং জর্ডান। 

তেহরানের অভিযোগ, দেশগুলো নিজেদের ভূখণ্ড ব্যবহার করতে দিয়ে এবং সামরিক সুবিধা প্রদান করে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করেছে এবং বেআইনি আগ্রাসনে অংশ নিয়েছে। 

মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) তুরস্কভিত্তিক সংবাদ সংস্থা আনাদোলু এজেন্সি এবং ইরানি সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজের প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।

এ বিষয়ে জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরানের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত আমির সাঈদ ইরাভানি জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এবং নিরাপত্তা পরিষদের সভাপতির কাছে সোমবার (স্থানীয় সময়) একটি আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠান। 

চিঠিতে তিনি দাবি করেন, ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর পর্যবেক্ষণ ও মূল্যায়ন প্রতিবেদনের ভিত্তিতে প্রমাণ পাওয়া গেছে যে, উল্লিখিত দেশগুলোর ভূখণ্ড ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের ওপর হামলা চালিয়েছে। এ সংক্রান্ত তথ্য আগেই জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে জমা দেওয়া হয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়।

ইরানি দূত তার চিঠিতে আরও বলেন, পূর্ববর্তী প্রতিবেদনগুলোতে ইরান স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছে যে আগ্রাসী শক্তিগুলো এসব দেশের ভূখণ্ড ব্যবহার করার পাশাপাশি কিছু বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুতে অবৈধ হামলায় সরাসরি অংশগ্রহণ করেছে। এর মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট দেশগুলো তাদের আন্তর্জাতিক দায়বদ্ধতা লঙ্ঘন করেছে এবং ইরানের বিরুদ্ধে সশস্ত্র হামলায় পরোক্ষভাবে ইন্ধন যুগিয়েছে।

চিঠিতে ১৯৭৪ সালের ১৪ ডিসেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৩৩১৪ নম্বর প্রস্তাবের উল্লেখ করে বলা হয়, অন্য রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে আগ্রাসন চালাতে কোনো দেশের ভূখণ্ড ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী এবং সম্পূর্ণ বেআইনি। 

এই প্রেক্ষিতে ইরান দাবি করেছে, তাদের ওপর সংঘটিত সব ধরনের বস্তুগত ও নৈতিক ক্ষতির জন্য সংশ্লিষ্ট দেশগুলোকে পূর্ণ ক্ষতিপূরণ দিতে হবে এবং এ ধরনের কার্যক্রম অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে।

আরও পড়ুন: ইরানে ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে ৯৬০ জন জীবিত উদ্ধার

ইরান সরকারের হিসাব অনুযায়ী, মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় দেশটির অন্তত ২৭০ বিলিয়ন ডলারের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন সরকারি মুখপাত্র ফাতেমাহ মোহাজেরানি। 

তিনি রুশ বার্তা সংস্থা রিয়া নভোস্তিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, এটি একটি প্রাথমিক ও স্থূল হিসাব; পরবর্তীতে ধাপে ধাপে অবকাঠামো, রাজস্ব ক্ষতি এবং শিল্পখাতের প্রভাব বিশ্লেষণ করে চূড়ান্ত হিসাব নির্ধারণ করা হবে। 

তিনি আরও উল্লেখ করেন, দক্ষিণ ইরানের মিনাব এলাকায় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ২৮ ফেব্রুয়ারি চালানো হামলায় প্রায় ১৭০ জন নিহত হন, যার ক্ষতিপূরণ আদায়ে ইরান আইনি পদক্ষেপ নেবে।

উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের ওপর হামলা চালানোর পর পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এর জবাবে ইরান ইসরায়েলসহ ইরাক, জর্ডান এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি থাকা বিভিন্ন দেশে পাল্টা হামলা চালায়। এতে পুরো অঞ্চলে ব্যাপক হতাহত ও ক্ষয়ক্ষতি ঘটে এবং সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।

পরিস্থিতির অবনতি ঠেকাতে সাম্প্রতিক সময়ে দুই সপ্তাহের একটি যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হয়েছে। তবে এর মধ্যেই ক্ষতিপূরণের দাবি নতুন করে আঞ্চলিক উত্তেজনা বাড়াতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। এদিকে, সংকট নিরসনের লক্ষ্যে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের মধ্যে প্রায় ২১ ঘণ্টাব্যাপী আলোচনা অনুষ্ঠিত হলেও তা কোনো সমঝোতা ছাড়াই শেষ হয়েছে। কূটনৈতিক 
সূত্রগুলো জানিয়েছে, চলতি সপ্তাহের শেষ দিকে দুই পক্ষ আবারও আলোচনায় বসতে পারে, যদিও এখনো কোনো নির্দিষ্ট তারিখ চূড়ান্ত হয়নি।

১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর দীর্ঘ কয়েক দশক বৈরিতার প্রেক্ষাপটে সাম্প্রতিক এই উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগকে তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হলেও, এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো সমাধান আসেনি। 

বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধবিরতির মাঝেই ইরানের ক্ষতিপূরণ দাবি মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক সমীকরণকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়