News Bangladesh

আন্তর্জাতিক ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ২০:৩৯, ২৮ জানুয়ারি ২০২৬

ট্রাম্পের হুমকির জবাবে তেহরানের হুঁশিয়ারি

ট্রাম্পের হুমকির জবাবে তেহরানের হুঁশিয়ারি

ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে রণতরী মোতায়েন এবং পারমাণবিক ইস্যুতে ইরানকে ঘিরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর হুঁশিয়ারির বিপরীতে পাল্টা অবস্থান নিয়েছে তেহরান। 

যুক্তরাষ্ট্রের এই সামরিক তৎপরতাকে ‘ভীতি প্রদর্শনের কৌশল’ বা ‘গানবোট কূটনীতি’ হিসেবে আখ্যায়িত করে ইরানের সেনাবাহিনী সাফ জানিয়েছে, যেকোনো ধরনের দুঃসাহসিক পদক্ষেপের জন্য ওয়াশিংটনকে চড়া মূল্য দিতে হবে।

মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহী রণতরী ও নৌবহরের উপস্থিতিকে একেবারেই গুরুত্বহীন বলে মন্তব্য করেছেন ইরান সেনাবাহিনীর উপ-সমন্বয়কারী রিয়ার অ্যাডমিরাল হাবিবুল্লাহ সাইয়ারি। 

বুধবার (২৮ জানুয়ারি) এক বক্তব্যে এমন মন্তব্য করেন তিনি।

হাবিবুল্লাহ সাইয়ারি বলেন, এ ধরনের শক্তি প্রদর্শনে তেহরান বিচলিত নয় এবং যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো ‘দুঃসাহসিক’ পদক্ষেপের জন্য শত্রুপক্ষকে চড়া মূল্য দিতে হবে।

তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-সমরসজ্জা বৃদ্ধির বিষয়টি প্রকৃত শক্তি প্রদর্শনের চেয়ে প্রতিপক্ষকে ভয় দেখানোর একটি প্রচেষ্টা। 

তার মতে, এটি বহুদিন ধরে অনুসৃত তথাকথিত ‘গানবোট কূটনীতি’র অংশ, যেখানে বড় বড় যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করে ভীতি সৃষ্টির চেষ্টা করা হয়। 

তিনি স্পষ্ট করে বলেন, স্থল, সমুদ্র কিংবা আকাশ যেখান থেকেই হুমকি আসুক না কেন, তাতে ইরানের কিছু যায় আসে না।

ইরান সেনাবাহিনীর এই কর্মকর্তা আরও জানান, প্রয়োজনে ইরান জবাব দিতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে এবং উত্তেজনা বাড়লে মার্কিন বাহিনীকেও গুরুতর ক্ষতির মুখে পড়তে হবে বলে তিনি সতর্ক করেন।

এদিকে একই দিনে ইরানকে নতুন করে কঠোর হুমকি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। 

তিনি সতর্ক করে বলেছেন, তেহরান চুক্তিতে না এলে আগের চেয়েও ভয়াবহ হামলার মুখে পড়তে হবে। 

ট্রাম্প দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের একটি শক্তিশালী নৌবহর দ্রুতগতিতে ইরানের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।

আরও পড়ুন: চুক্তি না হলে ইরানের ওপর বড় হামলার হুমকি ট্রাম্পের

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে ট্রাম্প লেখেন, একটি বিশাল নৌবহর ইরানের উদ্দেশ্যে অগ্রসর হচ্ছে, যা দ্রুত, শক্তিশালী ও স্পষ্ট উদ্দেশ্য নিয়ে এগোচ্ছে। 

তার ভাষায়, বহরটি পুরো উদ্দীপনা ও শক্তি নিয়ে সামনে এগিয়ে যাচ্ছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ইরান দ্রুত আলোচনার টেবিলে আসবে এবং একটি ন্যায্য ও ভারসাম্যপূর্ণ চুক্তি করবে।

ট্রাম্প আরও বলেন, কোনো পারমাণবিক অস্ত্র নয় এমন একটি চুক্তিই এখন প্রয়োজন, যা সব পক্ষের জন্য ভালো হবে। 

সময় ফুরিয়ে আসছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এখনই সিদ্ধান্ত নেওয়া জরুরি। এর আগে দেওয়া সতর্কবার্তার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি আবারও বলেন, তিনি আগেও ইরানকে চুক্তি করার আহ্বান জানিয়েছিলেন।

এর আগে স্থানীয় সময় মঙ্গলবার দেওয়া এক বক্তব্যে ট্রাম্প বলেন, এই মুহূর্তে একটি সুন্দর আর্মাডা ইরানের উদ্দেশ্যে সমুদ্রে যাত্রা শুরু করেছে। তবে তিনি ঠিক কোন নৌবহরের কথা বলেছেন, সে বিষয়ে কোনো স্পষ্ট তথ্য দেননি।

এ পরিস্থিতির মধ্যে পশ্চিমা মানবাধিকার পর্যবেক্ষক সংস্থাগুলোর দাবি, ইরানে সাম্প্রতিক সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনে সহিংস অভিযানে অন্তত ৬ হাজার ১২৬ জন নিহত হয়েছেন। যদিও এই সংখ্যার বিষয়ে ইরানের পক্ষ থেকে রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়া হয়নি।

ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান যুক্তরাষ্ট্রের এসব হুমকির কড়া সমালোচনা করে বলেছেন, এ ধরনের পদক্ষেপ আঞ্চলিক নিরাপত্তা বিঘ্নিত করবে এবং অস্থিতিশীলতা বাড়াবে। একই সঙ্গে সৌদি আরব জানিয়েছে, তারা ইরানের বিরুদ্ধে কোনো সামরিক অভিযানে নিজেদের আকাশসীমা বা ভূখণ্ড ব্যবহার করতে দেবে না।

অন্যদিকে, ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড সতর্ক করে বলেছে, প্রতিবেশী কোনো দেশের ভূমি, আকাশ বা জলসীমা ইরানের বিরুদ্ধে ব্যবহৃত হলে তা শত্রুতামূলক আচরণ হিসেবে গণ্য করা হবে। এসব পাল্টাপাল্টি বক্তব্য ও অবস্থানের মধ্য দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা তীব্র আকার ধারণ করেছে।

সূত্র: আল-জাজিরা, ইরান ইন্টারন্যাশনাল

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়