চুক্তি না হলে ইরানের ওপর বড় হামলার হুমকি ট্রাম্পের
ছবি: সংগৃহীত
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে সরাসরি সতর্ক করে বলেছেন, আলোচনায় না এলে দেশটির ওপর আরও বড় ও ভয়াবহ সামরিক হামলা চালানো হতে পারে।
বুধবার (২৮ জানুয়ারি) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া একাধিক পোস্টে তিনি দাবি করেন, একটি বিশাল মার্কিন নৌবহর ইতোমধ্যে ইরানের দিকে অগ্রসর হচ্ছে এবং পরিস্থিতি দ্রুতই সংঘাতের দিকে যেতে পারে।
ট্রাম্প তার পোস্টে উল্লেখ করেন, এই নৌবহরটি ‘দ্রুততা, শক্তি, দৃঢ় সংকল্প ও স্পষ্ট লক্ষ্য’ নিয়ে এগোচ্ছে।
তার দাবি অনুযায়ী, বহরটির নেতৃত্ব দিচ্ছে বিমানবাহী রণতরী আব্রাহাম লিংকন, এবং এটি ভেনেজুয়েলার দিকে আগে পাঠানো মার্কিন নৌবহরের তুলনায় আকার ও সক্ষমতায় আরও বড়।
তিনি বলেন, প্রয়োজনে এই বাহিনী সহিংস অভিযানে যেতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত এবং লক্ষ্য অর্জনে কোনো ধরনের দ্বিধা করবে না।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ইরানকে দ্রুত আলোচনার টেবিলে আসার আহ্বান জানিয়ে বলেন, তেহরানকে একটি ‘ন্যায্য ও ন্যায়সঙ্গত’ চুক্তিতে সম্মত হতে হবে, যেখানে কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্রের সুযোগ থাকবে না।
আরও পড়ুন: কানাডার ওপর ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের হুমকি ট্রাম্পের
ট্রাম্পের ভাষায়, এই ধরনের একটি চুক্তি হলে তা সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের জন্যই মঙ্গলজনক হবে। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করেন, সময় দ্রুত ফুরিয়ে আসছে এবং আর বিলম্বের সুযোগ নেই।
এর আগে ইরানকে উদ্দেশ করে ট্রাম্প বলেছিলেন, ‘চুক্তি করো।’ তার দাবি, তেহরান সেই আহ্বানে সাড়া না দেওয়ায় গত জুনে যুক্তরাষ্ট্র ‘অপারেশন মিডনাইট হ্যামার’ পরিচালনা করে, যার ফলে ইরানকে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়তে হয়।
তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ভবিষ্যতে যদি আবার হামলা চালানো হয়, তবে তা আগের চেয়ে আরও মারাত্মক হবে।
এদিকে, ইরানে সাম্প্রতিক বিক্ষোভ দমনে কঠোর অভিযান, নিরাপত্তা বাহিনীর ভূমিকা এবং ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধের ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্র সম্ভাব্য হস্তক্ষেপ করতে পারে কি না এ বিষয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের অবস্থান নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে মিশ্র সংকেত দেখা যাচ্ছে বলে বিভিন্ন পর্যবেক্ষণে উল্লেখ করা হয়।
প্রসঙ্গত, ইরানের পারমাণবিক ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি দুর্বল করার লক্ষ্য নিয়ে গত জুনে ইসরাইলের সঙ্গে ১২ দিনব্যাপী যুদ্ধে ওয়াশিংটন প্রকাশ্য সমর্থন দেয় এবং পরবর্তী সময়ে সরাসরি যুক্ত হয়। ওই সংঘাতের সময় ইরানের একাধিক পারমাণবিক স্থাপনায় বড় ধরনের মার্কিন বিমান হামলার তথ্যও সামনে আসে।
এর আগের দিন মঙ্গলবার এক ভাষণেও ট্রাম্প জানান, আরেকটি মার্কিন ‘আর্মাদা’ ইরানের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। একই সঙ্গে তিনি আশা প্রকাশ করেন, তেহরান শেষ পর্যন্ত ওয়াশিংটনের সঙ্গে একটি সমঝোতামূলক চুক্তিতে পৌঁছাবে।
সূত্র: সিবিসি নিউজ
নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি








