News Bangladesh

আন্তর্জাতিক ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ২০:২৪, ১৩ জানুয়ারি ২০২৬

বিক্ষোভ দমনে কঠোর তেহরান: এরফানের মৃত্যুদণ্ড

বিক্ষোভ দমনে কঠোর তেহরান: এরফানের মৃত্যুদণ্ড

এরফান সুলতানি। ছবি: সংগৃহীত

ইরানে চলমান নজিরবিহীন সরকারবিরোধী আন্দোলনে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগে প্রথম কোনো বিক্ষোভকারীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিয়েছে দেশটির সরকার। 

আগামীকাল বুধবার (১৪ জানুয়ারি) ২৬ বছর বয়সী তরুণ এরফান সুলতানিকে ফাঁসির কাষ্ঠে ঝোলানো হতে পারে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ও মানবাধিকার সংস্থা নিশ্চিত করেছে। 

এদিকে, বিক্ষোভ দমনে তেহরানের এই কঠোর অবস্থানের বিরুদ্ধে নজিরবিহীন হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। 
তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, সাধারণ মানুষের ওপর সহিংসতা অব্যাহত থাকলে ইরানজুড়ে বোমা হামলার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে যুক্তরাষ্ট্র।

দ্রুত বিচার ও মৃত্যুদণ্ডের প্রস্তুতি মানবাধিকার সংস্থা ‘হেঙ্গাও’ এবং ‘ইরান হিউম্যান রাইটস (IHR)’ জানিয়েছে, এরফান সুলতানিকে গত বৃহস্পতিবার কারাজ শহর থেকে বিক্ষোভ চলাকালীন আটক করা হয়েছিল। আটকের মাত্র কয়েকদিনের মাথায় তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। 

সংস্থাটির প্রতিনিধি আউয়ার শেখি বিবিসিকে বলেন, আমরা এত দ্রুত কোনো মামলার নিষ্পত্তি হতে দেখিনি। মানুষকে দমন করতে ও ভয় ছড়াতে সরকার সব ধরনের নিষ্ঠুর কৌশল ব্যবহার করছে।

এরফানের পরিবারের বরাত দিয়ে জানা গেছে, বুধবার তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার কথা কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে জানালেও কবে তার বিচার হয়েছে বা সুনির্দিষ্টভাবে কী অভিযোগে এই সাজা দেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি। 

তবে ফক্স নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তার বিরুদ্ধে ‘খোদার বিরুদ্ধে যুদ্ধ’ বা ‘মোহারেবেহ’র অভিযোগ আনা হয়েছে এবং তাকে কোনো আইনজীবীর সহায়তা নেওয়ার সুযোগও দেওয়া হয়নি।

আরও পড়ুন: ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভে নিহত অন্তত ২০০০

রক্তক্ষয়ী সংঘাত ও গণগ্রেপ্তার বিবিসির কূটনৈতিক প্রতিবেদক ক্যারোলিন হাওলি এবং রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় ইরানে চলমান রক্তপাতের প্রকৃত পরিসর এখনো পুরোপুরি স্পষ্ট নয়। তবে কাস্পিয়ান সাগর উপকূলবর্তী রাশত শহরসহ বিভিন্ন এলাকা এখন ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। 

ইরানের এক সরকারি কর্মকর্তার বরাত দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছে, নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যসহ নিহতের সংখ্যা প্রায় ২ হাজারে পৌঁছেছে। 

মানবাধিকার সংস্থাগুলোর দাবি অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত ৫০০ জনের বেশি বিক্ষোভকারী নিহত এবং অন্তত ১০ হাজার মানুষ গ্রেপ্তার হয়েছেন।

হোয়াইট হাউসের সামরিক হুঁশিয়ারি ইরানের এই দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। 

নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ তিনি লিখেছেন, ইরান সম্ভবত এর আগে কখনোই স্বাধীনতার এমন সম্ভাবনা দেখেনি এবং যুক্তরাষ্ট্র তাদের সাহায্য করতে প্রস্তুত। হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লিভিট নিশ্চিত করেছেন যে, বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলি চালানো হলে যুক্তরাষ্ট্র সামরিক ব্যবস্থা নিতে দ্বিধা করবে না এবং প্রয়োজনে ইরানে বোমা হামলার পরিকল্পনাও প্রশাসনের বিবেচনায় রয়েছে।

অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া ট্রাম্পের এই কঠোর অবস্থানের সমালোচনা করেছেন মার্কিন কংগ্রেসের কিছু সদস্য। 

রিপাবলিকান সিনেটর র‍্যান্ড পল সতর্ক করে বলেছেন, অন্য দেশের স্বাধীনতায় সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপ হিতে বিপরীত হতে পারে। 
তিনি মনে করেন, বিদেশি হামলা হলে সাধারণ মানুষ বর্তমান সরকারের পতাকাতলে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার ঝুঁকি থাকে। 

অন্যদিকে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালালে তারা যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত এবং মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন সেনাদের ওপর পাল্টা আঘাত হানা হবে।

মানবাধিকার সংস্থা ‘ইরান হিউম্যান রাইটস’-এর পরিচালক মাহমুদ আমিরি মোগাদ্দাম এই পরিস্থিতিকে আশির দশকের মানবতাবিরোধী অপরাধের সঙ্গে তুলনা করেছেন। তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে ‘রেসপন্সিবিলিটি টু প্রটেক্ট’ বা রক্ষার দায়িত্ব নীতির আওতায় ইরানিদের বাঁচাতে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন। ন্যাশনাল ইউনিয়ন ফর ডেমোক্রেসি ইন ইরান (NUFDI) এরফান সুলতানির জীবন বাঁচাতে বিশ্বজুড়ে ‘তার কণ্ঠস্বর হয়ে উঠুন’ স্লোগানে প্রচারণা শুরু করেছে।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়