পাকিস্তানে তোশাখানা-২ মামলায় ইমরান খান ও তার স্ত্রীর ১৭ বছরের সাজা
ফাইল ছবি
তোশাখানা-২ দুর্নীতি মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান এবং তার স্ত্রী বুশরা বিবিকে প্রত্যেককে ১৭ বছর করে কারাদণ্ড দিয়েছে পাকিস্তানের বিশেষ আদালত।
শনিবার (০৭ ফেব্রুয়ারি) এই রায় ঘোষণা করা হয় রাওয়ালপিন্ডির উচ্চ নিরাপত্তাসম্পন্ন আদিয়ালা কারাগারে স্থাপিত বিশেষ আদালতের বিচারক শাহরুখ আরজুমান্দের দ্বারা।
৭৩ বছর বয়সী ইমরান খান ২০২৩ সালের আগস্ট থেকে কারাগারে রয়েছেন। ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর ২০২২ সালের এপ্রিল মাসে তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দায়ের করা হয়েছে। তোশাখানা-২ মামলাটি ২০২১ সালে সৌদি সরকারের দেওয়া রাষ্ট্রীয় উপহার নিয়ে জালিয়াতির অভিযোগের সঙ্গে সম্পর্কিত।
আদালতের রায় অনুযায়ী, পাকিস্তান দণ্ডবিধির ৪০৯ ধারা (বিশ্বাসভঙ্গ) অনুযায়ী উভয়কে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের বিভিন্ন ধারায় আরও ৭ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি প্রত্যেককে ১৬.৪ মিলিয়ন পাকিস্তানি রুপি জরিমানা করা হয়েছে।
আদালত উল্লেখ করেছে, সাজা নির্ধারণের সময় ইমরান খানের বার্ধক্য এবং বুশরা বিবি নারী হওয়াকে বিবেচনায় নিয়ে তুলনামূলকভাবে কম শাস্তি প্রদান করা হয়েছে। এছাড়া ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৮২-বি ধারার সুবিধা প্রয়োগ করা হবে, যার মাধ্যমে হাজতবাসের সময়কাল কারাদণ্ডের সঙ্গে সমন্বয় করা হবে।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২১ সালে সৌদি সরকার থেকে প্রাপ্ত ঘড়ি, হীরা ও সোনার অলঙ্কারসহ উপহারগুলো তোশাখানায় জমা না দিয়ে ইমরান খান ও তার স্ত্রী সেগুলো বিক্রি করেছিলেন।
রাষ্ট্রপক্ষের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, উপহারগুলো জমা দেওয়া তাদের আইনি বাধ্যবাধকতা ছিল, যা তারা পূরণ করেননি।
অর্থ প্রতিমন্ত্রী বিলাল আজহার কায়ানি জানান, অলঙ্কার সেটটির প্রকৃত মূল্য প্রায় ৭০ মিলিয়ন রুপি হলেও মাত্র ৫.৮ থেকে ৫.৯ মিলিয়ন রুপিতে মূল্যায়ন করা হয়েছিল। তিনি এই ঘটনা ‘দুর্ভাগ্যজনক’ হিসেবে উল্লেখ করেন।
আরও পড়ুন: ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আপস নয়: ইরান
তোশাখানা হলো ক্যাবিনেট ডিভিশনের অধীনে একটি সরকারি বিভাগ, যেখানে বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধান এবং কূটনীতিকদের দেওয়া উপহার সংরক্ষণ করা হয়। নিয়ম অনুযায়ী, একবার জমা দেওয়া হলে নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পুনরায় তা কেনা সম্ভব।
বিচার চলাকালে মোট ২১ জন সাক্ষী আদালতে জবানবন্দি দেন। রায় ঘোষণার সময় ইমরান খান ও বুশরা বিবি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। ইমরান খান ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৪২ ধারায় দেওয়া জবানবন্দিতে মামলাটি ‘বিদ্বেষপূর্ণ, বানোয়াট এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে দাবি করেছেন।
এর আগে ২০২৪ সালের অক্টোবরে ইসলামাবাদ হাইকোর্ট বুশরা বিবিকে এবং এক মাস পর ইমরান খানকেও এই মামলায় জামিন দেন। গত বছরের ডিসেম্বরে তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। আল-কাদির ট্রাস্ট মামলায় দণ্ডিত হওয়ার কারণে তারা আদিয়ালা কারাগারে বন্দী ছিলেন। উভয় দণ্ডিত ব্যক্তি হাইকোর্টে আপিল করার সুযোগ পাবেন।
কারাগারে বন্দিত্বকালে ইমরান খানের সঙ্গে এক মাসেরও বেশি সময় সাক্ষাৎ নিষিদ্ধ ছিল। সর্বশেষ ২ ডিসেম্বর তার বোন উজমা খান সাক্ষাতের সুযোগ পান।
আদিয়ালা কারাগার কর্তৃপক্ষ জানান, ক্রিকেট তারকা থেকে রাজনীতিবিদ হওয়া ইমরান খান সুস্থ রয়েছেন।
জাতিসংঘের নির্যাতনবিষয়ক বিশেষ দূত অ্যালিস জিল এডওয়ার্ডস গত সপ্তাহে পাকিস্তান সরকারকে অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে বলেছে।
তিনি বলেন, ‘ইমরান খানের নির্জন কারাবাস অবিলম্বে প্রত্যাহার করা উচিত। দীর্ঘায়িত বিচ্ছিন্নতা তার শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকারক।’
ইমরান খান পাকিস্তানের ১৯তম প্রধানমন্ত্রী ছিলেন, ২০১৮ সালের আগস্ট থেকে ২০২২ সালের এপ্রিল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেছেন।
নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি








