News Bangladesh

আন্তর্জাতিক ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১২:১৩, ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আপস নয়: ইরান

ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আপস নয়: ইরান

ছবি: সংগৃহীত

দীর্ঘদিন ধরে চলা কূটনৈতিক অচলাবস্থা নিরসনে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পুনরায় আলোচনা শুরু করার ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করেছে ইরান। 

তবে দেশটি স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছে, নিজেদের জাতীয় প্রতিরক্ষা ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির বিষয়ে তারা কোনো প্রকার আপস করবে না। তেহরানের পক্ষ থেকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, তাদের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা কোনোভাবেই আলোচনার টেবিলে তোলা হবে না।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেছেন, তাদের ক্ষেপণাস্ত্র বানানোর কার্যক্রম চলতেই থাকবে। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে জানান, যদি যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ভূখণ্ডে হামলা চালায়, তবে মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্য করা হবে।

আল জাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আরাগচি বলেন, মাসকাটে অনুষ্ঠিত আলোচনা যদিও পরোক্ষ ছিল, তবুও ‘আমেরিকান প্রতিনিধিদলের সঙ্গে করমর্দনের একটি সুযোগ তৈরি হয়েছিল’। 

তিনি আশা প্রকাশ করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার নতুন দফা শিগগিরই শুরু হবে। তবে তিনি উল্লেখ করেন, আস্থা গড়ে তোলার জন্য এখনো অনেক পথ পাড়ি দিতে হবে।

মধ্যস্থতামূলক আলোচনার পর ওমানে আগামী সপ্তাহে আরেক দফা বৈঠকের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুক্রবারের আলোচনায় ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি ‘কখনোই আলোচনার বিষয় ছিল না’ বলে তিনি স্পষ্ট করেছেন।

আরও পড়ুন: পাকিস্তানে শিয়া মসজিদে আত্মঘাতী বিস্ফোরণে নিহত ৩১

এদিকে, তেহরানের সাধারণ মানুষ এই আলোচনা নিয়ে তেমন আশাবাদী নয়। 

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক নারী আল জাজিরাকে বলেন, ‘আমার মনে হয় আগেরবারগুলোর মতোই এই আলোচনা কোনো ফল ছাড়াই শেষ হবে। দুই পক্ষই নিজ অবস্থানে অনড় এবং পিছু হটতে রাজি নয়।’

কুয়েত বিশ্ববিদ্যালয়ের যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতি বিশেষজ্ঞ আবদুল্লাহ আল-শায়জি বলেন, তিনি নতুন কোনও সমঝোতার আশা করেন, তবে খুব বেশি আশাবাদী নন। 

দোহায় আল জাজিরা ফোরামে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান অত্যন্ত কঠোর এবং ইসরায়েলের প্ররোচনায় তারা ইরানের ওপর চাপ বাড়াতে চায়। বিশেষ করে গত মাসের সরকারবিরোধী বিক্ষোভের পর ইরানকে তারা সবচেয়ে দুর্বল মনে করছে, তাই সহজে ছাড় আদায় করা যাবে বলে ধারণা রয়েছে।

এই সংলাপের আড়ালে চলা চাপ, নিষেধাজ্ঞা, এবং সামরিক সক্ষমতা প্রদর্শনের মধ্যেই কূটনৈতিক টানাপোড়েন এগোচ্ছে। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের এই জটিল পরিস্থিতি মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা নিয়ে নতুন প্রশ্ন উত্থাপন করছে।

সূত্র: আল জাজিরা

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়