নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১৮:০৩, ২৭ মে ২০২৬

২৪ ঘণ্টায় হামে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু, মোট প্রাণহানি ৫৬০

২৪ ঘণ্টায় হামে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু, মোট প্রাণহানি ৫৬০

ফাইল ছবি

দেশে মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়ছে হাম ও হামের উপসর্গ। গত ২৪ ঘণ্টায় (মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে বুধবার সকাল ৮টা পর্যন্ত) সারা দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৫টি শিশুর করুণ মৃত্যু হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে নতুন করে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত হয়েছে আরও ১ হাজার ১১৮ জন শিশু, যার মধ্যে ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হয়েছে ৬২ জনের শরীরে। 

বুধবার (২৭ মে) বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাম-বিষয়ক সর্বশেষ ও হালনাগাদ প্রতিবেদন থেকে এই উদ্বেগজনক তথ্য জানা গেছে। 

অধিদপ্তর জানিয়েছে, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় মৃত শিশুদের মধ্যে ঢাকার ২ জন, ময়মনসিংহের ২ জন এবং রাজশাহীর ১ জন শিশু রয়েছে। তবে এই নির্দিষ্ট সময়ে ল্যাব টেস্টে নিশ্চিত হওয়া হামের কারণে কোনো শিশুর মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি; মৃতদের সবার শরীরেই কেবল হামের তীব্র উপসর্গ উপস্থিত ছিল।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের গত আড়াই মাসের (১৫ মার্চ থেকে ২৭ মে সকাল ৮টা পর্যন্ত) সামগ্রিক পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেশের শিশুস্বাস্থ্যের এক ভয়াবহ চিত্র ফুটে ওঠে। 

সরকারি হিসাব মতে, গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত সারা দেশে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ৫৬০টি শিশু প্রাণ হারিয়েছে। এর মধ্যে ল্যাবরেটরি পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিতভাবে হাম আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে ৮৮টি শিশু। বাকি ৪৭২টি শিশুর মৃত্যু হয়েছে হামের তীব্র উপসর্গ নিয়ে, যাদের মৃত্যুর পূর্বে ল্যাব টেস্টের মাধ্যমে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। এই আড়াই মাসে সারা দেশে মোট সন্দেহভাজন বা হামের উপসর্গযুক্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬৭ হাজার ৭৯ জনে। এর মধ্যে ল্যাব টেস্টের মাধ্যমে সুনির্দিষ্টভাবে ৮ হাজার ৮৩৪টি শিশুর শরীরে হামের উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়া গেছে।

আরও পড়ুন: ২৪ ঘণ্টায় আরও ১০ শিশুর মৃত্যু, হামে মোট প্রাণহানি ৫৫৫

ভৌগোলিক বিস্তৃতির দিক থেকে আক্রান্ত ও মৃত্যুর এই মিছিলে সবচেয়ে ভয়াবহ অবস্থায় রয়েছে ঢাকা বিভাগ। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের আঞ্চলিক তথ্য অনুযায়ী, মোট আক্রান্ত ও মৃত্যুর সিংহভাগই রেকর্ড করা হয়েছে এই বিভাগে। গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত কেবল ঢাকা বিভাগেই হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে ২৩৮টি শিশু মারা গেছে, যা মোট মৃত্যুর প্রায় অর্ধেক। একই সাথে এই বিভাগে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৭ হাজার ৭৯৪ জনে। ঢাকা ছাড়াও ময়মনসিংহ ও রাজশাহী বিভাগে আক্রান্তের হার এবং মৃত্যুর গ্রাফ ক্রমাগত ঊর্ধ্বমুখী হওয়ায় জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। হাসপাতালগুলোতে প্রতিদিন ধারণক্ষমতার চেয়ে বেশি শিশু রোগী ভর্তি হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে।

আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসাসেবা ও সুস্থতার বিষয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সামগ্রিকভাবে গত আড়াই মাসে হামের উপসর্গ নিয়ে দেশের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিল মোট ৫৩ হাজার ৪৬৩টি শিশু। চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণ ও উপযুক্ত চিকিৎসার পর তাদের মধ্যে ৪৯ হাজার ৯০৩ জন শিশু সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র নিয়ে বাড়ি ফিরে গেছে। 

অন্যদিকে, কেবল সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টার হিসেবে দেখা গেছে, নতুন করে আক্রান্ত হওয়া শিশুদের মধ্যে ৯৩৩ জনকে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং চিকিৎসাধীন অবস্থা থেকে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ১ হাজার ১০৩টি শিশু। ল্যাব টেস্টের সংখ্যা বৃদ্ধি এবং উপসর্গ দেখা দেওয়ার সাথে সাথে হাসপাতালে নিয়ে আসার কারণে সুস্থতার হার সন্তোষজনক হলেও, মৃত্যুর লাগাম টেনে ধরতে ভ্যাকসিনের আওতা বৃদ্ধি এবং দ্রুত রোগ নির্ণয়ের ওপর জোর দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়