হামে ২৪ ঘণ্টায় আরও ৩ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ১০৩৪
ফাইল ছবি
দেশজুড়ে উদ্বেগজনক হারে বেড়েই চলেছে হাম ও এর উপসর্গের প্রকোপ। গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে এই সংক্রামক ব্যাধির উপসর্গে আরও ৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ১ হাজার ৩৪ জনের শরীরে হাম ও এর লক্ষণ শনাক্ত করা হয়েছে। এই নিয়ে গত ৮৬ দিনে (১৫ মার্চ থেকে ৯ জুন পর্যন্ত) দেশে সন্দেহজনক হামে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫৩৯ জনে। অন্যদিকে, ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে আরও ৯২ শিশু।
মঙ্গলবার (০৯ জুন) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো হাম বিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদন ও বিশেষ সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই ভয়াবহ চিত্র সামনে এসেছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করে জানা যায়, গত ২৪ ঘণ্টায় (সোমবার সকাল ৮টা থেকে মঙ্গলবার সকাল ৮টা পর্যন্ত) নতুন করে যে ৩ শিশু মারা গেছে, তারা ঢাকা, সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগের বাসিন্দা। তবে স্বস্তির বিষয় হলো, এই ২৪ ঘণ্টায় ল্যাব পরীক্ষায় নিশ্চিত হওয়া কোনো হাম রোগীর মৃত্যু হয়নি। ল্যাবে নিশ্চিত হওয়া ৯২ জনের মৃত্যুর ঘটনাটি ঘটেছে গত ১৫ মার্চ থেকে শুরু করে ৯ জুনের মধ্যবর্তী সময়ে।
আরও পড়ুন: হামে ২৪ ঘণ্টায় ৮ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ১১৮৫
বিজ্ঞপ্তির বিস্তারিত তথ্যানুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে নতুন করে সন্দেহজনক হামের রোগী শনাক্ত হয়েছে ৯৮০ জন। আক্রান্তের তীব্রতা বেশি হওয়ায় তাদের মধ্যে ৯৩৩ জনকেই দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। একই সময়ে ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় আরও ৫৪ জনের শরীরে নিশ্চিতভাবে হামের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। সব মিলিয়ে গত ৮৬ দিনে দেশে সন্দেহজনক হামে আক্রান্তের মোট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮১ হাজার ৮৪ জনে। এই বিপুল সংখ্যক আক্রান্তের মধ্যে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ৬৬ হাজার ১৭০ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দিতে হয়েছে। এছাড়া একই সময়ে ল্যাব পরীক্ষায় নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯ হাজার ৮৩৩ জনে।
আক্রান্তের এই ঊর্ধ্বগতির মধ্যেও আশার আলো ছড়াচ্ছে সুস্থতার হার। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, আক্রান্তদের একটি বড় অংশ চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরছেন। গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশের বিভিন্ন হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র পেয়েছেন ১ হাজার ১৪ জন রোগী। সব মিলিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে ৯ জুন পর্যন্ত মোট ৬২ হাজার ২৯২ জন রোগী সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন। তবে সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনায় মাঠপর্যায়ে সংক্রমণ রোধে টিকাদান ও সচেতনতা বৃদ্ধি এবং আক্রান্তদের দ্রুত চিকিৎসার আওতায় আনার ওপর জোর দিচ্ছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।
নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি








