News Bangladesh

নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১৮:৫৯, ৩ জুন ২০২৬

হাম ও উপসর্গে আরও ৭ শিশুর মৃত্যু, মোট প্রাণহানি ৬০১

হাম ও উপসর্গে আরও ৭ শিশুর মৃত্যু, মোট প্রাণহানি ৬০১

ফাইল ছবি

দেশে হাম ও হাম-সদৃশ উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর মিছিল কোনোভাবেই থামছে না। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশজুড়ে এই রোগের উপসর্গ নিয়ে আরও ৭ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তবে এই সময়ে ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় নিশ্চিত হওয়া হামে আক্রান্ত হয়ে নতুন কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি। নতুন এই ৭ জনসহ চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হাম ও হামের উপসর্গে মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬০১ জনে। এর মধ্যে প্রাদুর্ভাব ও মৃত্যুর দিক থেকে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে ঢাকা বিভাগ।

বুধবার (০৩ জুন) বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে প্রকাশিত হামবিষয়ক সর্বশেষ হালনাগাদ প্রতিবেদনে এই উদ্বেগজনক তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, গতকাল মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে বুধবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন স্থানে নতুন করে ১ হাজার ২৬৫ জনের শরীরে হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে। এর মধ্যে ল্যাব টেস্টের মাধ্যমে ৫৫ জনের শরীরে নিশ্চিত হাম শনাক্ত হয়েছে। প্রাদুর্ভাব শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত দেশে মোট নিশ্চিত আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯ হাজার ১৯১ জনে। 

অন্যদিকে, একই সময়ে মোট সন্দেহভাজন বা উপসর্গযুক্ত রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৪ হাজার ৫৭২ জনে।

আরও পড়ুন: ২৪ ঘণ্টায় হাম-উপসর্গে আরও ৬ মৃত্যু, আক্রান্ত ১,৩৩৪

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত মারা যাওয়া ৬০১ শিশুর মধ্যে পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে ৯০ জন। আর বাকি ৫১১ জন মারা গেছে হামের তীব্র উপসর্গ নিয়ে। গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া ৭ শিশুর মধ্যে ৬ জনই ঢাকা বিভাগের এবং ১ জন ময়মনসিংহ বিভাগের বাসিন্দা। 

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা ঢাকা বিভাগেই সবচেয়ে বেশি; যেখানে ২৬৪ জনের মৃত্যু ও ৪১ হাজার ৪৪৯ জন আক্রান্ত হওয়ার খবর মিলেছে।

হাসপাতালভিত্তিক তথ্য অনুযায়ী, প্রাদুর্ভাবের শুরু থেকে ৩ জুন পর্যন্ত সন্দেহজনক হাম নিয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে মোট ৬০ হাজার ১৫৮ জন শিশু। এর মধ্যে যথাযথ চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়ে বাড়ি ফিরেছে ৫৫ হাজার ৯৪২ জন। বাকিরা বর্তমানে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

এদিকে দেশে হামের এই ঊর্ধ্বমুখী প্রাদুর্ভাবের পরিপ্রেক্ষিতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। শিশুদের এই মারাত্মক রোগ থেকে রক্ষা করতে তারা নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচির (ইপিআই) ওপর সর্বোচ্চ জোর দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। 

বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিয়ে বলেছেন, শিশুর শরীরে হামের সামান্যতম উপসর্গ বা লক্ষণ দেখা দিলে বিন্দুমাত্র অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে এবং সংক্রমণ ছড়ানো রোধে আক্রান্ত শিশুকে অন্য শিশুদের থেকে সম্পূর্ণ আলাদা বা আইসোলেশনে রাখতে হবে।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়