দেশে হামে আরও ৮ শিশুর মৃত্যু, মোট ৫৮৩
ফাইল ছবি
সারা দেশে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে হাম ও এর উপসর্গের প্রকোপ। গত ২৪ ঘণ্টায় এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে এবং হামের উপসর্গ নিয়ে দেশে আরও ৮টি শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন আরও ১ হাজার ৮৬ জন রোগী। এ নিয়ে গত আড়াই মাসে (১৫ মার্চ থেকে ৩০ মে) দেশে হাম ও হামের উপসর্গে আক্রান্ত হয়ে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫৮৩ জনে।
শনিবার (৩০ মে) বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম এবং হাম-বিষয়ক নিয়মিত হালনাগাদ প্রতিবেদন থেকে এ সব তথ্য জানা গেছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, আক্রান্ত ও মৃত্যুর এই পরিসংখ্যান দেশের শিশু স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ওপর বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় যে ৮ জন মারা গেছে, তাদের সবাই হাম ও হামের বিভিন্ন জটিল উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিল। এই সময়ের মধ্যে সারা দেশে ল্যাব টেস্টের মাধ্যমে নতুন করে নিশ্চিত হামরোগী হিসেবে শনাক্ত হয়েছে ৫৩ জন শিশু। এর বাইরে ল্যাব টেস্ট ছাড়া কেবল বাহ্যিক লক্ষণ বা হামের উপসর্গ নিয়ে নতুন করে আক্রান্ত হয়েছে আরও ১ হাজার ৩৩ জন। অর্থাৎ, গত ২৪ ঘণ্টায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা ১ হাজার ৮৬ জন।
এদিকে গত এক দিনে নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীর সংখ্যা এবং সুস্থতার হারে কিছুটা তারতম্য দেখা গেছে। ২৪ ঘণ্টায় যেখানে ৯০৭টি শিশু নতুন করে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে, সেখানে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছে ৫৩৯টি শিশু।
আরও পড়ুন: দেশে হাম ও উপসর্গে আরও ১০ শিশুর মৃত্যু, মোট প্রাণহানি ৫৭৫
সরকারি প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে ৩০ মে পর্যন্ত দেশে মোট সন্দেহভাজন বা উপসর্গযুক্ত হামরোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬৯ হাজার ৬১২ জনে। এর মধ্যে ল্যাবরেটরি পরীক্ষার মাধ্যমে শতভাগ নিশ্চিত হওয়া হামরোগীর সংখ্যা ৮ হাজার ৯৯৬ জন।
গত আড়াই মাসে যে ৫৮৩ জন রোগীর মৃত্যু হয়েছে, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সেটিকে দুটি ভাগে বিভক্ত করেছে। অধিদপ্তরের তথ্যমতে, মৃতদের মধ্যে ল্যাব টেস্টে নিশ্চিতভাবে হাম প্রমাণিত হওয়া শিশুর সংখ্যা ৯০ জন। অন্যদিকে, ল্যাব টেস্টের ফলাফল আসার আগেই বা হামের তীব্র উপসর্গজনিত জটিলতায় (যেমন- তীব্র নিউমোনিয়া বা ডায়রিয়া) ভুগে মারা গেছে আরও ৪৯৩টি শিশু।
১৫ মার্চ থেকে শুরু হওয়া এই প্রাদুর্ভাবে এ পর্যন্ত সারা দেশের হাসপাতালগুলোতে মোট ৫৫ হাজার ৭০৫ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। আক্রান্ত শিশুদের একটি বড় অংশই হাসপাতালের নিবিড় পর্যবেক্ষণে চিকিৎসা সেবা নিয়েছে। তবে আশার কথা হলো, আক্রান্তদের মধ্যে একটি বিশাল অংশ ইতিমধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছে। সরকারি তথ্যমতে, ভর্তি হওয়া রোগীদের মধ্যে এ পর্যন্ত মোট ৫২ হাজার ৫০ জন রোগী পুরোপুরি সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে আরও কয়েক হাজার শিশু চিকিৎসাধীন রয়েছে।
চিকিৎসকদের মতে, শিশুদের নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচির (EPI) আওতায় হামের টিকা যথাসময়ে নিশ্চিত করা না গেলে এই সংক্রমণ আরও ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি থাকে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নানামুখী পদক্ষেপের পাশাপাশি অভিভাবকদের সচেতন হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি








