News Bangladesh

নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১৬:৪৭, ২ জুন ২০২৬

২৪ ঘণ্টায় হাম-উপসর্গে আরও ৬ মৃত্যু, আক্রান্ত ১,৩৩৪

২৪ ঘণ্টায় হাম-উপসর্গে আরও ৬ মৃত্যু, আক্রান্ত ১,৩৩৪

ফাইল ছবি

দেশজুড়ে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে হাম ও এর উপসর্গের প্রকোপ। গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে কারও মৃত্যুর খবর না পাওয়া গেলেও, এই ভাইরাসের তীব্র উপসর্গ নিয়ে প্রাণ হারিয়েছে আরও ৬টি শিশু। এ নিয়ে চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে শুরু করে এ পর্যন্ত দেশে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫৯৪ জনে। দিন দিন এই সংক্রমণ ও মৃত্যুর গ্রাফ ঊর্ধ্বমুখী হতে থাকায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছেন দেশের স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।

মঙ্গলবার (০২ জুন) বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম এবং হামবিষয়ক হালনাগাদ প্রতিবেদন থেকে এই ভয়াবহ চিত্র সামনে এসেছে। সোমবার সকাল ৮টা থেকে মঙ্গলবার সকাল ৮টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টার ডেটা বিশ্লেষণ করে এই নিয়মিত বুলেটিন ও বার্তা প্রকাশ করেছে অধিদপ্তর।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে শুরু করে এখন পর্যন্ত দেশে হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে যে ৫৯৪ জন মারা গেছে, তাদের মধ্যে ল্যাব টেস্টে নিশ্চিতভাবে হামের সংক্রমণ প্রমাণিত হওয়া শিশুর সংখ্যা ৯০ জন। অন্যদিকে, ল্যাব টেস্ট ছাড়াই হামের তীব্র ও স্পষ্ট উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে ৫০৪ জন শিশু।

এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে নতুন করে আরও ৪২টি শিশুর শরীরে নিশ্চিতভাবে হামের সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। একই সময়ে আরও ১ হাজার ২৯২ জন শিশুর শরীরে হামের সন্দেহভাজন উপসর্গ পাওয়া গেছে। অর্থাৎ, গত ২৪ ঘণ্টায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৩৩৪ জনে। সব মিলিয়ে দেশে এখন পর্যন্ত ল্যাব টেস্টে নিশ্চিত হওয়া হাম রোগীর মোট সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯ হাজার ১৩৬ জনে। আর গত ১৫ মার্চ থেকে শুরু করে এ পর্যন্ত দেশে মোট সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭৩ হাজার ৩৬২ জনে।

আরও পড়ুন: হামের উপসর্গে আরো ৩ শিশুর মৃত্যু

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হালনাগাদ প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, গত ১৫ মার্চ থেকে শুরু করে এখন পর্যন্ত সন্দেহজনক হামের উপসর্গ নিয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়েছে মোট ৫৯ হাজার ১০৫ জন শিশুকে (মতান্তরে ৫৯,১০৬ জন)। এর মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টাতেই নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১ হাজার ২০৪ জন শিশু।

চিকিৎসা শেষে সুস্থতার হারও কিছুটা স্বস্তিদায়ক। এ পর্যন্ত আক্রান্তদের মধ্যে মোট ৫৪ হাজার ৮১২ জন শিশু সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র নিয়ে বাড়ি ফিরে গেছে। যার মধ্যে সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টাতেই হাসপাতাল ছেড়েছে ১ হাজার ৯০ জন শিশু। তবে এখনও বিপুলসংখ্যক শিশু দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে, যাদের একটি বড় অংশের অবস্থা সংকটাপন্ন।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাম একটি অত্যন্ত ছোঁয়াচে রোগ এবং শিশুদের জন্য এটি মারাত্মক রূপ নিতে পারে। বিশেষ করে পুষ্টিহীনতা বা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকলে জটিলতা অনেক বেড়ে যায়। হঠাৎ করে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা এভাবে বাড়তে থাকায় দ্রুত টিকাদান কর্মসূচি জোরদার করা এবং লক্ষণ দেখামাত্রই শিশুদের নিকটস্থ হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকরা।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়