News Bangladesh

নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ২১:২৩, ১৯ জানুয়ারি ২০২৬
আপডেট: ২১:২৯, ১৯ জানুয়ারি ২০২৬

চট্টগ্রামে সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত ১, জিম্মি ৩

চট্টগ্রামে সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত ১, জিম্মি ৩

ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার জঙ্গল সলিমপুরের দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় সন্ত্রাসী হামলায় আব্দুল মোতালেব নামে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‍্যাব) এক কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন। 

তিনি র‍্যাবের ডেপুটি অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টর (ডিএডি) পদে কর্মরত ছিলেন এবং বিজিবি থেকে প্রেষণে র‍্যাবে যোগ দিয়েছিলেন। 

সোমবার (১৯ জানুয়ারি) বিকেলে পতেঙ্গা ব্যাটালিয়নের একটি দল জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় আসামি গ্রেফতারে অভিযানে গেলে এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

র‍্যাবের সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) এ আর এম মোজাফফর হোসেন ও চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) সিরাজুল ইসলাম এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

র‍্যাব সূত্র জানিয়েছে, সোমবার বিকেলে র‍্যাবের পতেঙ্গা ব্যাটালিয়নের একটি দল জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় অভিযানে যায়। এসময় সন্ত্রাসীরা র‍্যাব সদস্যদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। গুলিবিদ্ধ হয়ে মোতালেব গুরুতর আহত হন। পরে তাকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। একই ঘটনায় তিন র‍্যাব সদস্যকে সন্ত্রাসীরা জিম্মি করে রেখেছে বলে জানা গেছে।

সোমবার বিকেলে ঘটনাস্থলে পৌঁছানো সীতাকুণ্ড থানার উপপরিদর্শক (এসআই) জাফর আহমদ ভূঁইয়া বলেন, আমরা ঘটনাস্থলে অবস্থান করছি। ওসি এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করছেন। এলাকায় অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।

এদিকে চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি (অতিরিক্ত আইজিপি পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত) আহসান হাবিব পলাশ বলেন, ঘটনার সময় র‍্যাবের চার কর্মকর্তা ও সদস্য এবং এক সোর্সকে আটক করে বেদম প্রহার করে দুর্বৃত্তরা। পরে পুলিশ ও র‍্যাবের অতিরিক্ত ফোর্স ঘটনাস্থলে পৌঁছে জিম্মিদের উদ্ধার করে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে প্রেরণ করে। সেখানে একজনকে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

আরও পড়ুন: টাঙ্গাইলে প্রশিক্ষণের সময় পুলিশ সদস্য গুলিবিদ্ধ

স্থানীয় সূত্র জানায়, সীতাকুণ্ড উপজেলার সলিমপুর ইউনিয়নের জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় প্রায় চার দশক ধরে সরকারি পাহাড় ও খাস জমি দখল করে কয়েক হাজার অবৈধ বসতি গড়ে উঠেছে। দুর্গম পাহাড়ি এলাকা হওয়ায় এটি দীর্ঘদিন ধরেই পাহাড়খেকো, ভূমিদস্যু ও সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে পরিচিত। এলাকাটি এখনো সশস্ত্র পাহারায় নিয়ন্ত্রিত হয় এবং বহিরাগতদের প্রবেশ কার্যত নিষিদ্ধ।

এ এলাকার মোট আয়তন প্রায় ৩ হাজার ১০০ একর। জেলা প্রশাসন সূত্র মতে, লিংক রোড সংলগ্ন এই এলাকায় প্রতি শতক জমির বাজারমূল্য ৯ থেকে ১০ লাখ টাকা। সেই হিসাবে দখল হওয়া সরকারি খাস জমির আনুমানিক মূল্য প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকা। এই বিশাল অর্থনৈতিক স্বার্থকে কেন্দ্র করে এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে সংঘর্ষ, খুনোখুনি ও সন্ত্রাসী তৎপরতা চলে আসছে।

গত বছরের ৫ আগস্ট দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর জঙ্গল সলিমপুরের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সশস্ত্র সংঘর্ষ আরও বেড়ে যায়। এর জেরে একাধিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে, যার সবগুলো পাহাড় দখল ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে। সবশেষ ওই এলাকায় দুটি পক্ষের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনায় একজন নিহত হন। এর পরদিন সেখানে সংবাদ সংগ্রহে গেলে সন্ত্রাসীদের হামলার শিকার হন দুই সাংবাদিক।

অন্যদিকে, প্রশাসন উচ্ছেদ ও পাহাড় কাটা বন্ধে অভিযান চালাতে গেলে ২০২৩ সালের ১৪ সেপ্টেম্বরও একই এলাকায় হামলার ঘটনা ঘটে। তখন জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, থানার ওসি ও পুলিশ সদস্যসহ অন্তত ২০ জন আহত হন। ২০২২ সালেও র‍্যাব, পুলিশ ও পরিবেশ অধিদপ্তরের ওপর একাধিকবার হামলার ঘটনা ঘটেছে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা বলছেন, জঙ্গল সলিমপুরের ভৌগোলিক অবস্থান এমন যে বাহিনীর গাড়ি প্রবেশ করলেই পাহারাদারদের মাধ্যমে সন্ত্রাসীরা আগাম খবর পেয়ে যায়। এরপর পাহাড়ের ওপর থেকে গুলি, ককটেল ও ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করা হয়। এককভাবে অভিযান চালিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়ে।

এ ঘটনার পর পুলিশ, র‍্যাব ও সেনাবাহিনীর যৌথ অভিযান চলমান রয়েছে। নিরাপত্তা বাহিনী জিম্মিদের উদ্ধারে সর্বাত্মক চেষ্টা চালাচ্ছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত ফোর্স মোতায়েন করেছে।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়