রাজধানীতে স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকে গুলি করে হত্যা
ছবি: সংগৃহীত
রাজধানীর তেজগাঁও থানাধীন তেজতুরী বাজার এলাকায় দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত হয়েছেন ঢাকা মহানগর উত্তর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও যুগ্ম আহ্বায়ক আজিজুর রহমান মুছাব্বির। এ ঘটনায় তার সঙ্গে থাকা আবু সুফিয়ান ব্যাপারি মাসুদ নামে আরও একজন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। তিনি বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এবং চিকিৎসকদের ভাষ্যমতে শঙ্কামুক্ত।
বুধবার (০৭ জানুয়ারি) রাত সোয়া ৮টা থেকে রাত ৮টা ৪০ মিনিটের মধ্যে কারওয়ান বাজারের স্টার কাবাব রেস্টুরেন্টের পেছনের পশ্চিম তেজতুরী বাজার এলাকার একটি গলিতে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, অন্ধকার গলিতে লুকিয়ে থাকা দুর্বৃত্তরা মোটরসাইকেলে এসে অতর্কিতভাবে গুলি চালিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়।
পুলিশ জানায়, ঘটনার সময় মুছাব্বির তেজগাঁও থানার ভ্যানশ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আবু সুফিয়ান ব্যাপারি মাসুদসহ কয়েকজনের সঙ্গে স্টার কাবাবের গলিতে অবস্থান করছিলেন।
কোনো কোনো সূত্র জানায়, তারা শরীয়তপুর সমিতির একটি অনুষ্ঠান শেষে গলি পথ ধরে ফিরছিলেন। হঠাৎ মোটরসাইকেলে আসা একাধিক দুর্বৃত্ত মুছাব্বিরকে লক্ষ্য করে কয়েক রাউন্ড গুলি চালায়। এতে মুছাব্বির পেটে একাধিকবার গুলিবিদ্ধ হন এবং মাসুদও গুলিতে আহত হন।
ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন ও নেতাকর্মীরা গুলিবিদ্ধ দুজনকে উদ্ধার করে দ্রুত পান্থপথের বিআরবি হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক আজিজুর রহমান মুছাব্বিরকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে আহত আবু সুফিয়ান ব্যাপারি মাসুদকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
হাসপাতাল সূত্র জানায়, তার পেটের বাঁ পাশে গুলি লেগেছে এবং অস্ত্রোপচার শেষে তিনি শঙ্কামুক্ত রয়েছেন।
আরও পড়ুন: মোহাম্মদপুরে বিদেশি পিস্তলসহ অস্ত্রধারী রিয়াজ গ্রেফতার
ঢাকা মহানগর পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) ফজলুল করিম ও উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মো. ইবনে মিজান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে এবং আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। একটি সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, গলির ভেতরে বস্তা নিয়ে বসে থাকা দুজন ব্যক্তি হঠাৎ পিস্তল বের করে পেছন থেকে মুছাব্বিরকে গুলি করে। গুলিবিদ্ধ হয়ে পড়ে যাওয়ার পর তিনি উঠে পালানোর চেষ্টা করেন, তবে হামলাকারীরা তার ফোন নিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়।
ঘটনার পর বিআরবি হাসপাতাল ও ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে নিহতের দলীয় নেতাকর্মী ও অনুসারীদের ভিড় জমে। এতে ওই এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরে নিহত মুছাব্বিরের মরদেহ আইনগত প্রক্রিয়া শেষে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
এই হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে রাতে কারওয়ান বাজারের সার্ক ফোয়ারা মোড় অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা। ফলে ওই এলাকায় যান চলাচল ব্যাহত হয়। রাত সাড়ে ১০টার দিকে সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে গিয়ে বিক্ষোভকারীদের সরিয়ে দিলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, আজিজুর রহমান মুছাব্বির দীর্ঘদিন ধরে ছাত্রদল, বিএনপি ও জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তিনি ঢাকা মহানগর উত্তর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক, যুগ্ম আহ্বায়ক এবং এক সময় কেন্দ্রীয় সংসদের যুগ্ম সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। তবে বর্তমানে তার কোনো আনুষ্ঠানিক পদ ছিল না। অতীতে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তিনি একাধিকবার গ্রেফতার হয়ে কারাবরণ করেন এবং ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের ২৬ নম্বর ওয়ার্ড থেকে কাউন্সিলর প্রার্থীও ছিলেন।
মুছাব্বিরের গ্রামের বাড়ি শরীয়তপুর জেলায় হলেও তিনি পরিবারসহ বসুন্ধরা সিটির পেছনে কাজীপাড়া এলাকায় বসবাস করতেন। তার বাবা একসময় এফডিসিতে চাকরি করতেন এবং কারওয়ান বাজারে জুতার দোকানও ছিল বলে পরিচিতজনরা জানিয়েছেন।
এদিকে পুলিশ জানায়, হত্যার কারণ ও জড়িতদের পরিচয় এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং শিগগিরই প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।
নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি








