News Bangladesh

স্পোর্টস ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১৫:০৯, ২৮ জানুয়ারি ২০২৬

নিপাহ ঝুঁকির মধ্যেই বিশ্বকাপ আয়োজনে অনড় ভারত

নিপাহ ঝুঁকির মধ্যেই বিশ্বকাপ আয়োজনে অনড় ভারত

ফাইল ছবি

২০২৬ সালের টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আয়োজন ঘিরে যখন ক্রিকেটপ্রেমীদের উত্তেজনা চূড়ায় থাকার কথা, তখন সেই উন্মাদনাকে ছাপিয়ে যাচ্ছে এক ভয়াবহ জনস্বাস্থ্য সংকট। ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলকাতা ও বারাসাত এলাকায় প্রাণঘাতী নিপাহ ভাইরাসের সংক্রমণ ও মৃত্যুর খবর বিশ্বকাপ আয়োজন নিয়ে গুরুতর প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

ভারতীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গে অন্তত পাঁচজন নিপাহ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন এবং শতাধিক মানুষকে কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। চিকিৎসক ও নার্সসহ সাধারণ মানুষ ইতোমধ্যে সংক্রমণের ঝুঁকিতে রয়েছেন। 

বিশেষজ্ঞদের মতে, নিপাহ ভাইরাসের মৃত্যুহার ৪০ থেকে ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত যা একে বিশ্বের অন্যতম প্রাণঘাতী ভাইরাসে পরিণত করেছে।

এমন পরিস্থিতিতে হাজার হাজার দর্শককে গ্যালারিতে জড়ো করে আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট আয়োজন কতটা নিরাপদ তা নিয়ে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে।

বিশেষ সূত্রের বরাতে অভিযোগ উঠেছে, নিপাহ ভাইরাসের প্রকৃত পরিস্থিতি আড়াল করে বিশ্বকাপ আয়োজন অব্যাহত রাখার চেষ্টা করছে ভারত ও আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)। 

অভিযোগ অনুযায়ী, এর পেছনে প্রধান চালিকাশক্তি অর্থনৈতিক ক্ষতির আশঙ্কা।

আইসিসির রাজস্ব কাঠামোতে ভারতের বাজারই সবচেয়ে বড় স্তম্ভ। টেলিভিশন সম্প্রচার স্বত্ব, ডিজিটাল স্ট্রিমিং, স্পনসরশিপ এবং টিকিট বিক্রি এই চারটি খাত থেকে আইসিসির সর্বোচ্চ আয় আসে ভারতের মাধ্যমেই। বিশ্বকাপ যদি অন্য দেশে স্থানান্তরিত হয়, তাহলে এই বিশাল রাজস্বের বড় অংশ হারানোর ঝুঁকিতে পড়বে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই)।

আরও পড়ুন: অনিশ্চয়তায় বিশ্বকাপ: ভারতের বিকল্প হতে পারে আরব আমিরাত

বিশ্বকাপ আয়োজন বাতিল বা স্থানান্তর হলে শুধু বিসিসিআই নয়, আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে রাজ্য সরকার ও স্থানীয় আয়োজক সংস্থাগুলোও। পাশাপাশি বিদেশি দল, কর্মকর্তা, গণমাধ্যমকর্মী ও দর্শকদের আগমনে যে অস্থায়ী কিন্তু বৃহৎ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সৃষ্টি হয় তা হোটেল, পরিবহন, রেস্তোরাঁ, ইভেন্ট ম্যানেজমেন্টসহ বিভিন্ন খাতে বড় ধাক্কা দেবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বহুমাত্রিক অর্থনৈতিক ক্ষতির আশঙ্কাই পরিস্থিতি গোপন রাখার অন্যতম কারণ হয়ে উঠেছে।

ভেতরের খবর অনুযায়ী, পরিস্থিতির গুরুত্ব অনুধাবন করলেও আইসিসি এখনো প্রকাশ্যে কোনো অবস্থান নেয়নি। তবে গোপনে সংযুক্ত আরব আমিরাতকে বিকল্প ভেন্যু হিসেবে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। দুবাই, আবুধাবি ও শারজাহর আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামগুলোকে ‘রেড অ্যালার্টে’ রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে।

উল্লেখ্য, ২০২১ সালের টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ সফলভাবে আয়োজন করেছিল সংযুক্ত আরব আমিরাত। উন্নত অবকাঠামো ও লজিস্টিক সক্ষমতার কারণে আইসিসির কাছে দেশটি এখন সবচেয়ে নিরাপদ বিকল্প হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

এই প্রেক্ষাপটে উঠছে বড় প্রশ্ন বিসিসিআইয়ের রাজনৈতিক ও আর্থিক প্রভাবের কাছে কি আইসিসি কার্যত নীরব দর্শকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে? জনস্বাস্থ্য নাকি রাজস্ব কোনটি অগ্রাধিকার পাচ্ছে, তা নিয়েই বাড়ছে সংশয়।

নিপাহ ভাইরাসের কোনো কার্যকর প্রতিষেধক না থাকায় পাকিস্তান ইতোমধ্যেই তাদের খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। পরিস্থিতি অবনতির দিকে গেলে অংশগ্রহণকারী দলগুলোর অবস্থানও পাল্টে যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

২০২৬ টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপকে ঘিরে ক্রিকেটীয় আনন্দের চেয়ে এখন বড় হয়ে উঠছে জনস্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার প্রশ্ন। সংক্রমণের বাস্তবতা আড়াল করে বিশ্বকাপ আয়োজন হলে সেটি কেবল ক্রীড়ানৈতিকতার প্রশ্নই নয় মানবজীবনের জন্যও মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়