অনিশ্চয়তায় বিশ্বকাপ: ভারতের বিকল্প হতে পারে আরব আমিরাত
ছবি: সংগৃহীত
আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ভারত ও শ্রীলঙ্কার মাটিতে যৌথভাবে পর্দা ওঠার কথা ছিল ২০২৬ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দশম আসরের। তবে টুর্নামেন্ট শুরুর মাত্র কয়েক দিন আগে ভারতের পশ্চিমবঙ্গে প্রাণঘাতী নিপাহ ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব বিশ্বজুড়ে চরম উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। এই সংকটের ফলে ভারতের মাটিতে বিশ্বকাপের ম্যাচগুলো আয়োজন নিয়ে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের কলকাতা ও পার্শ্ববর্তী বারাসাত এলাকায় এ পর্যন্ত অন্তত ৫ জনের দেহে নিপাহ ভাইরাসের সংক্রমণ নিশ্চিত করেছে দেশটির স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ। আক্রান্তদের মধ্যে ডাক্তার ও নার্সসহ স্বাস্থ্যকর্মীও রয়েছে, যা সংক্রমণের ঝুঁকি আরও বাড়িয়েছে। পাশাপাশি প্রায় ১০০ জনকে কোয়ারেন্টাইনে পাঠানো হয়েছে।
নিপাহ ভাইরাসের কোনো স্বীকৃত টিকা না থাকা এবং উচ্চ মৃত্যুহার (৪০ থেকে ৭৫ শতাংশ) থাকায় আন্তর্জাতিক ক্রিকেট দলের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়েছে। ইতোমধ্যে এশিয়ার কয়েকটি দেশ ভারত-ফেরত যাত্রীদের স্ক্রিনিং শুরু করেছে। পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ হলে কোয়ারেন্টিন পুনরায় জারি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে, যা খেলোয়াড়, দর্শক ও সাংবাদিকদের জন্য বড় ধরনের অসুবিধার কারণ হতে পারে। এনডিটিভি, জিও সুপার, ট্যাপম্যাড, হেলথ মাস্টার, খাইবার নিউজসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এই বিষয়ে সতর্কতা প্রকাশ করেছে।
আরও পড়ুন: নিপাহ আতঙ্কে অনিশ্চয়তায় ভারতের বিশ্বকাপ, এশিয়াজুড়ে সতর্কতা
এই সংকটের কারণে আইসিসি ভারতের মাটিতে বিশ্বকাপ আয়োজন নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছে। বিশ্ব ক্রিকেট নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি “প্ল্যান বি” হিসেবে সংযুক্ত আরব আমিরাতকে বিকল্প ভেন্যু হিসেবে বিবেচনায় রাখছে বলে খবর পাওয়া গেছে। সম্ভাব্য ভেন্যু হিসেবে প্রস্তুত রয়েছে দুবাই আন্তর্জাতিক স্টেডিয়াম, আবুধাবির শেখ জায়েদ স্টেডিয়াম এবং শারজাহ ক্রিকেট স্টেডিয়াম। ২০২১ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ সফলভাবে আয়োজন করেছিল আরব আমিরাত, ফলে লজিস্টিক ও পরিকাঠামোর দিক থেকে আইসিসি দেশটিকে সবচেয়ে নিরাপদ বিকল্প মনে করছে।
অন্যদিকে, টুর্নামেন্টের আয়োজক দেশ হিসেবে ভারতের অবস্থান নিয়ে ক্রিকেট বিশ্বে নতুন করে টানাপোড়েন শুরু হয়েছে। পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) ইতোমধ্যে আইসিসির কাছে আনুষ্ঠানিক উদ্বেগ জানিয়েছে এবং খেলোয়াড় ও দর্শকদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে ভারতকে আয়োজক দেশ থেকে বাদ দিয়ে নিরপেক্ষ ভেন্যুতে খেলা আয়োজন করার দাবি করেছে।
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) আগে থেকেই নিরাপত্তাজনিত কারণ দেখিয়ে ভারতের মাটিতে খেলতে আপত্তি জানিয়েছিল। তবে আইসিসি তাদের দাবিতে সাড়া না দিয়ে বাংলাদেশের পরিবর্তে স্কটল্যান্ডকে টুর্নামেন্টে অন্তর্ভুক্ত করার কঠোর সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছিল।
এই পরিস্থিতিতে আইসিসি একটি জরুরি বৈঠক ডাকার সম্ভাবনা রয়েছে। যদি ভারতের স্বাস্থ্য পরিস্থিতি গুরুতর বিবেচিত হয়, তবে বিশ্বকাপের কিছু ম্যাচ শ্রীলঙ্কায় সরিয়ে নেওয়া অথবা ভারতের বদলে আরব আমিরাতকে যুক্ত করে হাইব্রিড মডেলে টুর্নামেন্ট আয়োজনের ঘোষণা আসতে পারে।
বিশ্বকাপ শুরুর আগেই নিপাহ ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব বিশ্ব ক্রিকেটের পরিকল্পনায় বড় ধরনের অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করেছে। এবারও ২০২১ সালের মতোই ভারত স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণে আয়োজক হিসেবে টিকে থাকতে পারবে কি না, তা এখন প্রশ্নের মুখে।
নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি








