সাফ ফুটবল জয়ী সাবিনাদের ছাদখোলা বাসে সংবর্ধনা
ছবি: সংগৃহীত
থাইল্যান্ডের ব্যাংককে অনুষ্ঠিত প্রথমবারের সাফ ওমেন্স ফুটসাল চ্যাম্পিয়নশিপে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে বাংলাদেশ জাতীয় নারী ফুটবল দল। সাত দেশের অংশগ্রহণে আয়োজিত এই টুর্নামেন্টে ছয় ম্যাচে পাঁচ জয় ও এক ড্রয়ে সর্বোচ্চ ১৬ পয়েন্ট পেয়ে শিরোপা নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ।
বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় ট্রফি নিয়ে দেশে ফিরবেন তারা। সাফ ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপের মতো এবারও ট্রফি জয়ী এই বীরাঙ্গনাদের জন্য ছাদখোলা বাসের সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়েছে।
বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) সহ-সভাপতি ফাহাদ করিম জানিয়েছেন, বাংলাদেশ নারী ফুটসাল দলকে ধন্যবাদ জানাতে ও বিজয় উদযাপন করতে বিমানবন্দর থেকে ছাদখোলা বাসে বহন করা হবে। বাসটি হাতিরঝিলের এম্পিথিয়েটারে পৌঁছে ফুটবলপ্রেমীদের অভ্যর্থনা গ্রহণ করবে।
২০১৮ সালে ফুটসালে বাংলাদেশের মেয়েদের পথচলা শুরু হয়েছিল। সেই বছর কোচ গোলাম রব্বানীর অধীনে দলটি এশিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপে অংশগ্রহণ করে। এরপরে দীর্ঘ ছয় বছর কার্যক্রম বন্ধ থাকার পর ২০২৫ সালের শেষ দিকে বাফুফে নতুন করে দল গঠন শুরু করে। নতুন দলটি দেশ ও দেশের বাইরে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সাফ ফুটসাল চ্যাম্পিয়নশিপের জন্য প্রস্তুত হয়।
আরও পড়ুন: থাইল্যান্ডকে উড়িয়ে বিশ্বকাপের টিকিট নিশ্চিত করল টাইগ্রেসরা
চ্যাম্পিয়ন দলের নেতৃত্বে ছিলেন বাংলাদেশের নারী ফুটবলের কিংবদন্তি সাবিনা খাতুন। ২৫ জানুয়ারি হুয়া মাক ইনডোর স্টেডিয়ামে মালদ্বীপকে ১৪-২ গোলে হারিয়ে দল প্রথমবারের মতো সাফ ফুটসাল চ্যাম্পিয়ন হয়। এই টুর্নামেন্টে সাবিনা খাতুন ৬ ম্যাচে ১৪টি গোল করে সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়েছেন। এছাড়া বাংলাদেশের ৩৮ গোলের মধ্যে বেশিরভাগে তার অবদান ছিল, এবং তিনি নিয়মিত ডিফেন্স সামলিয়েও দলের সর্বনিম্ন গোল হজমের রেকর্ড গড়ে তোলায় ভূমিকা রেখেছেন।
বাংলাদেশের নারী ফুটবল দল এই জয় দিয়ে ইতিহাস গড়েছে। সাবিনার নেতৃত্বে দেশটি আগে টানা দুইবার সাফ ফুটবলের চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল এবং এবার ফুটসালেও একই সম্মান অর্জন করল।
দলের ম্যানেজার ও ফুটসাল কমিটির চেয়ারম্যান ইমরানুর রহমান জানিয়েছেন, চ্যাম্পিয়ন দলের জন্য বিমানবন্দর থেকে ছাদখোলা বাস ব্যবস্থার পাশাপাশি ব্যাংককে তাদের ঘোরাঘুরি এবং শারীরিক ও মানসিক স্বস্তির জন্য অতিরিক্ত সুযোগ দেওয়া হয়েছে।
আগের সাফ জয়, ২০২২ ও ২০২৪ সালে নারীদের জন্য বাফুফে ছাদখোলা বাসে সংবর্ধনার ব্যবস্থা করেছিল। এবারও একইভাবে বিজয়ী দলকে সম্মান জানানো হবে। তবে ২০২৪ সালের চ্যাম্পিয়ন হওয়ার জন্য ঘোষিত আর্থিক প্রণোদনা এখনও প্রদান করা হয়নি।
সাত দেশের অংশগ্রহণে আয়োজিত এই লিগে বাংলাদেশ ভারত, নেপাল, শ্রীলঙ্কা, মালদ্বীপ ও পাকিস্তানকে পরাজিত করলেও একমাত্র ভুটানের সঙ্গে ম্যাচ ড্র করে পয়েন্ট হারায়। এই চ্যাম্পিয়ন দলের বাংলাদেশে আগমন এবং সংবর্ধনার আয়োজন ফুটবলপ্রেমীদের জন্য একটি বিশেষ মুহূর্ত হিসেবে পরিণত হবে।
নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি








