News Bangladesh

স্পোর্টস ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১৯:৫৮, ২৬ জানুয়ারি ২০২৬

বিশ্বকাপে অংশ নিয়ে তিন বিকল্প প্রতিবাদ ভাবছে পিসিবি

বিশ্বকাপে অংশ নিয়ে তিন বিকল্প প্রতিবাদ ভাবছে পিসিবি

ছবি: সংগৃহীত

আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে পাকিস্তানের অংশগ্রহণ নিয়ে বিভিন্ন প্রতিবাদমূলক পদক্ষেপ গ্রহণের পরিকল্পনা করছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। 

পাকিস্তান সংবাদমাধ্যম সামা টিভির প্রতিবেদন ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানা গেছে, পিসিবি বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ বজায় রেখে বাংলাদেশ দলের প্রতি সংহতি প্রকাশের উপায় খুঁজছে।

সূত্র বলছে, বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ বজায় রেখে কীভাবে প্রতিবাদ জানানো যায়, তা নিয়ে বোর্ডের অভ্যন্তরীণ আলোচনা চলেছে। এই বিষয়ে বোর্ডের অভ্যন্তরীণ বৈঠকে গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে। পিসিবি চেয়ারম্যান মোহসিন নকভি বোর্ড কর্মকর্তাদের পাশাপাশি সাবেক ক্রিকেটারদের সঙ্গে পরামর্শ করেছেন। পিএসএল-সংক্রান্ত একটি কর্মশালাতেও বিষয়টি উঠে আসে এবং সেখানে নকভি বাংলাদেশ দলের পক্ষে জোরালো বক্তব্য দেন। 

নকভির মন্তব্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ দলকে “অবহেলা ও অপমান” করা হয়েছে এবং তাদের একা ছেড়ে দেওয়া উচিত নয়।

তাই বিশ্বকাপ নিয়ে তিনটি বিকল্পের কথা ভাবছে পিসিবি।

  • কালো বাহুবন্ধনী: খেলোয়াড়রা ম্যাচগুলোর সময় কালো বাহুবন্ধনী পরে মাঠে নামবেন। এটি বাংলাদেশের প্রতি সংহতির প্রতীক হিসেবে ধরা হচ্ছে।
  • ভারত বর্জন: আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি ভারতের বিপক্ষের ম্যাচ বর্জন করা। সূত্র বলছে, ভারতের আচরণের প্রতিবাদ হিসেবে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।
  • জয় উৎসর্গ: বিশ্বকাপে পাকিস্তান যে ম্যাচগুলো জিতবে, সেগুলো বাংলাদেশি ক্রিকেট সমর্থকদের নামে উৎসর্গ করা।

পিসিবি সূত্র জানায়, এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ। নকভির সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে একটি বৈঠক নির্ধারিত রয়েছে, যেখানে ঠিক হবে পাকিস্তান বিশ্বকাপে কীভাবে অংশ নেবে এবং কোন প্রতিবাদমূলক পথ বেছে নেওয়া হবে। 

পিসিবি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, যেকোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় পাকিস্তানের ক্রিকেট স্বার্থের পাশাপাশি বাংলাদেশের প্রতি সংহতির বিষয়টিও গুরুত্ব পাবে।

আরও পড়ুন: বিশ্বকাপে না গেলে বিকল্প টুর্নামেন্ট আয়োজনের অনুরোধ শান্তর

পিসিবি চেয়ারম্যান মোহসিন নকভি জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের সঙ্গে আলাপকালে বলেছেন, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের অবস্থান নীতিনির্ভর এবং পাকিস্তান সেই নীতির প্রতি সম্মান জানায়। 

তিনি আরও বলেন, ক্রিকেটকে রাজনৈতিক হাতিয়ার বানানো কারও জন্যই ভালো নয়। নকভি স্পষ্ট করেন, বিশ্বকাপ নিয়ে পাকিস্তান সরকার যে সিদ্ধান্ত নেবে, পিসিবি সেটাই পুরোপুরি মেনে চলবে।

একই প্রেক্ষাপটে, পাকিস্তান সরকার ২৬ জানুয়ারি (সোমবার) বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের সঙ্গে বৈঠকের পরই আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে।

এদিকে, আইসিসি ইতোমধ্যে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে বাংলাদেশকে বাদ দিয়ে তাদের স্থলে স্কটল্যান্ডকে অন্তর্ভুক্ত করার ঘোষণা দিয়েছে। 

আইসিসির বিবৃতিতে বলা হয়েছে, নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগ নিয়ে প্রায় তিন সপ্তাহ ধরে বাংলাদেশের সঙ্গে আলোচনা চালানো হয় এবং অভ্যন্তরীণ ও বহিরাগত বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে বিস্তারিত নিরাপত্তা মূল্যায়ন করা হয়। পর্যালোচনার পর ভারতে বাংলাদেশের দলের জন্য কোনো যাচাইযোগ্য নিরাপত্তা হুমকির প্রমাণ পাওয়া যায়নি। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না পাওয়ায় আইসিসির নিয়ম অনুযায়ী বিকল্প দল হিসেবে স্কটল্যান্ডকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। বর্তমানে টি-টোয়েন্টি র‌্যাঙ্কিংয়ে স্কটল্যান্ডের অবস্থান ১৪তম।

পাকিস্তানের ক্রীড়া সাংবাদিক কাদির খাজা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে টুইট করে বলেছেন, বাংলাদেশ যে সাহসী সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তার সমর্থনে পাকিস্তানি ক্রিকেটাররা কালো আর্মব্যান্ড পরিধান করতে পারে এবং গ্রুপ পর্বে ভারতের বিপক্ষের ম্যাচটি বয়কট করতে পারে। তবে এই সিদ্ধান্তগুলো তখনই বাস্তবায়িত হবে, যখন পাকিস্তান বিশ্বকাপে অংশ নেবে।

পিসিবি চেয়ারম্যান নকভির বিভিন্ন বক্তব্যের পর থেকেই বিশ্বকাপ বয়কটের গুঞ্জন বাড়ছে। 

পাকিস্তানের গণমাধ্যমের মতে, বিশ্বকাপ নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে পাকিস্তান সরকার। এজন্য পিসিবি কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ। ধারণা করা হচ্ছে, ওই বৈঠকেই সিদ্ধান্ত হবে যে পাকিস্তান বিশ্বকাপে অংশ নেবে নাকি অংশ নেবে না।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়