News Bangladesh

নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১৪:১০, ১৮ জানুয়ারি ২০২৬
আপডেট: ১৫:৫১, ১৮ জানুয়ারি ২০২৬

‘ক্ষমতায় গেলে জুলাই যোদ্ধাদের জন্য আলাদা বিভাগ করবে বিএনপি’

‘ক্ষমতায় গেলে জুলাই যোদ্ধাদের জন্য আলাদা বিভাগ করবে বিএনপি’

ছবি: সংগৃহীত

বিএনপি ক্ষমতায় গেলে জুলাইয়ের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের দেখভাল এবং তাদের পরিবারের কষ্ট লাঘবে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে একটি পৃথক বিভাগ গঠনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। 

তিনি জুলাই আন্দোলনে অংশগ্রহণকারীদের ‘মুক্তিযোদ্ধা’ আখ্যা দিয়ে বলেন, একাত্তরের মুক্তিযোদ্ধাদের মতো তারাও দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ভূমিকা রেখেছেন।

রবিবার (১৮ জানুয়ারি) রাজধানীর খামারবাড়িতে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (কেআইবি) মিলনায়তনে জুলাই আন্দোলনে শহীদ ও আহতদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন তিনি।

তারেক রহমান বলেন, ১৯৭১ সালে মুক্তিযোদ্ধারা দেশের স্বাধীনতার জন্য জীবন উৎসর্গ করেছিলেন। ঠিক একইভাবে ২০২৪ সালের জুলাইয়ে যারা আন্দোলনে অংশ নিয়েছেন, তারা দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য সংগ্রাম করেছেন। 

তার ভাষায়, জুলাইয়ে যেভাবে হত্যা করা হয়েছে, তা স্রেফ গণহত্যা। এই সাহসী আন্দোলনের কারণেই ফ্যাসিবাদী শাসক দেশ ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছে।

বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, চব্বিশের আন্দোলন কোনো ব্যক্তি, দল বা গোষ্ঠীর আন্দোলন ছিল না। এটি ছিল অধিকার আদায়ে জনগণের সম্মিলিত আন্দোলন। যারা এই আন্দোলনকে দলীয় স্বার্থে ব্যবহার করতে চায়, তাদের সম্পর্কে সবাইকে সচেতন থাকার আহ্বান জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, আগামী নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গণতান্ত্রিক সরকার গঠন করা না গেলে ভবিষ্যতেও এমন শোকসভা করতে হবে। তাই আর কোনো শোকসভা নয়-জনগণের বিজয়ের গাঁথা রচনা করার আহ্বান জানান তিনি।

মতবিনিময় সভায় জুলাই আন্দোলনে নিহত আনাসের মা আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, আগামী নির্বাচনে তারেক রহমান রাষ্ট্রক্ষমতায় এলে সব শহীদ হত্যার বিচার হবে- এ বিশ্বাস তাদের রয়েছে। 

আরও পড়ুন: রাজনৈতিক সহিংসতায় ক্ষতিগ্রস্তদের সাথে তারেক রহমান

তিনি অভিযোগ করেন, অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের মূল উদ্দেশ্য এখনো বাস্তবায়িত হয়নি এবং তার সন্তানের হত্যাকারীদের এখনো গ্রেফতার করা হয়নি।

শহীদ জাহিদের মা ফাতেমাতুর জোহরা কান্নাজড়িত কণ্ঠে সন্তানের স্মৃতিচারণ করে বলেন, তার বড় ছেলে তাকে ‘আম্মু, মা’ বলে ডাকতো। গত ১৭ মাস ধরে আর কেউ সে নামে ডাকছে না। 

তিনি বলেন, এই কঠিন সময়ে বিএনপির সহযোগিতা না পেলে তার সন্তানের চিকিৎসা সম্ভব হতো না। অনেকেই পাশে না দাঁড়ালেও বিএনপি তাদের পরিবারের পাশে ছিল বলে জানান তিনি।

শেষে তিনি তারেক রহমানের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় এলে শহীদদের হত্যার বিচার অগ্রাধিকার ভিত্তিতে হবে-এই বিশ্বাস রাখেন তিনি। একই সঙ্গে তারেক রহমান ও তার পরিবারের জন্য দোয়া করেন তিনি।

মতবিনিময় সভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীসহ দলের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে বিএনপি চেয়ারপারসনের সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমানও অংশ নেন। সভায় প্রায় ১ হাজার ৪০০ শহীদ ও আহত পরিবারের সদস্যদের আমন্ত্রণ জানানো হয়।

তারেক রহমান বলেন, বিএনপি যদি জনগণের সমর্থনে আগামী দিনে সরকার গঠনের সক্ষমতা অর্জন করে, তবে জুলাই আন্দোলনে শহীদ ও আহতদের পরিবারগুলোর কষ্ট কিছুটা হলেও লাঘব করতে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে গঠিত নতুন বিভাগের মাধ্যমে তাদের নিয়মিত দেখভাল করা হবে। যারা হারিয়ে গেছেন, তাদের ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়-তবে তাদের পরিবারের জীবনযাত্রা, সুযোগ-সুবিধা ও প্রয়োজনীয় সহায়তার দায়িত্ব রাষ্ট্রকেই নিতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়