‘মবতন্ত্রের’ চাপে প্রশাসন, অভিযোগ জাপা মহাসচিবের
ছবি: সংগৃহীত
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যদি লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত হয় এবং ভোটের সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় থাকে, তবে জাতীয় পার্টি (জাপা) ৪০ থেকে ৭০টি আসনে চমকপ্রদ ফল পেতে পারে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন দলটির মহাসচিব শামীম হায়দার পাটোয়ারী।
রবিবার (১১ জানুয়ারি) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে রিটার্নিং কর্মকর্তাদের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে করা আপিল শুনানি শেষে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এই রাজনৈতিক সমীকরণের কথা জানান।
শামীম হায়দার পাটোয়ারী জানান, গত ১২ থেকে ২৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশের রাজনৈতিক ও অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে অনেক প্রার্থী সময়মতো বা নির্ভুলভাবে মনোনয়ন পত্র জমা দিতে পারেননি।
তিনি বলেন, গতকাল আমাদের দলের ১৩ জন প্রার্থীর আপিল শুনানি হয়েছে, যার মধ্যে ১১ জনের প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণা করেছে আপিল ট্রাইব্যুনাল। আজ কুমিল্লা-১ আসনের প্রার্থী সৈয়দ মোহাম্মদ ইফতেকার আহসান ও বগুড়া-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মো. শরিফুল ইসলাম জিন্নার আপিলও গৃহীত হয়েছে। জাতীয় পার্টি মোট ২৪৪টি আসনে মনোনয়ন জমা দিয়েছিল, যার মধ্যে ২০০টি আগে থেকেই বৈধ ছিল। আপিল প্রক্রিয়া শেষে আমরা আশা করছি ২২০ থেকে ২৪০টি আসনে লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে প্রার্থীরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবেন।
নির্বাচন কমিশনের আপিল শুনানিতে অংশ নিয়ে জাপা মহাসচিব প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেন।
তিনি অভিযোগ করেন, মাঠ পর্যায়ে রিটার্নিং কর্মকর্তারা ‘মবতন্ত্র’ বা জনরোষের ভয়ে স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারেননি।
আরও পড়ুন: ‘জাতীয় পার্টি ও এনডিএফ প্রার্থীদের প্রার্থিতা কেন অবৈধ নয়’
শামীম হায়দার বলেন, রিটার্নিং কর্মকর্তারা মবের ভয়ে এবং ‘ট্যাগিং’ হওয়ার আতঙ্কে ক্ষুদ্র ও কারিগরি ভুলগুলোর জন্য মনোনয়ন বাতিল করেছেন। অতীতে রিটার্নিং কর্মকর্তারা ছোটখাটো ত্রুটি সংশোধনের সুযোগ দিলেও এবার সেই সহযোগিতার অভাব ছিল স্পষ্ট। এমনকি কুয়াশার কারণে লঞ্চে দেরি হওয়া বা সামান্য সময়ের পার্থক্যের কারণেও অনেকের মনোনয়ন গ্রহণ করা হয়নি।
তিনি আরও যোগ করেন, প্রশাসন শক্ত না হলে এবং মবকে আইনের আওতায় না আনলে একটি ‘মানহীন’ নির্বাচন হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হবে।
সারাদেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এখনো পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি উল্লেখ করে সাবেক এই সংসদ সদস্য বলেন, নিরাপত্তা ব্যবস্থা বর্তমানে কেবল ঢাকা ও নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় সীমাবদ্ধ। বগুড়ায় জেলা জাপা কার্যালয় দখল করে অন্য দলের ব্যানার লাগানোর ঘটনাকে তিনি ‘নজিরবিহীন’ হিসেবে বর্ণনা করেন।
তার দাবি, পুলিশ প্রশাসন এই দখল ঠেকাতে ব্যর্থ হয়েছে, বরং উল্টো জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধেই মিথ্যা জিডি করা হয়েছে।
তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যদি ধীরগতিতে কাজ করে এবং সেনা ও পুলিশ মোতায়েন জোরদার না হয়, তবে নির্বাচনের বৈধতা সংকটে পড়তে পারে।
ভোটের মাঠকে অত্যন্ত ‘ফ্লুইড’ বা পরিবর্তনশীল উল্লেখ করে শামীম হায়দার বলেন, জাতীয় পার্টি মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের শক্তি এবং ইসলামপন্থী ভোটারদের কাছেও গ্রহণযোগ্য। তবে একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের জন্য এখনই বড় রাজনৈতিক দল, প্রধান উপদেষ্টা এবং নির্বাচন কমিশনের উদ্যোগে আলোচনার টেবিলে বসা উচিত। ১৯৯১ বা ২০০৮ সালের মতো একটি রাজনৈতিক সমঝোতা না হলে নির্বাচনের পর অস্থিরতা আরও বাড়ার শঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।
তার মতে, জিএম কাদেরের নেতৃত্বে জাতীয় পার্টি এখনো ঐক্যবদ্ধ এবং শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে।
উল্লেখ্য, নির্বাচন কমিশনে জমা পড়া মোট ৬৪৫টি আপিল আবেদনের ওপর দ্বিতীয় দিনের মতো শুনানি চলছে আজ। আগামী ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত এই প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে।
নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি








