বিএনপির নেতৃত্বে নতুন অধ্যায়, চেয়ারম্যান হচ্ছেন তারেক রহমান
ছবি: সংগৃহীত
বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর মধ্য দিয়ে দলটির সর্বোচ্চ নেতৃত্বের পদে শূন্যতা সৃষ্টি হয়েছে। তবে দলীয় গঠনতন্ত্র অনুযায়ী এই শূন্যতা পূরণে কোনো সাংগঠনিক জটিলতা নেই। গঠনতন্ত্রের ৭-এর ‘গ’ ধারার (৩) উপধারা অনুযায়ী বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্বয়ংক্রিয়ভাবে দলের চেয়ারম্যানের দায়িত্বপ্রাপ্ত হয়েছেন।
যদিও এখন পর্যন্ত দলীয়ভাবে এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়নি এবং চলমান কার্যক্রমেও ‘চেয়ারম্যান’ পদবিটি ব্যবহার করা হচ্ছে না।
বিএনপির গঠনতন্ত্রের ৭-এর ‘গ’ ধারার (৩) উপধারায় স্পষ্টভাবে বলা আছে, ‘যেকোনো কারণে চেয়ারম্যানের পদ শূন্য হলে সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান অবশিষ্ট মেয়াদের জন্য চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন এবং গঠনতন্ত্র অনুযায়ী পরবর্তী চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব গ্রহণ না করা পর্যন্ত তিনি ওই দায়িত্বে বহাল থাকবেন।’
এই বিধান অনুযায়ী খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর আলাদা কোনো ঘোষণা ছাড়াই তারেক রহমান বিএনপির চেয়ারম্যানের দায়িত্বে অধিষ্ঠিত হয়েছেন বলে দলটির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের একাধিক নেতা নিশ্চিত করেছেন।
দলীয় সূত্র জানায়, খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক এবং বিএনপির পক্ষ থেকে ঘোষিত সাত দিনের শোক পালন চলছে। এমন পরিস্থিতিতে নেতৃত্বের পদ-পদবি নিয়ে আনুষ্ঠানিকতা এড়িয়ে যাওয়াকেই কৌশলগতভাবে উপযুক্ত মনে করছে দল।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির একাধিক নেতা জানিয়েছেন, স্থায়ী কমিটির আগামী বৈঠকে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে।
স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে শুধু বিএনপির নেতাকর্মী নয়, পুরো দেশ অভিভাবকহীনতায় আছে। তারেক রহমানও শোকে মুহ্যমান। এ রকম পরিস্থিতিতে দলের পদ-পদবি নিয়ে কারও কোনো চিন্তা নেই। তবে অবশ্যই তারেক রহমান এখন দলের চেয়ারম্যান।
২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়া কারাগারে যাওয়ার পর গঠনতন্ত্রের ৭-এর ‘গ’ ধারার (২) উপধারা অনুযায়ী সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে তারেক রহমান ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পান।
আরও পড়ুন: মায়ের অনুপস্থিতির শূন্যতা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়: তারেক রহমান
ওই উপধারায় বলা হয়েছে, ‘চেয়ারম্যানের সাময়িক অনুপস্থিতিতে সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে চেয়াম্যানের সমুদয় দায়িত্ব পালন করবেন।’
এই বিধানের আওতায় তারেক রহমান ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দল পরিচালনা করে আসছেন। খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর সেই দায়িত্ব স্বয়ংক্রিয়ভাবে পূর্ণাঙ্গ চেয়ারম্যানের পর্যায়ে উন্নীত হয়েছে।
বিএনপির একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, দলের স্থায়ী কমিটির সদস্যরা তারেক রহমানকে পূর্ণাঙ্গ চেয়ারম্যান হিসেবে ঘোষণা দিতে আগ্রহী হলেও তিনি নিজে তা এখনই কার্যকর করতে চান না।
তারেক রহমানের ঘনিষ্ঠদের মতে, তিনি তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মতামতের ভিত্তিতে পূর্ণাঙ্গভাবে চেয়ারম্যান পদে অধিষ্ঠিত হতে চান। মায়ের শোক এবং পরবর্তী রাজনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে তিনি আরও কিছুদিন অপেক্ষা করার পক্ষে মত দিয়েছেন।
স্থায়ী কমিটির এক প্রভাবশালী সদস্য বলেন, স্থায়ী কমিটির নেতারা ইতোমধ্যে রেজ্যুলেশন করার পক্ষে। কিন্তু ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তা বারণ করেছেন।
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর খালেদা জিয়া বিএনপির নেতৃত্বে আসেন। ১৯৮৩ সালের মার্চে তিনি সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান হন এবং ১৯৮৪ সালের ১০ মে বিএনপির চেয়ারপারসন নির্বাচিত হন। টানা প্রায় ৪২ বছর তিনি এ দায়িত্ব পালন করেছেন।
এই দীর্ঘ সময়ে খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপি তিনবার বাংলাদেশের রাষ্ট্রক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়।
তারেক রহমান ১৯৮৮ সালে বগুড়ার গাবতলী উপজেলা ইউনিটে সাধারণ সদস্য হিসেবে বিএনপিতে যোগ দেন। ১৯৯১ সালের নির্বাচনের আগে তিনি তার মায়ের সঙ্গে দেশের প্রায় প্রতিটি জেলায় প্রচারণা চালান।
২০০২ সালে তিনি বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব মনোনীত হন। ২০০৭ সালের ওয়ান-ইলেভেনের সময় গ্রেফতার হয়ে পরে চিকিৎসার জন্য যুক্তরাজ্যে যান। ২০০৯ সালে তিনি বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন এবং ২০১৮ সালে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
দীর্ঘ ১৭ বছরের প্রবাসজীবন শেষে তিনি ২০২৫ সালের ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফেরেন।
বিএনপির দলীয় সূত্রের ভাষ্য, সাংগঠনিক ধারাবাহিকতা ও রাজনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনায় আগামী এক থেকে দুই দিনের মধ্যে স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে। তবে সেটি নির্ভর করছে তারেক রহমানের সম্মতির ওপর।
বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান বলেন, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান কবে চেয়ারম্যান হিসেবে ঘোষণা হবেন, তা দলীয় সিদ্ধান্তের পরই জানা যাবে।
নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি








