News Bangladesh

নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১৭:৪৭, ১৬ জানুয়ারি ২০২৬
আপডেট: ১৭:৪৮, ১৬ জানুয়ারি ২০২৬

জামায়াতের নীতি ও আসন-বিতর্কে ভাঙল ‘১১ দল’, একক নির্বাচনে ইসলামী আন্দোলন

জামায়াতের নীতি ও আসন-বিতর্কে ভাঙল ‘১১ দল’, একক নির্বাচনে ইসলামী আন্দোলন

ছবি: সংগৃহীত

আসন বণ্টন নিয়ে দীর্ঘ টানাপোড়েন এবং আদর্শিক মতপার্থক্যের জেরে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় নির্বাচনী জোট থেকে বেরিয়ে আসার চূড়ান্ত ঘোষণা দিয়েছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। 

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কোনো জোটে না থেকে এককভাবে ২৬৮টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে চরমোনাই পীরের এই দলটি।

শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর পুরানা পল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে আনুষ্ঠানিকভাবে এ ঘোষণা দেন ইসলামী আন্দোলনের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব ও মুখপাত্র গাজী আতাউর রহমান। 

তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, তাদের দলের কোনো প্রার্থী মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করবেন না এবং আগামী নির্বাচনে তারা স্বতন্ত্র শক্তিতে ভোটের মাঠে থাকবেন।

আসন বণ্টন ও জোট ভাঙার নেপথ্য কারণ সংবাদ সম্মেলনে গাজী আতাউর রহমান অভিযোগ করেন, ১১ দলীয় জোট গঠনের মূল লক্ষ্য ও ইনসাফের প্রশ্নটি বর্তমানে উপেক্ষিত। 

তিনি বলেন, শুধুমাত্র কাঙ্ক্ষিত আসন না পাওয়ার বিষয়টিই নয়, বরং যে উদ্দেশ্যে জোট গঠিত হয়েছিল সেখান থেকে জোটের প্রধান শরিক জামায়াতে ইসলামী সরে গেছে। আমরা ইসলামী দলগুলোর ভোট ‘এক বাক্সে’ নেওয়ার যে নীতি ঘোষণা করেছিলাম, তা ভিন্নখাতে প্রবাহিত হচ্ছে।

সূত্রমতে, জোটের মধ্যে আসন ভাগাভাগি নিয়ে গত কয়েকদিন ধরেই দর কষাকষি চলছিল। ইসলামী আন্দোলন ৬০টি আসনের দাবি জানালেও জামায়াত ৪৫ থেকে ৪৭টি আসন দিতে রাজি হয়েছিল। 

এই মতপার্থক্যের পাশাপাশি জোটের শেষ মুহূর্তে এলডিপি, এবি পার্টি এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মতো দলগুলো যুক্ত হওয়াকে কেন্দ্র করে ইসলামী আন্দোলনের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি হয়। 

দলটির দাবি, অনেক সিদ্ধান্ত তাদের না জানিয়েই নেওয়া হয়েছে এবং জোটের রাজনীতি এখন সুশাসনের চেয়ে ‘ক্ষমতাকেন্দ্রিক’ হয়ে পড়েছে।

আরও পড়ুন: ১১ দলীয় জোটের আসন ভাগাভাগি চূড়ান্ত, জামায়াত ১৭৯

আদর্শিক সংঘাত ও জামায়াতের সমালোচনা জোট ত্যাগের পেছনে কৌশলগত কারণের পাশাপাশি কড়া আদর্শিক কারণও দেখিয়েছে ইসলামী আন্দোলন। 

জামায়াত আমিরের সাম্প্রতিক কিছু বক্তব্যের উদ্ধৃতি দিয়ে গাজী আতাউর রহমান বলেন, জামায়াত শক্তিশালী দল হতে পারে, কিন্তু ইসলামী আন্দোলন আদর্শিকভাবে তাদের চেয়ে শক্তিশালী। জামায়াত আমির শরীয়াহ আইন বাস্তবায়ন করবেন না বলে ঘোষণা দিয়েছেন এবং খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদের আশ্বস্ত করেছেন। তারা আল্লাহর আইন বাস্তবায়নের পথ থেকে বিচ্যুত হয়েছে, যা আমাদের পক্ষে মেনে নেওয়া সম্ভব নয়। 

এছাড়া নির্বাচনের আগেই আসন সমঝোতার প্রক্রিয়াকে ইঙ্গিত করে তিনি শঙ্কা প্রকাশ করেন যে, এটি নির্বাচন নাকি ‘সিলেকশন’ বা ‘পাতানো নির্বাচন’ হতে যাচ্ছে তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

নির্বাচনী প্রস্তুতি ও ৩২ আসনে সমর্থন নির্বাচনী প্রস্তুতির বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ৩০০ আসনের মধ্যে ২৭০টিতে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিল। এর মধ্যে দুজনের প্রার্থিতা বাতিল হওয়ায় বর্তমানে ২৬৮ জন প্রার্থী বৈধ হিসেবে মাঠে আছেন। বাকি ৩২টি আসনে প্রার্থী না থাকলেও সেখানে তারা হাত গুটিয়ে বসে থাকবে না। এই আসনগুলোতে সৎ, যোগ্য এবং ইসলামী আন্দোলনের নীতি-আদর্শের সঙ্গে মিল রয়েছে এমন প্রার্থীদের সমর্থন দেওয়া হবে। তবে কাদের সমর্থন দেওয়া হবে, তা পরবর্তী সময়ে আলোচনার ভিত্তিতে জানানো হবে।

প্রেক্ষাপট ও জোটের বর্তমান অবস্থা এর আগে বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) রাতে রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে এক সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতের নেতৃত্বাধীন জোটের শরিকরা ২৫৩টি আসনে চূড়ান্ত সমঝোতা ঘোষণা করে। সেখানে ইসলামী আন্দোলনের জন্য ৪৭টি আসন ফাঁকা রাখা হয়েছিল। 

ওই তালিকায় দেখা যায়, জামায়াতে ইসলামী ১৭৯টি, এনসিপি ৩০টি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ২০টি, খেলাফত মজলিস ১০টি, এলডিপি ৭টি, এবি পার্টি ৩টি এবং বিডিপি ও নেজামে ইসলাম পার্টি ২টি করে আসনে লড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

ইসলামী আন্দোলনের এই প্রস্থানে জামায়াত নেতৃত্বাধীন নির্বাচনী মোর্চায় বড় ধরনের ধাক্কা লেগেছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। তবে জামায়াতসহ জোটের অন্যান্য নেতারা এখনো আশাবাদী যে, মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ সময় পর্যন্ত সমঝোতার একটি পথ হয়তো উন্মুক্ত থাকতে পারে।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়