News Bangladesh

নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১৫:৪১, ১৪ জানুয়ারি ২০২৬
আপডেট: ১৬:৩৮, ১৪ জানুয়ারি ২০২৬

ব্যবসায় আমলাতান্ত্রিক নিয়ন্ত্রণ কমানোর ঘোষণা আমীর খসরুর

ব্যবসায় আমলাতান্ত্রিক নিয়ন্ত্রণ কমানোর ঘোষণা আমীর খসরুর

ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশে ব্যবসা-বাণিজ্যসহ প্রায় সব ক্ষেত্রেই অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণ বিদ্যমান, যা উদ্যোক্তা ও বিনিয়োগকারীদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। 

তিনি বলেছেন, শুধু রাজনৈতিক গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করলেই চলবে না; দেশের টেকসই উন্নয়নের জন্য অর্থনৈতিক গণতন্ত্র নিশ্চিত করা অপরিহার্য।

বুধবার (১৪ জানুয়ারি) রাজধানীর ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরা (আইসিসিবি)-তে ১৫তম গ্যাপেক্সপো-২০২৬ ও গার্মেনটেক বাংলাদেশ-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। 

একই দিনে আইসিসিবি-তেই বাংলাদেশ গার্মেন্টস এক্সেসরিজ, প্যাকেজিং ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিজিএপিএমইএ) আয়োজিত এক প্রদর্শনী ও আলোচনা সভায়ও তিনি একই ধরনের বক্তব্য তুলে ধরেন।

আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশে ব্যবসা করা অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং হয়ে উঠেছে। কিছু সীমিতসংখ্যক অসাধু ও প্রভাবশালী ব্যবসায়ীর দুর্নীতি এবং পৃষ্ঠপোষকতাভিত্তিক রাজনীতির কারণে সাধারণ ও সৎ ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। এই অবস্থা থেকে উত্তরণে ব্যবসা-বাণিজ্যে সবার জন্য সমান সুযোগ বা লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করা জরুরি।

তিনি বলেন, ব্যবসা-বাণিজ্যসহ প্রায় সব ক্ষেত্রেই বাংলাদেশ একটি অতিনিয়ন্ত্রিত দেশ। ব্যবসার পরিবেশ সহজ করতে হবে এবং আমলাতান্ত্রিক জটিলতা দূর করতে হবে। কাউকে পৃষ্ঠপোষকতার মাধ্যমে ব্যবসা করার সুযোগ দেওয়া হবে না। 

একই সঙ্গে তিনি রাজনীতির পাশাপাশি দেশের অর্থনীতিকেও গণতান্ত্রিক করার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

আরও পড়ুন: খালেদা জিয়ার আদর্শে বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় আমীর খসরুর

ব্যবসা সহজ করা ও খরচ কমানোর লক্ষ্যে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে আমীর খসরু বলেন, ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সরকারি আমলাতন্ত্রের সরাসরি যোগাযোগ কমানো হবে। সব কার্যক্রম ধাপে ধাপে ডিজিটাল পদ্ধতিতে সম্পন্ন করা হবে, যাতে হয়রানি কমে এবং স্বচ্ছতা বাড়ে।

তিনি আরও বলেন, ডেমোক্রেটাইজেশন অব ইকোনমি ছাড়া দেশের অর্থনীতি এগোবে না। অর্থনীতিতে সব শ্রেণির মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত না হলে প্রকৃত উন্নয়ন সম্ভব নয়। এ জন্য ইজ অব ডুয়িং বিজনেস এবং কস্ট অব ডুয়িং বিজনেস—এই দুই বিষয়কে অগ্রাধিকার দিয়ে কাঠামোগত সংস্কার করতে হবে।

সাবেক এই বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, সরকার এককভাবে ব্যবসা সহজীকরণ ও ব্যয় হ্রাসের সবকিছু করতে পারবে না। এ ক্ষেত্রে ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি। ক্যাপাসিটি বিল্ডিং ছাড়া সরকারের সঙ্গে কার্যকর সমন্বয় সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, অতীতে ইউডি সার্টিফিকেটসহ বিভিন্ন প্রশাসনিক কার্যক্রম ব্যবসায়ী সংগঠনের মাধ্যমে সম্পন্ন করায় ব্যবসায়ীদের হয়রানি কমেছে এবং দক্ষতা বেড়েছে। ভবিষ্যতেও বন্ড সুবিধা, ব্যাক-টু-ব্যাক এলসি ও অন্যান্য প্রক্রিয়া আরও সহজ করা হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।

প্যাকেজিং শিল্পের সম্ভাবনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বৈশ্বিক বাজারে এই খাতে বাংলাদেশের জন্য বিশাল সুযোগ রয়েছে। বর্তমানে যেখানে প্রায় দেড় বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি হচ্ছে, সেখানে ভবিষ্যতে তা ৫০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করা সম্ভব। বিশ্বজুড়ে আধুনিক ও মানসম্মত প্যাকেজিংয়ের চাহিদা দ্রুত বাড়ছে, যা কাজে লাগাতে উদ্যোক্তাদের প্রস্তুত হতে হবে।

তিনি বলেন, বিএনপি ব্যক্তিখাতনির্ভর অর্থনীতিতে বিশ্বাস করে এবং ভবিষ্যতেও ব্যবসাবান্ধব নীতি অব্যাহত থাকবে। তবে এর জন্য ব্যবসায়ীদের মধ্যেও সততা, স্বচ্ছতা ও স্ব-নিয়ন্ত্রণ থাকতে হবে। পৃষ্ঠপোষকতাভিত্তিক ব্যবসা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় বলেও তিনি স্পষ্ট করেন।

শেষে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি না হলে অর্থনৈতিক উন্নয়ন অর্থহীন হয়ে পড়ে। সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করেই দেশের অর্থনীতিকে এগিয়ে নিতে হবে।

অনুষ্ঠানে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. আব্দুর রহমান খান বলেন, ব্যবসায়ীরা নানা ঝুঁকি নিয়ে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করছেন এবং দেশের অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করছেন। ব্যবসায়ীদের ভোগান্তি কমাতে সরকার ডিজিটালাইজেশনের মাধ্যমে কাজ করে যাচ্ছে বলেও তিনি জানান।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়