মঞ্চ ভাঙার অভিযোগ রুমিন ফারহানার, ব্যালটে জবাব দেওয়ার ডাক
ছবি: সংগৃহীত
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ ও বিজয়নগরের একাংশ) আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য প্রার্থী ও বিএনপি থেকে সদ্য বহিষ্কৃত নেত্রী ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা অভিযোগ করেছেন, তার পূর্বনির্ধারিত নির্বাচনী সভার মঞ্চ প্রতিপক্ষ প্রার্থীর অনুসারীরা ভেঙে দিয়েছে।
সোমবার (৫ জানুয়ারি) বিকেলে সরাইল উপজেলার অরুয়াইল বাজারে আয়োজিত এক পথসভায় তিনি এই অভিযোগ করেন। মঞ্চ না থাকায় শেষ পর্যন্ত নিজের গাড়ির ওপর দাঁড়িয়ে উপস্থিত জনসাধারণের উদ্দেশ্যে বক্তব্য দেন তিনি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার হাওরবেষ্টিত অরুয়াইল ইউনিয়নের অরুয়াইল আবদুস সাত্তার ডিগ্রি কলেজ মাঠে সোমবার বিকেলে রুমিন ফারহানার এই সভা করার কথা ছিল। সেই লক্ষ্যে সকাল থেকেই কলেজ মাঠে একটি মঞ্চ তৈরি করা হয়। তবে বিকেলে সভাস্থলে পৌঁছে মঞ্চ ভাঙা অবস্থায় দেখতে পান তিনি। এর ফলে তিনি সেখানে সভা করতে না পেরে অরুয়াইল বাজার এলাকায় নিজের গাড়িতে দাঁড়িয়েই বক্তব্য প্রদান করেন এবং পরবর্তীতে স্থানীয় বাজারে গণসংযোগ চালান।
পথসভায় ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা বলেন, অরুয়াইলে আজ আমার নির্ধারিত সভা ছিল এবং সেই অনুযায়ী কলেজ মাঠে একটি স্টেজ করা হয়েছিল। কিন্তু আমার প্রতিপক্ষ বা প্রতিদ্বন্দ্বীর লোকজন সেই স্টেজ ভেঙে দিয়েছে। আমি বাধ্য হয়ে আপনাদের দরজায় দরজায় গিয়েছি এবং শেষমেশ গাড়ির ওপর দাঁড়িয়ে কথা বলছি। আগামী ১২ তারিখ ব্যালটের মাধ্যমে আপনারা এই অন্যায়ের সমুচিত জবাব দেবেন। তবে বক্তব্যে তিনি সুনির্দিষ্টভাবে কোনো প্রার্থী বা দলের নাম উল্লেখ করেননি।
আরও পড়ুন: রুমিন ফারহানার সমর্থকরা মনোনয়নপত্র তুলবেন
নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি তুলে ধরে রুমিন ফারহানা বলেন, আমি এমপি থাকাকালীন অরুয়াইল চিত্রা নদীর ওপর সেতুর জন্য আবেদন করেছিলাম। আপনারা আমাকে নির্বাচিত করলে এই সড়ক, সেতু ও কালভার্টের কাজ সম্পন্ন করব। আমরা এই নতুন বাংলাদেশে আর কোনো দুর্নীতি, চাঁদাবাজি বা অবৈধ বালুর ব্যবসা প্রশ্রয় দেব না। নিরীহ মানুষকে টাকা দিয়ে মিথ্যা মামলায় জড়ানোর সংস্কৃতি বন্ধ করা হবে। নির্বাচিত হলে সরাইল-আশুগঞ্জকে নতুন রূপে সাজাব এবং শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও যুব উন্নয়নে বিশেষ প্রকল্প গ্রহণ করব।
এদিকে মঞ্চ ভাঙচুরের অভিযোগ প্রসঙ্গে সরাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. আবু বক্কর সরকার জানান, নির্বাচনী নিয়ম অনুযায়ী প্রতীক বরাদ্দের আগে প্রার্থীরা কোনো ধরনের সভা-সমাবেশ করতে পারেন না। তবে ওই প্রার্থীর পক্ষ থেকে মঞ্চ ভাঙচুরের কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। লিখিত অভিযোগ পেলে নির্বাচনী বিধি মোতাবেক বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।
উল্লেখ্য, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোটের শরিক দল জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিবকে জোটের প্রার্থী করা হয়েছে। দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে এই আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করায় সম্প্রতি বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত হন ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা।
নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি








