টাইম ম্যাগাজিনের বিশ্বের ১০০ প্রভাবশালীর তালিকায় তারেক রহমান
ছবি: সংগৃহীত
লন্ডনের ১৭ বছরের নিরিবিলি প্রবাস জীবন থেকে সরাসরি ঢাকার রাজপথ- মাত্র কয়েক মাসের ব্যবধানে এক আমূল পরিবর্তনের সাক্ষী হলেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বিশ্বখ্যাত মার্কিন সাময়িকী ‘টাইম’ প্রকাশিত ২০২৬ সালের বিশ্বের ১০০ প্রভাবশালী ব্যক্তির তালিকায় স্থান করে নিয়েছেন তিনি।
বুধবার (১৫ এপ্রিল) টাইমের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এই তালিকায় ‘লিডার’ বা নেতা ক্যাটাগরিতে ৬৭ নম্বরে তার নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। পোপ লিও চতুর্দশ, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির মতো বিশ্বনেতাদের সারিতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর এই অন্তর্ভুক্তিকে তাঁর নেতৃত্বের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
তারেক রহমানের ওপর বিশেষ প্রতিবেদনটি লিখেছেন টাইম ম্যাগাজিনের সিঙ্গাপুর ব্যুরো এডিটর ও ভূ-রাজনীতি বিশেষজ্ঞ চার্লি ক্যাম্পবেল।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালে শেখ হাসিনার শাসনামলের অবসানের পর বাংলাদেশের ক্ষমতার সমীকরণে যে বিশাল রদবদল আসে, তারেক রহমান সেই পরিবর্তনের মূল কারিগর। দীর্ঘ নির্বাসন শেষে দেশে ফিরে একটি অভাবনীয় নির্বাচনী জনরায়ের মাধ্যমে তিনি ‘আন্দোলনকারী’ থেকে সরাসরি ‘জাতীয় নেতায়’ রূপান্তরিত হয়েছেন।
প্রতিবেদনে তার রাজনৈতিক উত্তরাধিকারের প্রসঙ্গ টেনে বলা হয়, তিনি তার মা ও দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সুযোগ্য উত্তরসূরি হিসেবে নিজের অবস্থান সুসংহত করেছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, অতীতে তার বিরুদ্ধে থাকা দুর্নীতির অভিযোগগুলো আদালত কর্তৃক খারিজ হওয়া এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় তার বিপুল বিজয় তাকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে।
তারেক রহমানের এই বিজয় যেমন ঐতিহাসিক, তেমনি ছিল ব্যক্তিগতভাবে অত্যন্ত বেদনাদায়ক। গত বছরের ২৫ ডিসেম্বর দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর যখন তিনি দেশে ফেরেন, তার মাত্র পাঁচ দিনের মাথায় তিনি মাতৃহারা হন।
আরও পড়ুন: এজেডইসি সামিট: জ্বালানি সংকটে ২ বিলিয়ন ডলার সহায়তা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী
টাইম ম্যাগাজিনকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তারেক রহমান জানান, ব্যক্তিগত এই শোককে তিনি শক্তিতে রূপান্তর করে ১৭ কোটি মানুষের এই দেশকে ঐক্যবদ্ধ করার সংকল্প নিয়েছেন। ‘আই হ্যাভ এ প্ল্যান’ দেশের মাটিতে পা রেখেই দেওয়া তাঁর এই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে তিনি এখন নিরলস কাজ করছেন। তার মূল লক্ষ্য হলো দেশের প্রতিটি নাগরিকের রাজনৈতিক ও মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করা এবং বিভেদ ভুলে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশ গড়ে তোলা।
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র দুই মাসের মাথায় তারেক রহমান অত্যন্ত কঠিন পরিস্থিতির সম্মুখীন। দক্ষিণ এশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম এই অর্থনীতি বর্তমানে উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও বেকারত্বের চাপে ধুঁকছে।
টাইম-এর প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ভঙ্গুর গণতন্ত্র আর বিপর্যস্ত অর্থনীতিকে পুনর্গঠন করাই এখন তার নেতৃত্বের মূল ‘অগ্নিপরীক্ষা’। পাশাপাশি আঞ্চলিক পরাশক্তি ভারতের সঙ্গে ইতিহাসের সর্বনিম্ন পর্যায়ে থাকা কূটনৈতিক সম্পর্কের উন্নয়নকেও বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। তবে দায়িত্ব গ্রহণের স্বল্প সময়ের মধ্যে তাঁর গৃহীত পদক্ষেপগুলো আন্তর্জাতিক মহলে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে।
তারেক রহমানের এই আন্তর্জাতিক অর্জনে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন।
এক বিবৃতিতে তিনি জানান, এই স্বীকৃতি কেবল একজন নেতার নয়, বরং এটি বাংলাদেশের গণতন্ত্রকামী মানুষের বিজয়।
তিনি উল্লেখ করেন, যখন দেশের মানুষের ভোটাধিকার ও বাকস্বাধীনতা রুদ্ধ ছিল, তখন তারেক রহমান দূর প্রবাসে থেকেও সাহসিকতার সঙ্গে নেতৃত্ব দিয়েছেন। ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠনের পর এটি তাঁর নেতৃত্বের প্রথম বড় ধরনের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি।
টাইম ম্যাগাজিনের এই তালিকায় স্থান পাওয়া প্রমাণ করে যে, বাংলাদেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী কেবল ঘরোয়া রাজনীতিতে নয়, বরং বিশ্ব রাজনীতিতেও এক প্রভাবশালী কণ্ঠস্বর হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন। রাজনৈতিক বিভাজন কাটিয়ে একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণে তার এই বৈশ্বিক পরিচিতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি








