এজেডইসি সামিট: জ্বালানি সংকটে ২ বিলিয়ন ডলার সহায়তা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী
ছবি: সংগৃহীত
এশীয় অঞ্চলের জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলা এবং জরুরি জ্বালানি সংকট কাটিয়ে উঠতে আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগীদের কাছে ২ বিলিয়ন (২০০ কোটি) মার্কিন ডলার সহায়তা চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বুধবার (১৫ এপ্রিল) জাতীয় সংসদ ভবনে নিজ কার্যালয় থেকে ‘এশিয়া জিরো এমিশন কমিউনিটি (এজেডইসি) প্লাস’ অনলাইন সামিটে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে তিনি এই আহ্বান জানান।
জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির সভাপতিত্বে আয়োজিত এই সম্মেলনে এশিয়ার বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানগণ এবং আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
সম্মেলনে দেওয়া ভাষণে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট আমাদের পারস্পরিক নির্ভরতা ও দুর্বলতার বিষয়টি স্পষ্ট করে দিয়েছে। কোনো দেশের পক্ষেই এককভাবে এই বিশাল চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা সম্ভব নয়।
তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, বর্তমান সংকটের গভীরতা ১৯৭০-এর দশকের তেল সংকটের চেয়েও ভয়াবহ হতে পারে, যা বিগত কয়েক দশকের উন্নয়ন অর্জনকে স্থবির করে দেওয়ার ঝুঁকি তৈরি করেছে। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর থেকে অর্জিত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও দারিদ্র্য বিমোচনের সাফল্যগুলো রক্ষা করতে এই মুহূর্তে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ইতিবাচক ও দ্রুত সাড়া দেওয়া জরুরি।
আরও পড়ুন: ৫ লাখ সরকারি কর্মচারী নিয়োগের সিদ্ধান্ত হয়েছে: প্রধানমন্ত্রী
দেশের অভ্যন্তরে জ্বালানি সংকট ও এর অর্থনৈতিক প্রভাব নিয়ন্ত্রণে সরকারের গৃহীত বিভিন্ন স্বল্পমেয়াদী ব্যবস্থার কথা সম্মেলনে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানান, চাহিদা ব্যবস্থাপনার অংশ হিসেবে সরকারি অফিস ও বাজারের সময়সূচিতে পরিবর্তন আনা হয়েছে। এছাড়া জরুরি ভিত্তিতে জ্বালানি আমদানি বৃদ্ধি, বিকল্প উৎস অনুসন্ধান এবং ভোক্তা পর্যায়ে জ্বালানি রেশনিং নিশ্চিত করতে ‘ফুয়েল অ্যাপ’-এর মতো আধুনিক উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। তবে দীর্ঘমেয়াদী স্থিতিশীলতার জন্য আঞ্চলিক জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার এবং সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখতে সমন্বিত ও দূরদর্শী পদক্ষেপের ওপর তিনি বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।
কার্বন নিঃসরণ হ্রাস এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির সম্প্রসারণে ‘এজেডইসি প্লাস’ প্ল্যাটফর্মকে একটি কার্যকর মাধ্যম হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় এশীয় অঞ্চলে কার্বন নিঃসরণ কমিয়ে আনা এবং জিরো এমিশন লক্ষ্য অর্জনে আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদার করাই এই সম্মেলনের মূল উদ্দেশ্য। সম্মেলন আয়োজনের জন্য তিনি জাপানের প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান এবং স্বল্পোন্নত ও ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোকে অর্থনৈতিক ও সামাজিক বিপর্যয় থেকে সুরক্ষায় একটি শক্তিশালী বৈশ্বিক উদ্যোগের দাবি জানান।
প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব আবু আবদুল্লাহ এম ছালেহ জানান, বেলা ১২টা থেকে ঘণ্টাব্যাপী অনুষ্ঠিত এই সামিটে প্রধানমন্ত্রীর সাথে সংসদ ভবন কার্যালয়ে উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান এবং প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা এম হুমায়ুন কবির।
সম্মেলনে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমসহ ভারত, শ্রীলঙ্কা, ফিলিপাইন, সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম, দক্ষিণ কোরিয়া ও অস্ট্রেলিয়ার প্রতিনিধিরা যুক্ত ছিলেন। এছাড়া ইন্টারন্যাশনাল এনার্জি এজেন্সি (আইইএ) ও এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) প্রতিনিধিরা সম্মেলনে কার্বন নিঃসরণ হ্রাস ও টেকসই জ্বালানি ব্যবস্থার ওপর গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করেন। জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির সমাপনী বক্তব্যের মাধ্যমে সম্মেলনের সমাপ্তি ঘটে।
নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি








