ডিসি-এসপিদের জন্য নতুন নির্দেশনা
ফাইল ছবি
মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীদের জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের সফরকে কেন্দ্র করে অভ্যর্থনা ও বিদায় সংবর্ধনা প্রদানের প্রচলিত নিয়মে বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে সরকার।
সোমবার (২০ এপ্রিল) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত একটি নতুন নির্দেশনাবলি জারি করা হয়েছে। এই নতুন আদেশটি ২০২৪ সালের ২৭ আগস্ট জারি করা পূর্বের নির্দেশনার স্থলাভিষিক্ত হবে এবং অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে জানানো হয়েছে।
নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, কোনো মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী জেলা সদরে আগমন বা বিদায় নিলে সেখানে জেলা প্রশাসক (ডিসি), পুলিশ সুপার (এসপি) এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় পর্যায়ের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের উপস্থিত থাকতে হবে। তবে প্রটোকল ডিউটির কারণে ডিসি বা এসপিকে তাদের পূর্বনির্ধারিত কোনো সরকারি সফর বা কর্মসূচি বাতিল বা পরিবর্তন করতে হবে না। তাদের অনুপস্থিতিতে জ্যেষ্ঠ অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এই দায়িত্ব পালন করবেন। তবে বিশেষ ক্ষেত্রে যদি কোনো মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী ডিসি বা এসপির উপস্থিতি প্রত্যাশা করেন, তবে তাদের অবশ্যই উপস্থিত থাকতে হবে।
উপজেলা পর্যায়ের সফরের ক্ষেত্রে নিয়মে কিছুটা শিথিলতা আনা হয়েছে। এখন থেকে উপজেলা সদরে সফরের সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), সহকারী পুলিশ সুপার এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরের স্থানীয় জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা অভ্যর্থনা ও বিদায় সংবর্ধনা জানাবেন। বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া জেলা প্রশাসক বা পুলিশ সুপারের উপস্থিতি এখানে বাধ্যতামূলক নয়। তবে যাতায়াতের পথে যদি অন্য কোনো জেলার বিমানবন্দর বা রেলস্টেশন ট্রানজিট হিসেবে ব্যবহৃত হয়, তবে সেখানে সংশ্লিষ্ট জেলার জেলা প্রশাসকের একজন উপযুক্ত প্রতিনিধি উপস্থিত থাকবেন। এ ছাড়া বিভাগীয় কমিশনার যদি তার সদর দপ্তরে উপস্থিত থাকেন, তবে তিনি মন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্যমূলক সাক্ষাৎ করতে পারবেন।
আরও পড়ুন: মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের দেশ-বিদেশ সফরে প্রটোকলে নতুন নির্দেশনা
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নির্দেশনায় আকাশপথ ও রেলপথের প্রটোকল নিয়েও সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে। মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রীদের বিদেশ যাত্রা ও প্রত্যাবর্তনের সময় বিমানবন্দরে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব বা যুগ্ম সচিব উপস্থিত থাকবেন। অন্যদিকে, দেশের অভ্যন্তরে আকাশপথে ঢাকা ত্যাগ ও ফিরে আসার সময় মন্ত্রীর অভিপ্রায় অনুযায়ী তার একান্ত সচিব (পিএস) বিমানবন্দরে উপস্থিত থাকবেন।
রেলপথে ভ্রমণের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা এবং প্রটোকল ব্যবস্থাকে আরও জোরদার করা হয়েছে। সফরসূচি পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে রেলওয়ে পুলিশ সুপারকে সংশ্লিষ্ট রুটের সব পুলিশ স্টেশন বা ফাঁড়িকে আগাম অবহিত করতে হবে। মন্ত্রী যে স্টেশনে নামবেন, উঠবেন বা ট্রেন পরিবর্তন করবেন, সেখানে পুলিশের একজন ইন্সপেক্টর বা সাব-ইন্সপেক্টর উপস্থিত থাকবেন। তবে রেলযোগে চট্টগ্রামে যাতায়াতের ক্ষেত্রে সেখানে চট্টগ্রাম রেলওয়ের পুলিশ সুপারের ব্যক্তিগত উপস্থিতি নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সাধারণ নিরাপত্তা নিশ্চিতের প্রাথমিক দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট জেলার পুলিশ সুপারের ওপর ন্যস্ত থাকবে।
সফরসূচি ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা আনতে বলা হয়েছে যে, প্রতিটি সফরসূচি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছে যথাসময়ে পাঠাতে হবে এবং কোনো পরিবর্তন হলে তা দ্রুত অবহিত করতে হবে। বিশেষত সফরটি ‘সরকারি’ নাকি ‘ব্যক্তিগত’ তা মন্ত্রীর দপ্তর থেকে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করতে হবে। সরকারি সফরের ক্ষেত্রে যানবাহন ও বাসস্থানের ব্যবস্থা সরকার করলেও, ব্যক্তিগত সফরের ক্ষেত্রে সরকারি যানবাহন বা আবাসন ব্যবহার করলে প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী নির্ধারিত ফি বা মূল্য পরিশোধ করতে হবে। উল্লেখ্য যে, সার্কিট হাউজ বা সরকারি রেস্ট হাউজের পরিবর্তে যদি কোনো মন্ত্রী নিজ বাড়িতে বা অন্য কোথাও অবস্থান করেন, তবুও প্রটোকল ও নিরাপত্তার বিদ্যমান নিয়মগুলো একইভাবে প্রযোজ্য হবে।
নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি








