News Bangladesh

নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১৮:০১, ২০ এপ্রিল ২০২৬

মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের দেশ-বিদেশ সফরে প্রটোকলে নতুন নির্দেশনা

মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের দেশ-বিদেশ সফরে প্রটোকলে নতুন নির্দেশনা

ফাইল ছবি

মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীদের রাষ্ট্রীয় ও সরকারি কাজে বিদেশ ভ্রমণ এবং দেশের অভ্যন্তরে সফরের ক্ষেত্রে অনুসরণীয় রাষ্ট্রাচার বা প্রটোকল নিয়ে নতুন নির্দেশাবলি জারি করেছে সরকার। 

গত ১৬ এপ্রিল মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি স্বাক্ষরিত এই নির্দেশনাটি জারি করা হয়, যা আজ সোমবার (২০ এপ্রিল) জনসমক্ষে প্রকাশ করা হয়েছে। 

নতুন এই নির্দেশনায় ব্যক্তিগত সফরের ক্ষেত্রে সরকারি সুযোগ-সুবিধা গ্রহণের ব্যয়ভার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে বহন করার বিষয়টি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। ২০২৪ সালের ২৭ আগস্ট জারি করা এ সংক্রান্ত পূর্ববর্তী নির্দেশাবলি বাতিল করে এই নতুন নিয়মাবলী অবিলম্বে কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

নির্দেশনায় বলা হয়েছে, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীরা বিদেশ সফরে গেলে বা দেশে ফিরে এলে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব বা যুগ্ম সচিবকে অবশ্যই বিমানবন্দরে উপস্থিত থাকতে হবে। দেশের অভ্যন্তরে সফরের ক্ষেত্রে ঢাকায় যাত্রা ও প্রত্যাবর্তনের সময় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার উপস্থিতি নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে, পাশাপাশি মন্ত্রীর ইচ্ছা অনুযায়ী একান্ত সচিব (পিএস) সফর ব্যবস্থাপনায় সক্রিয় থাকবেন।

জেলা পর্যায়ের সফরে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের যথাসম্ভব অভ্যর্থনা ও বিদায় জানাতে বলা হলেও তাদের নিজস্ব সরকারি কার্যক্রম বাতিল করা বাধ্যতামূলক নয়। সে ক্ষেত্রে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক বা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার দায়িত্ব পালন করবেন। তবে মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী চাইলে জেলা প্রশাসক বা পুলিশ সুপার তাদের ব্যক্তিগত সফরসূচি পরিবর্তন করতে পারবেন। উপজেলা পর্যায়ে সফরের ক্ষেত্রে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, সহকারী পুলিশ সুপার এবং স্থানীয় জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের দায়িত্ব পালনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, যেখানে জেলা প্রশাসক বা পুলিশ সুপারের উপস্থিতি সাধারণত আবশ্যক নয়।

আরও পড়ুন: বাংলাদেশি পাসপোর্ট পেলো সৌদিতে অবস্থানরত ২২ হাজার রোহিঙ্গা

নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ঢাকা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও যশোরের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বিমানবন্দর বা স্টেশনে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া জেলা প্রশাসক বা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনারের উপস্থিতি বাধ্যতামূলক নয়। তবে ট্রানজিট হিসেবে অন্য জেলা ব্যবহৃত হলে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের প্রতিনিধি উপস্থিত থাকবেন। রেলপথে সফরের ক্ষেত্রে রেলওয়ে পুলিশকে পুরো রুটে নিরাপত্তা সমন্বয় ও প্রয়োজনীয় স্থানে কর্মকর্তার উপস্থিতি নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।

নিরাপত্তা ব্যবস্থার ক্ষেত্রে সফরসূচি পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পুলিশ সুপারদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সার্কিট হাউস বা সরকারি রেস্ট হাউসের বাইরে ব্যক্তিগত বাসভবনে অবস্থান করলেও নিরাপত্তা সংক্রান্ত রাষ্ট্রাচার প্রযোজ্য থাকবে।

সাধারণ নির্দেশনায় বলা হয়েছে, সফরসূচি যথাসময়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠাতে হবে এবং কোনো পরিবর্তন হলে তা দ্রুত জানাতে হবে। সফরের ধরন সরকারি না ব্যক্তিগত তা আগেই স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। সরকারি সফরের ক্ষেত্রে সব ধরনের যানবাহন ও আবাসন সুবিধা সরকার বহন করবে, তবে ব্যক্তিগত সফরে এসব সুবিধা গ্রহণ করলে তার ব্যয় নিজ দায়িত্বে পরিশোধ করতে হবে।

এছাড়া ব্যক্তিগত সফরে সরকারি সুবিধা গ্রহণের ক্ষেত্রে মূল্য পরিশোধ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে বলে পৃথক নির্দেশনায় পুনরায় স্পষ্ট করা হয়। একই সঙ্গে মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর একান্ত সচিব ও সহকারী একান্ত সচিবদের সফর ব্যবস্থাপনায় সক্রিয় ভূমিকা পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নতুন নির্দেশনার মাধ্যমে সফরকালীন প্রটোকল ব্যবস্থাকে আরও সুসংগঠিত, ব্যয় নিয়ন্ত্রিত এবং প্রশাসনিকভাবে স্পষ্ট করা হয়েছে বলে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নির্দেশনায় ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়