সংসদ থেকে বিরোধী দলের ওয়াকআউট
ছবি: সংগৃহীত
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ষষ্ঠ দিনে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন ও বিরোধীদলীয় নেতার বক্তব্য ভুলভাবে উপস্থাপনের (মিসকোট) প্রতিবাদে সংসদ কক্ষ ত্যাগ করেছেন বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যরা।
বুধবার (০১ এপ্রিল) বিকেল সাড়ে ৫টার পর জামায়াতে ইসলামীর আমীর ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে এই ওয়াকআউট কর্মসূচি পালন করা হয়। মূলত ‘জুলাই সনদ আদেশ’ নিয়ে বিতর্ক এবং সংবিধান সংস্কারের ইস্যুতে সরকারি ও বিরোধী পক্ষের মধ্যে ঐক্যমত না হওয়ায় অধিবেশনে চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।
প্রতিবাদের মূল কারণ ও প্রেক্ষাপট বিকেল ৫টা ৪০ মিনিটের দিকে ওয়াকআউটের ঘোষণা দিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সংবিধান সংস্কার পরিষদ কোনো নির্দিষ্ট দলের ইস্যু নয়; বরং এটি একটি জাতীয় আকাঙ্ক্ষা। নির্বাচনের আগে সরকারি ও বিরোধী দল উভয় পক্ষই এই পরিষদের প্রয়োজনীয়তার বিষয়ে একমত হয়েছিল এবং দেশবাসীর সামনে এটি বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। তবে আজকের অধিবেশনে এ বিষয়ে প্রতিকার চাওয়া হলেও তা নিষ্পত্তি না হওয়ায় জনগণের রায়ের অবমূল্যায়ন হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। একইসঙ্গে অধিবেশনে তার বক্তব্য ভুলভাবে উপস্থাপনের (মিসকোট) তীব্র নিন্দা জানান তিনি।
আরও পড়ুন: সংসদে প্রথমবারের মতো প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নোত্তর: ফ্যামিলি ও কৃষক কার্ডে গুরুত্ব
বিরোধীদলীয় নেতার বক্তব্য ওয়াকআউট ঘোষণা করার সময় ডা. শফিকুর রহমান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমরা প্রতিকার চেয়েছিলাম, কিন্তু তা পেলাম না। সংবিধান সংস্কার পরিষদের বিষয়টি কোনো দলের ব্যক্তিগত এজেন্ডা নয়। নির্বাচনের আগে আমরা সবাই এই লক্ষ্যে ক্যাম্পেইন করেছি। অথচ আজ সংসদে এর যথাযথ মূল্যায়ন হলো না, যা দেশবাসীর রায়ের প্রতিফলন নয়। বিরোধী দলে বসে জনগণের এই অবমূল্যায়ন আমরা মেনে নিতে পারি না। এর প্রতিবাদেই আমরা ওয়াকআউট করছি।
সংসদীয় পরিস্থিতি ও রাজনৈতিক সমীকরণ উল্লেখ্য যে, গত ১২ ফেব্রুয়ারির সাধারণ নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসনে জয়ী হয়ে বিএনপি সরকার গঠন করার পর ১২ মার্চ থেকে সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হয়। এবারের সংসদে জামায়াতে ইসলামী প্রধান বিরোধী দলের ভূমিকায় রয়েছে, যাদের সাথে রয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ও খেলাফত মজলিসসহ ১১ দলীয় নির্বাচনি সমঝোতার অংশীদাররা। এবারের নির্বাচনে জামায়াত জোট মোট ৭৭টি আসনে জয়ী হয়েছে।
আজকের এই ওয়াকআউটে জামায়াতে ইসলামীর পাশাপাশি এনসিপিসহ জোটভুক্ত অন্যান্য দলের সদস্যরাও যোগ দেন। এর আগে অধিবেশনের প্রথম দিনে রাষ্ট্রপতির ভাষণ প্রত্যাখ্যান করে তারা সংসদ কক্ষ ত্যাগ করেছিলেন। তবে কোনো সুনির্দিষ্ট ইস্যু বা আইনগত বিতর্কের জেরে আজকের এই ওয়াকআউটই চলতি সংসদের প্রথম বড় কোনো প্রতিবাদী পদক্ষেপ। বিরোধী দলের অনুপস্থিতিতেই পরবর্তীতে অধিবেশনের অন্যান্য কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি








