News Bangladesh

নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ২০:৪৫, ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

বাংলাদেশের সঙ্গে বহুমাত্রিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করতে চায় ভারত

বাংলাদেশের সঙ্গে বহুমাত্রিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করতে চায় ভারত

ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী হয়ে বিএনপি নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার গঠনের পর দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যকার বহুমাত্রিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার জোরালো আশাবাদ ব্যক্ত করেছে ভারত। একইসঙ্গে একটি গণতান্ত্রিক, প্রগতিশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে নয়াদিল্লি। 

শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) সাপ্তাহিক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল।

তিনি জানান, সাম্প্রতিক জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির নিরঙ্কুশ বিজয়ের পরপরই ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী নতুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। পূর্ণাঙ্গ ফল ঘোষণার আগেই ১৩ ফেব্রুয়ারি এক বিবৃতিতে শুভেচ্ছা জানান মোদী। ফল প্রকাশের দিন বিকালে টেলিফোনে কথা বলেও তাকে অভিনন্দন ও ভবিষ্যৎ কর্মকাণ্ডে সমর্থনের আশ্বাস দেন তিনি।

রণধীর জয়সওয়াল আরও জানান, গত ১৭ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় নতুন সরকারের শপথ অনুষ্ঠানে অংশ নেন ভারতের লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা। সেখানে তিনি প্রধানমন্ত্রী মোদীর একটি বিশেষ চিঠি তারেক রহমানের কাছে হস্তান্তর করেন এবং দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন। ওই চিঠিতে একটি গণতান্ত্রিক, প্রগতিশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশকে সমর্থন করার বিষয়ে ভারতের অঙ্গীকার স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে।

নতুন প্রশাসনের সঙ্গে উষ্ণ ও ঐতিহাসিক সম্পর্কের ভিত্তিতে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে আগ্রহী ভারত। মুখপাত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, বাণিজ্য, সাংস্কৃতিক ও কৌশলগতসহ সব ধরনের দ্বিপক্ষীয় বিষয়ে আলোচনা করতে প্রস্তুত নয়াদিল্লি। দুই দেশের বহুমুখী সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলো সম্প্রসারণে ভারত প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন রণধীর জয়সওয়াল। সাম্প্রতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে তিনি বলেন, মানব পাচার, গবাদিপশু পাচারসহ সীমান্তবর্তী অপরাধ রোধে কাঁটাতারের বেড়া প্রয়োজন। সীমান্তকে অপরাধমুক্ত রাখতে দুই দেশের গঠনমূলক সহযোগিতা জরুরি। সীমান্তে কাঁটাতার স্থাপন সংক্রান্ত যে চুক্তি রয়েছে, তা ইতিবাচকভাবে বাস্তবায়নে বাংলাদেশ এগিয়ে আসবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি। তার মতে, বিদ্যমান চুক্তির আলোকে কাজ চলছে এবং যৌথ উদ্যোগেই এ প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া উচিত।

আরও পড়ুন: ‘মাতৃভাষার মর্যাদা ও বীর শহীদদের আত্মদানই আমাদের প্রেরণা’

দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের আরেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ভিসা কার্যক্রম নিয়েও বক্তব্য দেন ভারতীয় মুখপাত্র। তিনি জানান, এ সংক্রান্ত বিষয়গুলো নিয়ে পর্যায়ক্রমে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে আলোচনা করবে নয়াদিল্লি। বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর দুই দেশের ভিসা কার্যক্রমে গতি ফিরতে শুরু করেছে। শুক্রবার থেকে দিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশন ভারতীয় নাগরিকদের জন্য ভিসা দেওয়া পুনরায় শুরু করেছে।

এর আগে সিলেটে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনার অনিরুদ্ধ দাস জানান, সব ধরনের ভারতীয় ভিসা প্রক্রিয়া শিগগিরই স্বাভাবিক পর্যায়ে ফিরে আসবে।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকারের পতনের পর ঢাকা ও নয়াদিল্লির সম্পর্কে দৃশ্যমান দূরত্ব তৈরি হয়। পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে গত ডিসেম্বরে ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরীফ ওসমান হাদির মৃত্যুকে ঘিরে উত্তেজনার ঘটনায়। সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যুর খবর প্রকাশের পর ১৮ ডিসেম্বর রাতে ঢাকায় দুটি পত্রিকা কার্যালয় ও ছায়ানট ভবনে হামলার ঘটনা ঘটে। একই রাতে চট্টগ্রামে ভারতীয় সহকারী হাইকমিশন কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ ও ঢিল ছোড়ার ঘটনা ঘটে।

এর পরিপ্রেক্ষিতে ২১ ডিসেম্বর থেকে চট্টগ্রামের ভারতীয় ভিসা আবেদন কেন্দ্রের কার্যক্রম স্থগিত করা হয়। পরদিন দিল্লি ও আগরতলা মিশন থেকেও ভিসা ও কনস্যুলার সেবা স্থগিত রাখার ঘোষণা দেয় বাংলাদেশ। তবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির বিজয়ের পর দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক হওয়ার ইঙ্গিত মিলতে শুরু করেছে।

নতুন সরকারের শপথ অনুষ্ঠানে অংশ নিতে নরেন্দ্র মোদীকে আমন্ত্রণ জানানো হলেও ‘এআই ইমপ্যাক্ট সামিট’-এ অংশগ্রহণের কারণে তিনি উপস্থিত থাকতে পারেননি। তার পরিবর্তে ভারতের প্রতিনিধিত্ব করেন লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা। বর্তমান প্রেক্ষাপটে উভয় দেশই পারস্পরিক আস্থা পুনর্গঠন এবং বহুমাত্রিক সহযোগিতা জোরদারের দিকেই অগ্রসর হচ্ছে বলে কূটনৈতিক মহলে মনে করা হচ্ছে।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়