News Bangladesh

নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ০৯:১০, ৩০ জানুয়ারি ২০২৬

গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হলেও মেয়াদ বৃদ্ধির গুঞ্জন ভিত্তিহীন

গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হলেও মেয়াদ বৃদ্ধির গুঞ্জন ভিত্তিহীন

ফাইল ছবি

আসন্ন গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হলে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মেয়াদ আরও ছয় মাস বৃদ্ধি পাবে বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া দাবিকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিকর বলে প্রত্যাখ্যান করেছে সরকার। 

বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) রাতে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং ফ্যাক্টসের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। 

বিবৃতিতে বলা হয়, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য গণভোটকে কেন্দ্র করে ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। 

একাধিক পোস্টে দাবি করা হচ্ছে, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের ফল এলে অন্তর্বর্তী সরকার ছয় মাস পর ক্ষমতা হস্তান্তর করবে, যা বাস্তবতার সঙ্গে কোনোভাবেই সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

সরকার জানায়, এই ভ্রান্ত দাবির পক্ষে ইন্ডিপেনডেন্ট টেলিভিশনের একটি ফটোকার্ড সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। টেলিভিশন চ্যানেলটির ফেসবুক পেজে প্রকাশিত ওই ফটোকার্ডে শিরোনাম ছিল ‘নির্বাচনের পর সংসদ সদস্যরা ১৮০ দিন গণপরিষদ হিসেবে কাজ করবেন: আলী রীয়াজ।’

এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে বিবৃতিতে বলা হয়, উক্ত বক্তব্যের উৎস যাচাই করে দেখা গেছে, জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহসভাপতি ও বিশিষ্ট রাষ্ট্রবিজ্ঞানী অধ্যাপক আলী রীয়াজ কোথাও বলেননি যে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার গণপরিষদ হিসেবে ১৮০ দিন দায়িত্ব পালন করবে। বরং তার বক্তব্য ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন প্রেক্ষাপটে।

অধ্যাপক আলী রীয়াজ স্পষ্টভাবে বলেছেন, গণপরিষদ বা সাংবিধানিক সংস্কার পরিষদ হিসেবে দায়িত্ব পালন করলে ক্ষমতা হস্তান্তরে কোনো বাধা সৃষ্টি হবে এমন ধারণা সম্পূর্ণ ভুল। 

তিনি ব্যাখ্যা করেন, নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা শপথ গ্রহণের প্রথম দিন থেকেই সংসদের স্বাভাবিক কার্যক্রম পরিচালনা করবেন। এর মধ্যে সরকার গঠন, রাষ্ট্র পরিচালনা ও বাজেট প্রণয়ন অন্তর্ভুক্ত থাকবে। 

আরও পড়ুন: গণভোটে প্রচারণা করতে পারবে না সরকারি কর্মচারীরা

পাশাপাশি তিনি বলেন, সংবিধানকে ফ্যাসিবাদের পথ থেকে সরাতে মৌলিক সংস্কার প্রয়োজন, যার জন্য নির্বাচিত সদস্যরা আলাদা শপথ নিয়ে ১৮০ দিনের মধ্যে সংস্কার কার্যক্রম সম্পন্ন করবেন।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, অধ্যাপক আলী রীয়াজের বক্তব্যকে বিকৃতভাবে উপস্থাপন করে এমন ধারণা ছড়ানো হচ্ছে যেন অন্তর্বর্তী সরকারই এই ১৮০ দিন দায়িত্ব পালন করবে, যা সম্পূর্ণ অসত্য। প্রকৃতপক্ষে, এই দায়িত্ব পালন করবেন পরবর্তী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিত সংসদ সদস্যরাই।

সরকারি ব্যাখ্যায় উল্লেখ করা হয়, ‘জুলাই জাতীয় সনদ (সাংবিধানিক সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫’-এ বিষয়টি স্পষ্টভাবে নির্ধারিত রয়েছে।

আদেশ অনুযায়ী, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট বেশি পড়লে সংসদের একটি দ্বৈত ভূমিকা থাকবে। অর্থাৎ নির্বাচিত প্রতিনিধিরা একই সঙ্গে জাতীয় সংসদের সদস্য এবং সাংবিধানিক সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

বিবৃতিতে আদেশের ৭ নম্বর অনুচ্ছেদের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়, গণভোটে উত্থাপিত প্রশ্নের বিপক্ষে নয়, বরং পক্ষে (‘হ্যাঁ’) ভোট বেশি পড়লে পরবর্তী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি সাংবিধানিক সংস্কার পরিষদ গঠিত হবে। এই পরিষদ প্রথম বৈঠকের দিন থেকে ১৮০ কর্মদিবসের মধ্যে জুলাই জাতীয় সনদ ও গণভোটের ফল অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সংস্কার কার্যক্রম সম্পন্ন করবে। নির্ধারিত সময় শেষে পরিষদের কার্যক্রম স্বয়ংক্রিয়ভাবে শেষ হয়ে যাবে।

সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, এই সময়কালে সংসদ সদস্যরা একদিকে সরকার গঠন ও রাষ্ট্র পরিচালনার সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন করবেন, অন্যদিকে সাংবিধানিক সংস্কারের ক্ষমতাও প্রয়োগ করবেন। তবে আদেশের কোথাও অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদ ১৮০ দিন বাড়ানোর কোনো বিধান বা ইঙ্গিত নেই।

বিবৃতিতে আরও জানানো হয়, সাংবিধানিক সংস্কার প্রক্রিয়া শেষ হলে সংসদের এই দ্বৈত ভূমিকার অবসান ঘটবে এবং নির্বাচিত প্রতিনিধিরা কেবল জাতীয় সংসদের সদস্য হিসেবেই দায়িত্ব পালন করবেন।

সবশেষে সরকার স্পষ্টভাবে জানায়, প্রচলিত আইন ও আদেশ অনুযায়ী অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদ বৃদ্ধির কোনো সুযোগ বা পরিকল্পনা নেই। বরং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো দাবি সম্পূর্ণ গুজব ও বিভ্রান্তিকর তথ্যের অংশ, যার সঙ্গে বাস্তবতা বা আইনি কাঠামোর কোনো সম্পর্ক নেই।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়