পে-স্কেলের দাবিতে বিক্ষোভ, শুক্রবার প্রতিবাদ সমাবেশ
ফাইল ছবি
বৈষম্যমুক্ত নবম পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশ এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খানের সাম্প্রতিক বক্তব্য প্রত্যাহারের দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠেছে সরকারি কর্মচারী ও শিক্ষক সমাজ।
ঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) দেশব্যাপী বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছেন বিভিন্ন সরকারি, আধা-সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীরা।
একই দাবিতে শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) সকালে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বড় ধরনের প্রতিবাদ সমাবেশের ডাক দিয়েছে বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী দাবি আদায় ঐক্য পরিষদ।
সরকারি কর্মচারীদের অভিযোগ, সম্প্রতি জ্বালানি উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খান সাংবাদিকদের জানান যে বর্তমান সরকার পে স্কেল বাস্তবায়ন করবে না এবং কেবল আন্দোলন স্তিমিত রাখতেই পে কমিশন গঠন করা হয়েছিল। কর্মচারী নেতারা এই বক্তব্যকে নিম্ন বেতনভুক্ত কর্মকর্তাদের সঙ্গে ‘তামাশা’ ও ‘রসিকা’ বলে আখ্যা দিয়েছেন।
সদস্যসচিব মো. মাহমুদুল হাসান ও মুখ্য সমন্বয়ক মো. ওয়ারেছ আলীর বিবৃতিতে দাবি করা হয়েছে, নবম পে-স্কেলের প্রজ্ঞাপন অবিলম্বে জারি করতে হবে এবং উক্ত মন্তব্য প্রত্যাহার করতে হবে।
আরও পড়ুন: নতুন পে-স্কেল নিয়ে বিপাকে সরকার
বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী দাবি আদায় ঐক্য পরিষদের সভাপতি মো. জাকির হোসেন ও মহাসচিব মো. বেল্লাল হোসেনের স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গত ১১ বছর ধরে সরকারি কর্মচারীরা পে-স্কেল বঞ্চিত। যদিও নবম পে কমিশন সম্প্রতি প্রতিবেদন দাখিল করেছে এবং বাজেটে অর্থের সংস্থান রয়েছে, প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়নি। ফলে কর্মচারীরা দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির বাজারে পরিবারে জীবিকা নির্বাহে চরম সমস্যার মধ্যে পড়ছেন।
সংগঠনগুলো কর্মসূচি অনুযায়ী ২৯ জানুয়ারি অফিস সময়ের মধ্যে দেশের সরকারি, আধা-সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত অফিসের সামনে এক ঘন্টাব্যাপী বিক্ষোভ পালন করেছেন। ৩০ জানুয়ারি সকাল ১০টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বৃহত্তর প্রতিবাদ সমাবেশের ডাক দেওয়া হয়েছে।
সংগঠনের নেতৃবৃন্দ হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, যদি নবম পে-স্কেলের প্রজ্ঞাপন জারি না হয়, তবে ১ ফেব্রুয়ারি থেকে গেজেট প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত দেশের সব জেলা ও অফিসে ধারাবাহিক কর্মসূচি চালানো হবে।
এছাড়া, এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা ‘এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণ প্রত্যাশী জোট’-এর ব্যানারে সমন্বিত বিক্ষোভ ও সমাবেশে অংশগ্রহণের ঘোষণা দিয়েছেন।
সদস্য সচিব অধ্যক্ষ দেলাওয়ার হোসেন আজিজী জানিয়েছেন, ২৯ জানুয়ারি দেশের সব এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হবে এবং ৩০ জানুয়ারি জাতীয় প্রেসক্লাবের সমাবেশে শিক্ষক-কর্মচারীরা ব্যাপকভাবে উপস্থিত থাকবেন। পাশাপাশি ৪ ফেব্রুয়ারির মধ্যে প্রজ্ঞাপন জারি না হলে ৫ ফেব্রুয়ারি সারাদেশে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করার পরিকল্পনা রয়েছে।
সংগঠনগুলো মনে করিয়ে দিয়েছেন, মূল্যস্ফীতি এবং দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির মধ্যে কর্মচারীরা ন্যায্য বেতন ও পে-স্কেল বাস্তবায়নের অধিকার রাখেন। নবম পে কমিশনের প্রতিবেদন সরকারের হাতে থাকা সত্ত্বেও গেজেট প্রকাশে দেরি এবং উপদেষ্টার উস্কানিমূলক মন্তব্য বর্তমান পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করেছে।
নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি








