News Bangladesh

নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১৯:৪৬, ২৭ জানুয়ারি ২০২৬

ড্রোন উৎপাদনে স্বনির্ভরতার পথে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী

ড্রোন উৎপাদনে স্বনির্ভরতার পথে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী

ছবি: সংগৃহীত

আকাশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতা জোরদার এবং প্রতিরক্ষা খাতে বিদেশি নির্ভরতা কমিয়ে স্বনির্ভরতা অর্জনের লক্ষ্যে এক ঐতিহাসিক মাইলফলক স্পর্শ করল বাংলাদেশ। দেশে প্রথমবারের মতো অত্যাধুনিক সামরিক ড্রোন বা মনুষ্যবিহীন আকাশযান (ইউএভি) উৎপাদন ও সংযোজন কারখানা স্থাপনের লক্ষ্যে চীনের সঙ্গে সরকারি পর্যায়ে (জিটুজি) একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) ঢাকা সেনানিবাসের বিমান বাহিনী সদর দপ্তরের এনেক্স ভবনে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী এবং চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান চায়না ইলেকট্রনিক্স টেকনোলজি গ্রুপ কর্পোরেশন ইন্টারন্যাশনাল (সিইটিসি)-এর মধ্যে এই সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। 

আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। 

চুক্তির উল্লেখযোগ্য দিকগুলোর মধ্যে রয়েছে প্রযুক্তি হস্তান্তর, সক্ষমতা বৃদ্ধি, শিল্প-দক্ষতা উন্নয়ন এবং যৌথ প্রযুক্তিগত সহযোগিতা। 

সামরিক ও প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এটি দীর্ঘমেয়াদে ড্রোন উৎপাদনে বাংলাদেশকে স্বনির্ভরতা অর্জনে সহায়তা করবে। বিমান বাহিনী প্রাথমিকভাবে বিভিন্ন ধরনের ‘মিডিয়াম অল্টিটিউড লং এনডিউরেন্স’ (মেইল) এবং ‘ভার্টিক্যাল টেক-অফ অ্যান্ড ল্যান্ডিং’ (ভিটল) ইউএভি উৎপাদন ও সংযোজনের সক্ষমতা অর্জন করবে। এছাড়া এই প্রকল্পের মাধ্যমে বিমান বাহিনী নিজস্ব নকশার ইউএভি উৎপাদনেও সক্ষম হবে।

আইএসপিআর জানায়, এই ড্রোনসমূহ সামরিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি মানবিক সহায়তা ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। চুক্তির ফলে দেশীয় ড্রোন উৎপাদনে পূর্ণ স্বনির্ভরতা অর্জনের সক্ষমতা প্রসারিত হবে, যা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক চাহিদা পূরণে সহায়ক হবে। একই সঙ্গে বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ, জ্ঞান বিনিময় ও দক্ষ অ্যারোস্পেস জনবল তৈরির মাধ্যমে জাতীয় প্রযুক্তিগত অগ্রগতিতেও অবদান রাখবে।

আরও পড়ুন: নির্বাচন-গণভোটে পেশাদারিত্ব নিশ্চিতের নির্দেশ সেনাপ্রধানের

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার লেফটেন্যান্ট জেনারেল এস এম কামরুল হাসান, প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের সচিব মো. সাইফুল্লাহ পান্না, লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের সচিব ড. হাফিজ আহমেদ চৌধুরীসহ বিমান বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে, সামরিক ড্রোন উৎপাদন কারখানা স্থাপনের জন্য চীনের সঙ্গে সরকারি পর্যায়ে (জিটুজি) চুক্তি স্বাক্ষরের প্রস্তুতি সম্পর্কে আইএসপিআর জানিয়েছে, বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে ইউএভি উৎপাদন ও সংযোজন, কারখানা স্থাপন এবং প্রযুক্তি হস্তান্তর-সংক্রান্ত চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে।

এ প্রকল্পের প্রস্তাব ৬ জানুয়ারি অর্থ মন্ত্রণালয় অনুমোদন দেয়। ‘স্টাবলিশমেন্ট অব ম্যানুফ্যাকচারিং প্ল্যান্ট অ্যান্ড ট্রান্সফার অব টেকনোলজি (টিওটি) ফর আনম্যানড এরিয়াল ভেহিকেল (ইউএভি)’ শীর্ষক প্রকল্পের জন্য ৬০৮ কোটি ৮ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এর মধ্যে ড্রোন ম্যানুফ্যাকচারিং প্ল্যান্ট স্থাপন, প্রযুক্তি আমদানি ও স্থাপনের জন্য এলসি খোলা এবং পরিশোধ বাবদ ৫৭০ কোটি ৬০ লাখ টাকা বরাদ্দ রয়েছে।

বৈদেশিক মুদ্রায় পরিশোধযোগ্য এই অর্থ চার অর্থবছরে ব্যয় করা হবে। চলতি অর্থবছরে ১০৬ কোটি টাকা, ২০২৬-২৭ ও ২০২৭-২৮ অর্থবছরে প্রতি বছরে ১৫৫ কোটি টাকা করে এবং ২০২৮-২৯ অর্থবছরে প্রায় ১৫৪ কোটি ৬০ লাখ টাকা পরিশোধের পরিকল্পনা রয়েছে। বাকি ৩৭ কোটি ৪৭ লাখ টাকা দেশীয় মুদ্রায় এলসি খোলার চার্জ, ভ্যাট ও সুইফট চার্জ হিসেবে খরচ হবে।

প্রস্তাব অনুযায়ী, বাংলাদেশ বিমান বাহিনী চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিরক্ষা ইলেকট্রনিকস প্রতিষ্ঠান সিইটিসি ইন্টারন্যাশনালের সরবরাহ করা প্রযুক্তি ব্যবহার করে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, এই প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী দেশেই সামরিক ড্রোন উৎপাদন, সংযোজন ও রক্ষণাবেক্ষণের সক্ষমতা অর্জন করবে। এতে দীর্ঘ মেয়াদে বিদেশি নির্ভরতা কমবে এবং প্রতিরক্ষা সক্ষমতা আরও শক্তিশালী হবে বলে তারা মনে করছেন।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়