News Bangladesh

নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১৮:২৩, ২৭ জানুয়ারি ২০২৬

তিন পার্বত্য জেলায় ১২ স্কুলে ই-লার্নিং কার্যক্রম উদ্বোধন

তিন পার্বত্য জেলায় ১২ স্কুলে ই-লার্নিং কার্যক্রম উদ্বোধন

ছবি: সংগৃহীত

তিন পার্বত্য জেলার দুর্গম জনপদে শিক্ষার আলো এবং আধুনিক প্রযুক্তির ছোঁয়া পৌঁছে দিতে ১২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ই-লার্নিং কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। 

মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) দুপুরে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনা থেকে ভার্চুয়ালি তিনটি প্রাথমিক ও নয়টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে তিনি এই কার্যক্রমের সূচনা করেন। 

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান উপদেষ্টা তিন পার্বত্য জেলার নির্বাচিত ১৪৯টি স্কুলে পর্যায়ক্রমে এই সুবিধা সম্প্রসারণের ঘোষণা দেন এবং এই সেবা পৌঁছাতে বিলম্ব হওয়ায় সরকারের পক্ষ থেকে দুঃখ প্রকাশ করেন।

সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, তিন পার্বত্য জেলায় মোট ১৪৯টি প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ই-লার্নিং কার্যক্রম শুরু করার কথা রয়েছে। তবে উদ্বোধনী দিনে মাত্র ১২টি বিদ্যালয়ে কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হয়েছে। 

এই প্রসঙ্গে প্রধান উপদেষ্টা ক্ষমা প্রার্থনা করে বলেন, এটি খুব দ্রুত সময়ে ১৪৯টি বিদ্যালয়ে সম্প্রসারিত করা হবে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সুপ্রদীপ চাকমা, প্রধান উপদেষ্টার এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক লামিয়া মোর্শেদ, প্রধান উপদেষ্টার ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ মিজানুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।

রাঙামাটির রাণী দয়াময়ী উচ্চ বিদ্যালয়, কাপ্তাই আল-আমিন নূরীয়া দাখিল মাদ্রাসা, ফারুয়া নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ইসলামাবাদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, খাগড়াছড়ির কমলছড়ি পাইলট হাই স্কুল, হাজাছড়ি জুনিয়র হাইস্কুল, মানিকছড়ি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, পুজগাং মুখ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বান্দরবানের বালাঘাটা আইডিয়াল স্কুল, হাজী ফিরোজা বেগম ওয়ামি একাডেমি, তিন্দু জুনিয়র হাই স্কুল এবং বগামুখ পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।

আরও পড়ুন: এফডিআই আনতে প্রবাসীদের জন্য ১.২৫% নগদ প্রণোদনা

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, সারা পৃথিবীতে ইন্টারনেট পৌঁছে গেছে অথচ তোমাদের ওখানে পৌঁছায়নি। এটা যে এতদিনেও হয়নি এজন্য সরকার দায়ী। আমরা ক্ষমাপ্রার্থী। আজকে শুরু করলাম মাত্র ১২টা স্কুল নিয়ে। অথচ এটা সাড়ে তিন হাজার স্কুলে শুরু হওয়ার কথা। আমাদের খুব তাড়াতাড়ি সে লক্ষ্যে পৌঁছাতে হবে।

তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, তোমাদের এত সুন্দর জায়গা, পৃথিবীতে এত সুন্দর জায়গা কয়টা আছে? অথচ ওখানে ভালো শিক্ষকরা যেতে চায় না। কারণ যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যেতে হয়। ইন্টারনেটের মজা হলো এখন আর এক শিক্ষকের ওপর নির্ভর থাকতে হবে না। শিক্ষক পৃথিবীর যেখানে আছে সেখান থেকেই তোমাকে পড়াবে। তোমার যে শিক্ষক পছন্দ তার কাছেই তুমি পড়তে পারবে। শিক্ষকের অভাবে তোমাদের শিক্ষার মান কমবে না।

প্রধান উপদেষ্টা আরও বলেন, ইন্টারনেটের মাধ্যমে দুনিয়াতে কী হচ্ছে সে তথ্য তোমরা জানতে পারবে। আরেকটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো স্বাস্থ্য। দুর্গম জায়গায় ভালো ডাক্তার পাওয়া যায় না। ইন্টারনেট থাকলে ডাক্তার যেখানেই থাকুক তোমরা যোগাযোগ করতে পারবে। পরামর্শ ও ওষুধ নিতে পারবে।

তিনি শিক্ষার্থী ও শিক্ষককে উদ্দেশ্য করে বলেন, আমরা সবাই এদেশের নাগরিক। অন্য নাগরিক যে অধিকার পায়, তোমরাও সে অধিকার পাবে। আল্লাহ অন্য সবার মতো তোমাদেরও বুদ্ধি দিয়েছে, যোগ্যতা দিয়েছে। বঞ্চিত থাকার কোনো কারণ নেই। তোমরাও সমান সুবিধা পাবে। এটা দিতে না পারা হলো সরকারের অযোগ্যতা, এই অযোগ্যতা থেকে আমরা যেন বের হয়ে আসতে পারি।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান উপদেষ্টা কয়েকজন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর সঙ্গে ভার্চুয়ালি মতবিনিময় করেন। শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা ই-লার্নিং কার্যক্রম শুরুর জন্য প্রধান উপদেষ্টাকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান।

পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সুপ্রদীপ চাকমা বলেন, আজ এই কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে সরকার তার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করল। শিক্ষায় পার্বত্য অঞ্চলে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন হচ্ছে। একে একে ১৪৯টি স্কুলে আমরা ই-লার্নিং কার্যক্রম শুরু করব। আরও বেশি স্কুলে আমাদের পৌঁছে যেতে হবে। সরকার পার্বত্য অঞ্চলের মানুষদের পেছনে রাখতে চায় না। পার্বত্য অঞ্চলের লোকজনও পিছিয়ে থাকতে চায় না। আমরা চাই পার্বত্য চট্টগ্রামের সাথে পুরো বাংলাদেশ, গোটা বিশ্ব আরও সংযুক্ত হোক।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়