News Bangladesh

নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১৬:০৬, ২২ ডিসেম্বর ২০২৫

প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারে হামলার ঘটনায় গ্রেফতার ১৭, শনাক্ত ৩১

প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারে হামলার ঘটনায় গ্রেফতার ১৭, শনাক্ত ৩১

ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর কারওয়ান বাজারে জাতীয় দৈনিক প্রথম আলো, দ্য ডেইলি স্টার এবং দুটি সাংস্কৃতিক সংগঠনের কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় এ পর্যন্ত ১৭ জনকে গ্রেফতার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। 

একই সঙ্গে সিসিটিভি ফুটেজ ও ভিডিও বিশ্লেষণের মাধ্যমে এই ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ৩১ জনকে প্রাথমিকভাবে শনাক্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)।

সোমবার (২২ ডিসেম্বর) দুপুরে রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন্স) এস এন মো. নজরুল ইসলাম। 

তিনি জানান, হামলার ঘটনায় জাতীয় দৈনিক প্রথম আলোর পক্ষ থেকে তেজগাঁও থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। তবে দ্য ডেইলি স্টার এখনও মামলা করেনি; তারা ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ শেষে মামলা করবে বলে জানিয়েছে। এ ঘটনায় পেনাল কোড, বিশেষ ক্ষমতা আইন, সাইবার সিকিউরিটি অধ্যাদেশ ও সন্ত্রাসবিরোধী আইনসহ মোট চারটি আইনে মামলা রুজু করা হয়েছে।

নজরুল ইসলাম বলেন, এ পর্যন্ত মোট ১৭ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এর মধ্যে থানা পুলিশ ১৩ জন, কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) তিনজন এবং ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) একজনকে গ্রেফতার করেছে। গ্রেফতার অভিযান এখনও চলমান রয়েছে বলেও জানান তিনি।

গ্রেফতারদের মধ্যে পরিচয় নিশ্চিত হওয়া ব্যক্তিরা হলেন মো. নাইম (২৬), মো. আকাশ আহমেদ সাগর (২৮), মো. আব্দুল আহাদ (১৮), মো. বিপ্লব (২২), মো. নজরুল ইসলাম ওরফে মিনহাজ (২০), মো. জাহাঙ্গীর (২৮), মো. সোহেল রানা (২৪), মো. হাসান (২২), রাসেল ওরফে সাকিল (২৮), মো. আব্দুল বারেক শেখ ওরফে আলামিন (৩১), মো. রাশেদুল ইসলাম (২৫), মো. সোহেল রানা (২৭), শফিকুল ইসলাম (৩৪), মো. প্রান্ত সিকদার ওরফে ফয়সাল আহমেদ প্রান্ত, আবুল কাশেম, রাজু হোসাইন চাঁদ ও সাইদুর রহমান (২৫)।

ডিএমপি জানায়, গ্রেফতারকৃতদের একজন মো. নাইমের কাছ থেকে এই ঘটনায় লুট হওয়া নগদ ৫০ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে নাইম স্বীকার করেছেন, তিনি মোট ১ লাখ ২৩ হাজার টাকা লুট করেছিলেন। লুটের ওই টাকা দিয়ে তিনি মোহাম্মদপুর এলাকা থেকে একটি টেলিভিশন ও একটি ফ্রিজ কিনেছিলেন, যা পুলিশ উদ্ধার করেছে।

আরও পড়ুন: প্রথম আলো কার্যালয়ে হামলা: ৫০০ জনকে আসামি করে মামলা

পুলিশ জানায়, সিসিটিভি ফুটেজ ও বিভিন্ন ভিডিও বিশ্লেষণ করে হামলা ও লুটপাটে জড়িত মোট ৩১ জনকে শনাক্ত করা হয়েছে। শনাক্তদের মধ্যে শেরপুর জেলার বাসিন্দা রাকিব হোসেন প্রথম আলো ও দ্য ডেইলি স্টার কার্যালয়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগে সক্রিয়ভাবে অংশ নেওয়ার ঘটনায় ভিডিও ফুটেজে ধরা পড়েন। তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম আইডি থেকে ধ্বংসস্তূপের ছবি পোস্ট করা হয় এবং উসকানিমূলক পোস্ট দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

গ্রেফতার কাশেম ফারুক বগুড়ার আল-জামিয়া আল-ইসলামিয়া কাসেমুল উলুম মাদ্রাসার সাবেক ছাত্র এবং ঢাকার মোহাম্মদপুর এলাকার বাসিন্দা। সাইদুর রহমান ফরিদপুর জেলার ভাঙ্গা উপজেলার নোয়াকান্দা গ্রামের বাসিন্দা। কারওয়ান বাজার রেললাইন এলাকা থেকে গ্রেফতার মো. সোহেল রানার বিরুদ্ধে ঢাকার বিভিন্ন থানায় মাদকসহ মোট ১৩টি মামলা রয়েছে। একই এলাকা থেকে গ্রেফতার মো. শফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে অতীতে অগ্নিসংযোগ ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় দুটি মামলা রয়েছে।

ডিএমপি জানায়, ১৮ ডিসেম্বর রাত আনুমানিক সাড়ে ১০টা থেকে ১৯ ডিসেম্বর ভোর ২টা ৩০ মিনিটের মধ্যে শাহবাগ মোড় থেকে কারওয়ান বাজার এলাকায় বিক্ষোভের সুযোগ নিয়ে কতিপয় দুষ্কৃতিকারী প্রথম আলো এবং পরে দ্য ডেইলি স্টার পত্রিকার কার্যালয়ে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট চালায়। ঘটনাস্থলে পুলিশ পৌঁছালে হামলাকারীরা পুলিশের ওপর মারমুখী আচরণ করে। পরে অতিরিক্ত পুলিশ ও সেনাবাহিনী মোতায়েন করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে এসে আগুন নির্বাপণ এবং ভবনে আটকে পড়াদের উদ্ধার করে।

গ্রেফতারদের রাজনৈতিক পরিচয় সম্পর্কে জানতে চাইলে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার নজরুল ইসলাম বলেন, রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা খোঁজার চেয়ে দুষ্কৃতিকারীদের আইনের আওতায় এনে প্রচলিত বিচারব্যবস্থার মাধ্যমে শাস্তি নিশ্চিত করাই পুলিশের মূল লক্ষ্য। অপরাধী যে দলেরই হোক বা যে মতাদর্শেরই হোক, কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।

এদিকে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যালোচনায় সংশ্লিষ্টদের নিয়ে বৈঠক করেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। বৈঠকে তিনি যে কোনো মূল্যে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং সহিংসতা ও বিশৃঙ্খলায় জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার নির্দেশনা দেন।

উল্লেখ্য, ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর ১৮ ডিসেম্বর ঢাকার রাজপথ উত্তাল হয়ে ওঠে। সেই উত্তেজনার মধ্যেই প্রথম আলো ও দ্য ডেইলি স্টার কার্যালয়ে হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানিয়েছে, এই ঘটনায় জড়িত অন্যদের গ্রেফতারে অভিযান ও তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়