News Bangladesh

নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১০:৪৯, ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

১০ মার্চ ফ্যামিলি কার্ড উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী

১০ মার্চ ফ্যামিলি কার্ড উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত

নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে বড় পদক্ষেপ হিসেবে আগামী ১০ মার্চ দেশব্যাপী ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বিতরণ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রান্তিক ও নিম্ন আয়ের পরিবারগুলোকে একটি সমন্বিত সুরক্ষা বলয়ের আওতায় আনাই এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য। 

সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি সূত্রগুলো এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

প্রেস উইং জানিয়েছে, প্রাথমিক পর্যায়ে দেশের ১৩টি জেলার একটি করে ওয়ার্ডে এই কর্মসূচি চালু হবে।

সরকারের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সুষ্ঠু বাস্তবায়নের লক্ষ্যে উপজেলা থেকে ওয়ার্ড পর্যায় পর্যন্ত পৃথক কমিটি গঠন করা হয়েছে। প্রতিটি কমিটির নেতৃত্বে থাকবেন প্রথম শ্রেণির একজন সরকারি কর্মকর্তা। উপজেলা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ের এসব কমিটি উপকারভোগীর তালিকা সর্বোচ্চ পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে চূড়ান্ত করবে।

এর আগে অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে জানানো হয়, প্রাথমিকভাবে দুটি উপজেলায় পরীক্ষামূলকভাবে কর্মসূচি চালুর পরিকল্পনা থাকলেও পরে তা সম্প্রসারণ করে ১৩টি উপজেলার ১৩টি ওয়ার্ডে বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সরকার ঈদের আগেই হতদরিদ্র মানুষের হাতে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দিতে গত ১৯ ফেব্রুয়ারি ‘ফ্যামিলি কার্ড প্রদানসংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি’ গঠন করে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জারি করা প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, প্রান্তিক ও নিম্ন আয়ের পরিবারকে সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করাই এ কমিটির প্রধান লক্ষ্য।

আরও পড়ুন: ‘কৃষক কার্ড’ চালু করতে যাচ্ছে সরকার

অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীকে কমিটির সভাপতি করা হয়েছে। তাঁর নেতৃত্বে ১৪ সদস্যের এই কমিটিতে রয়েছেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী, সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী, উপদেষ্টা মাহদী আমিন, উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ, মন্ত্রিপরিষদ সচিব, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব, নির্বাচন কমিশন সচিব, অর্থ সচিব, তথ্য সচিব, স্থানীয় সরকার সচিব, পরিকল্পনা সচিব ও সমাজকল্যাণ সচিব।

সরকারি দায়িত্বশীলরা জানান, বিএনপির অন্যতম নির্বাচনী অঙ্গীকার ছিল ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি চালু করা। সরকার গঠনের পরপরই অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এটি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়। 

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টারা উল্লেখ করেছেন, বিদ্যমান বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে প্রায় ৫০ শতাংশ লক্ষ্যভিত্তিক ত্রুটি থাকায় বিপুল অর্থ অপচয় হচ্ছে। ফ্যামিলি কার্ড চালুর মাধ্যমে একাধিক সহায়তা কার্যক্রম সমন্বিত করে এ ত্রুটি কমানো সম্ভব হবে।

উপকারভোগী নির্বাচন জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্যের ভিত্তিতে প্রাথমিকভাবে নির্ধারণ করা হবে। তবে আর্থিক তথ্যের ঘাটতি থাকায় সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডে সরেজমিন যাচাই-বাছাই করে চূড়ান্ত তালিকা প্রস্তুত করা হবে। পরিবারগুলোকে হতদরিদ্র, দরিদ্র, মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্ত এই চার শ্রেণিতে ভাগ করার পরিকল্পনা রয়েছে।

সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রতিটি ফ্যামিলি কার্ডে পাঁচজন সদস্য অন্তর্ভুক্ত থাকবে। কোনো পরিবারের সদস্যসংখ্যা পাঁচের বেশি হলে প্রতি পাঁচজনের জন্য আলাদা কার্ড দেওয়া হবে। একই ব্যক্তি একাধিক ভাতা গ্রহণ করতে পারবেন না; তবে পরিবারের অন্য সদস্যরা তাদের প্রাপ্য সুবিধা নিতে পারবেন। নারীদের পরিবারপ্রধান হিসেবে কার্ড প্রদান করা হবে।

প্রথম ধাপে যেসব এলাকায় ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করা হবে সেগুলো হলো বনানীর কড়াইল বস্তি, পাংশা, পতেঙ্গা, বাঞ্ছারামপুর, লামা, খালিশপুর, চরফ্যাশন, দিরাই, ভৈরব, বগুড়া সদর, লালপুর, ঠাকুরগাঁও ও নবাবগঞ্জ। অনুদানের অর্থ ব্যাংক অথবা মোবাইল আর্থিক সেবার মাধ্যমে বিতরণ করা হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়