দেশের ১১তম প্রধানমন্ত্রী হলেন তারেক রহমান
তারেক রহমানকে প্রধানমন্ত্রীর শপথ পড়ান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া
বাংলাদেশে সূচিত হলো এক নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়। দীর্ঘ ২০ বছর পর আবারও রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় ফিরেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি); আর সেই ধারাবাহিকতায় গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় আয়োজিত এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মাধ্যমে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের ১১তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন তাকে প্রধানমন্ত্রীর শপথ ও গোপনীয়তার শপথ বাক্য পাঠ করান।
ঐতিহ্যগতভাবে বঙ্গভবনের দরবার হলে মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠিত হলেও, এবার বিএনপির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী অনুষ্ঠানটি জাতীয় সংসদ ভবনের উন্মুক্ত প্রাঙ্গণে আয়োজন করা হয়। পবিত্র কোরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে বিকেল ৪টার পর মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়।
শপথ গ্রহণ উপলক্ষ্যে দক্ষিণ প্লাজায় সুসজ্জিত মঞ্চ, সারিবদ্ধ টেবিল ও সাদা কাপড়ে মোড়ানো চেয়ারসহ প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছিল। মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি সম্পূর্ণ অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন।
শপথ অনুষ্ঠানে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসসহ অন্যান্য উপদেষ্টারা উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতা, বিদেশি কূটনীতিক এবং সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এই ঐতিহাসিক মাহেন্দ্রক্ষণে অংশ নেন। শপথ গ্রহণকে কেন্দ্র করে সংসদ ভবন ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছিল।
আরও পড়ুন: তারেক রহমানের নেতৃত্বে মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী হচ্ছেন যারা
গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি জোট ২১২টি আসনে জয় পেয়ে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। এর মাধ্যমে দেশের ইতিহাসে দলটি ষষ্ঠবারের মতো রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় প্রত্যাবর্তন করল।
অন্যদিকে, ৬৮টি আসন নিয়ে জাতীয় সংসদে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির সংসদীয় নেতা নির্বাচিত হয়েছেন ডা. শফিকুর রহমান।
মঙ্গলবার সকালেই নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণ সম্পন্ন হয়। সকাল পৌনে ১১টার দিকে বিএনপির সংসদ সদস্যরা এবং পরবর্তীতে জামায়াত, এনসিপিসহ অন্যান্য দল ও স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যরা শপথ নেন। সংসদ সদস্যদের শপথ বাক্য পাঠ করান প্রধান নির্বাচন কমিশনার এএমএম নাসির উদ্দিন।
শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার ১৮ মাস পর নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত হলো এই নতুন সরকার। এর মাধ্যমে প্রায় ২০ বছর পর আবারও ক্ষমতায় এলো বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল, যা ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত সরকারে ছিল।
বিএনপি সরকারের নতুন মন্ত্রিসভার সদস্য সংখ্যা দাঁড়াচ্ছে ৫০ জনে। এর মধ্যে ২৫ জন পূর্ণ মন্ত্রী এবং ২৪ জন প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। এ ছাড়া মন্ত্রিসভায় তিনজন টেকনোক্র্যাট সদস্য অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন।
এদিন সন্ধ্যায় নতুন মন্ত্রীদের দপ্তর বণ্টন করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন জারি করার কথা রয়েছে।
নিউজবাংলাদেশ.কম/এনডি








