News Bangladesh

নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ২১:১৩, ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

জাতিকে সুন্দর নির্বাচন উপহারের ওয়াদা পূরণ করেছি: সিইসি

জাতিকে সুন্দর নির্বাচন উপহারের ওয়াদা পূরণ করেছি: সিইসি

ছবি: সংগৃহীত

দীর্ঘ প্রতীক্ষিত ও দেশ-বিদেশে প্রশংসিত জাতীয় সংসদ নির্বাচন শেষে এখন রাষ্ট্র পরিচালনার আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার সূচনা হতে যাচ্ছে। আগামীকাল মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ বাক্য পাঠ করাবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন। স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের অনুপস্থিতিতে সাংবিধানিক শূন্যতা পূরণে এই বিশেষ দায়িত্ব পালন করতে যাচ্ছেন তিনি।

সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় সংসদ সচিবালয় থেকে শপথ পড়ানোর আনুষ্ঠানিক চিঠি পাওয়ার পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় সিইসি এ এম এম নাসির উদ্দিন সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন। 

তিনি বলেন, আমরা জাতিকে একটি সুন্দর নির্বাচন উপহার দেওয়ার ওয়াদা করেছিলাম এবং সেই ওয়াদা আমরা পূরণ করেছি।

এ সময় এমপিদের শপথ গ্রহণ প্রসঙ্গে তিনি জানান, আগামীকাল শপথ নেওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করতে পারবেন।

তবে নির্বাচন নিয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করে তিনি বলেন, আমরা নির্বাচন কমিশন হিসেবে যে সুন্দর নির্বাচন করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম, তা সম্পূর্ণ হয়েছে।

এর আগে নির্বাচন কমিশনার সচিব আখতার আহমেদ জানিয়েছেন, নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণের জন্য সংসদ সচিবালয় থেকে প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে চিঠি পাঠানো হয়েছে। 

সংসদ সচিবালয়ের সচিব কানিজ মওলা নিশ্চিত করেছেন, শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান সকাল ১০টা থেকে শুরুর দিকে হবে এবং প্রয়োজন অনুসারে গ্রুপভিত্তিকভাবে কয়েক দফায় আয়োজন করা হবে।

আরও পড়ুন: জুলাই সনদে এনসিপির স্বাক্ষর, ধন্যবাদ জানালেন প্রধান উপদেষ্টা

সংবিধান অনুযায়ী সাধারণত আগের সংসদের স্পিকার নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ পাঠ করান। তবে গত বছরের ২ সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদ স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী পদত্যাগ করায় এবং ডেপুটি স্পিকার শামসুল হক টুকু বর্তমানে কারাগারে থাকায় শপথ অনুষ্ঠান সরাসরি তাদের মাধ্যমে আয়োজন সম্ভব হচ্ছে না।

সংবিধানের ৭৪(৬) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, নতুন স্পিকার দায়িত্ব গ্রহণ না করা পর্যন্ত আগের স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকারকে পদে বহাল মনে করা হয়। তবে বাস্তব পরিস্থিতিতে তারা শপথ অনুষ্ঠান পরিচালনা করতে না পারায় বিকল্প সাংবিধানিক বিধান কার্যকর হচ্ছে।

সংবিধানের ১৪৮(১) ও ১৪৮(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, স্পিকার বা তার মনোনীত ব্যক্তির মাধ্যমে শপথ পাঠের বিধান থাকলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে ১৪৮(২ক) অনুচ্ছেদ প্রযোজ্য হচ্ছে। 

এই অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, গেজেট প্রকাশের তিন দিনের মধ্যে স্পিকার বা তার মনোনীত কেউ শপথ দিতে না পারলে পরবর্তী তিন দিনের মধ্যে প্রধান নির্বাচন কমিশনার শপথ পাঠ করাতে পারবেন। 

এছাড়া সংবিধানের তফসিল-৩ অনুযায়ী, স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার উভয়ই দায়িত্ব পালনে অক্ষম হলে রাষ্ট্রপতির অনুমোদন সাপেক্ষে প্রধান নির্বাচন কমিশনার শপথ পড়ানোর দায়িত্ব পালন করতে পারবেন।

এভাবে এবারের নির্বাচনের সুষ্ঠু আয়োজন এবং শপথ গ্রহণের বিষয়গুলো নিয়ে দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে কার্যকর সমাধান তৈরি করা হয়েছে, যা নির্বাচন কমিশনের স্বচ্ছতা ও দায়িত্বশীলতার প্রতিফলন হিসেবে ধরা হচ্ছে।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়