রোহিঙ্গা সংকটের একমাত্র সমাধান প্রত্যাবাসন: প্রধান উপদেষ্টা
ছবি: সংগৃহীত
মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে নিজ ভূমিতে ১০ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থীর নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনই চলমান সংকটের একমাত্র কার্যকর ও টেকসই সমাধান বলে মন্তব্য করেছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। এই লক্ষ্য অর্জনে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা (ইউএনএইচসিআর)-কে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
বুধবার (২৮ জানুয়ারি, ২০২৬) রাতে ঢাকার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় ইউএনএইচসিআরের নবনিযুক্ত কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ ইভো ফ্রেইজসেন প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এসব কথা বলেন।
সাক্ষাতে ইউএনএইচসিআরের প্রতিনিধি কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শিবিরে সহায়তা তহবিলের ‘নাটকীয় হ্রাস’ এবং শিবিরে বসবাসকারীদের জন্য আত্মনির্ভরতা ও জীবিকাভিত্তিক সুযোগ বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, সমস্যার উৎপত্তি মিয়ানমারে, তাই সমাধানও সেখান থেকেই আসতে হবে। শিবিরে একটি হতাশ ও ক্ষুব্ধ তরুণ প্রজন্ম বেড়ে উঠছে, যাদের হাতে প্রযুক্তির সহজ প্রবেশাধিকার রয়েছে। এটি কারও জন্যই ভালো বার্তা নয়। আমাদের দায়িত্ব হলো নিশ্চিত করা, তারা শান্তি ও মর্যাদার সঙ্গে নিজ দেশে ফিরে যেতে পারে।
প্রধান উপদেষ্টা উল্লেখ করেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গত এক বছরে রোহিঙ্গা সংকটকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তুলে ধরতে একাধিক উচ্চপর্যায়ের উদ্যোগ নিয়েছে। এর মধ্যে রমজান মাসে জাতিসংঘ মহাসচিবের শিবির পরিদর্শন উল্লেখযোগ্য, যা আন্তর্জাতিক মনোযোগ আকর্ষণে সহায়ক হয়েছে। তবু সংকটটি এখনো যথাযথ গুরুত্ব পাচ্ছে না।
আরও পড়ুন: মানবাধিকার সুরক্ষা ও দায়মুক্তির অবসানে ড. ইউনূসকে খোলা চিঠি অ্যামনেস্টির
ড. ইউনূস বলেন, রোহিঙ্গাদের দীর্ঘদিন শিবিরে অবস্থান কোনো সমাধান হতে পারে না, কারণ এতে ইতোমধ্যে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সঙ্গে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে নতুন করে উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান।
সাক্ষাতে ভাসানচরের রোহিঙ্গা পরিস্থিতি, আসন্ন জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট এবং দেশের গণতান্ত্রিক রূপান্তর নিয়েও আলোচনা হয়।
তিনি জানান, ভাসানচর থেকে অনেক শরণার্থী আশ্রয়কেন্দ্র ছেড়ে মূল ভূখণ্ডে মিশে গেছে, যা নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।
ইভো ফ্রেইজেন বলেন, ইউএনএইচসিআরের নবনিযুক্ত প্রধান বারহাম সালিহ শিগগিরই বাংলাদেশ সফরে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন এবং রোহিঙ্গা শিবিরগুলো পরিদর্শনের সম্ভাবনা রয়েছে। তার পূর্বসূরি ফিলিপ্পো গ্র্যান্ডি ২০১৭ সালের পর থেকে একাধিকবার শিবির পরিদর্শন করেছেন।
নির্বাচন প্রসঙ্গে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, বাংলাদেশ অবাধ, সুষ্ঠু ও উৎসবমুখর নির্বাচন আয়োজনের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত।
তিনি বলেন, নির্বাচন পরিচালনায় একটি নতুন মানদণ্ড স্থাপন করাই আমাদের মূল লক্ষ্য। একটি বিশ্বাসযোগ্য ও সুশৃঙ্খল নির্বাচন নিশ্চিত করা, নতুন ও প্রথমবারের ভোটারদের জন্য নির্বাচনি প্রক্রিয়াকে আনন্দময় ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করা আমাদের প্রতিটি প্রচেষ্টার কেন্দ্রে থাকবে।
সাক্ষাতে সরকারের এসডিজি সমন্বয়ক ও সিনিয়র সচিব লামিয়া মোরশেদও উপস্থিত ছিলেন।
নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি








