News Bangladesh

নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১৯:১৭, ২৭ জানুয়ারি ২০২৬
আপডেট: ২০:২৭, ২৭ জানুয়ারি ২০২৬

নির্বাচন ও গণভোটে যান চলাচলে ইসির নিষেধাজ্ঞা

নির্বাচন ও গণভোটে যান চলাচলে ইসির নিষেধাজ্ঞা

ফাইল ছবি

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে যান চলাচলের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখ নির্ধারিত ভোটগ্রহণকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে মোটর সাইকেলসহ বিভিন্ন যান্ত্রিক যানবাহন ও নৌযান চলাচলের ওপর ভিন্ন ভিন্ন মেয়াদে এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকবে। 

মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের নির্বাচন পরিচালনা-০২ অধিশাখার উপসচিব মোহাম্মদ মনির হোসেন স্বাক্ষরিত পৃথক দুটি চিঠিতে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ এবং নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়কে এই নির্দেশনা বাস্তবায়নের অনুরোধ জানানো হয়েছে।

ইসির জারিকৃত পরিপত্র অনুযায়ী, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি (বৃহস্পতিবার) ভোটগ্রহণের দিন ট্যাক্সিক্যাব, পিকআপ, মাইক্রোবাস ও ট্রাক চলাচলের ওপর ২৪ ঘণ্টার নিষেধাজ্ঞা বলবৎ থাকবে। এই নিষেধাজ্ঞা ১১ ফেব্রুয়ারি দিবাগত মধ্যরাত ১২টা থেকে শুরু হয়ে ১২ ফেব্রুয়ারি মধ্যরাত ১২টা পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। অন্যদিকে, ভোটার ও সাধারণ মানুষের যাতায়াতের সুবিধার্থে মোটর সাইকেল চলাচলের ওপর তিন দিন বা ৭২ ঘণ্টার বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। ১০ ফেব্রুয়ারি দিবাগত মধ্যরাত ১২টা থেকে শুরু হয়ে ১৩ ফেব্রুয়ারি দিবাগত মধ্যরাত ১২টা পর্যন্ত মোটর সাইকেল চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে। তবে মহাসড়কে দূরপাল্লার যানবাহন এবং আন্তঃজেলা যাতায়াতের ক্ষেত্রে প্রধান সড়কগুলো এই নিষেধাজ্ঞার আওতামুক্ত থাকবে।

একই সঙ্গে নৌপথেও কঠোর অবস্থান নিয়েছে কমিশন। চিঠিতে জানানো হয়েছে, ১১ ফেব্রুয়ারি দিবাগত মধ্যরাত ১২টা থেকে ১২ ফেব্রুয়ারি দিবাগত মধ্যরাত ১২টা পর্যন্ত সব ধরনের লঞ্চ ও ইঞ্জিন চালিত বোট (নির্দিষ্ট রুটে চলাচলকারী ব্যতীত) চলাচল বন্ধ থাকবে। তবে ভোটার ও জনসাধারণের চলাচলের একমাত্র মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত স্থানীয় নৌযান এবং দূরপাল্লার নৌযান চলাচলের ক্ষেত্রে এই নিষেধাজ্ঞা প্রযোজ্য হবে না। প্রধান নৌপথের বন্দর ও জরুরি পণ্য সরবরাহ সচল রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনে নিষেধাজ্ঞা শিথিলের ব্যবস্থা নিতে পারবেন।

আরও পড়ুন: ‘ভোট কেন্দ্রের ৪০০ গজের বাইরে মেলা বসলে সমস্যা নেই’

নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী, বেশ কিছু জরুরি খাত ও বিশেষ ব্যক্তি এই বিধিনিষেধের আওতার বাইরে থাকবেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, সশস্ত্র বাহিনী, প্রশাসন এবং অনুমতিপ্রাপ্ত পর্যবেক্ষক ও সংবাদপত্রের যানবাহন চলাচলে কোনো বাধা থাকবে না। এছাড়া জরুরি সেবা যেমন ওষুধ, স্বাস্থ্য-চিকিৎসা, অ্যাম্বুলেন্স, ফায়ার সার্ভিস, বিদ্যুৎ, গ্যাস, ডাক ও টেলিযোগাযোগ কাজে নিয়োজিত যানবাহন ও নৌযানগুলো ফ্রি থাকবে। বিটিআরসি থেকে লাইসেন্সপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানসমূহের যানবাহনকেও জরুরি সেবা হিসেবে গণ্য করা হবে। বিদেশগামী যাত্রী বা বিদেশফেরত আত্মীয়-স্বজনকে আনা-নেওয়ার ক্ষেত্রে টিকিট বা প্রয়োজনীয় প্রমাণ প্রদর্শন সাপেক্ষে ব্যক্তিগত যানবাহন বা ট্যাক্সি ব্যবহারের সুযোগ থাকবে।

নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের নির্বাচনি কার্যক্রমের সুবিধার্থে প্রতিটি নির্বাচনি এলাকায় প্রার্থী ও তাদের মনোনীত এজেন্টের (যথাযথ নিয়োগপত্র সাপেক্ষে) জন্য একটি করে ছোট আকৃতির যানবাহন (জিপ, কার বা মাইক্রোবাস) চলাচলের অনুমতি দেওয়া হবে। তবে এ ক্ষেত্রে রিটার্নিং অফিসারের বিশেষ অনুমোদন এবং গাড়িতে স্টিকার প্রদর্শন বাধ্যতামূলক। সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষকদের ক্ষেত্রেও কমিশনের অনুমতি সাপেক্ষে মোটর সাইকেল বা যানবাহন ব্যবহারের সুযোগ রাখা হয়েছে। নির্বাচনি কাজে নিয়োজিত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য কমিশন থেকে প্রয়োজনীয় পাসের ব্যবস্থা করা হবে।

ইসি জানিয়েছে, জাতীয় মহাসড়ক ও জেলা-মহানগরের সংযোগ সড়কগুলোতে সাধারণ যাতায়াত ব্যবস্থা শিথিল রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তবে স্থানীয় বাস্তবতা ও নিরাপত্তার খাতিরে সংশ্লিষ্ট জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনাররা চাইলে নতুন করে কোনো যানবাহনের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ বা বিদ্যমান নিয়ম শিথিল করার ক্ষমতা রাখবেন। 

ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ (বৃহস্পতিবার) সকাল ৭টা ৩০ মিনিট থেকে বিকেল ৪টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে স্বচ্ছ ব্যালট বাক্সের মাধ্যমে ভোটগ্রহণ চলবে। একই দিনে ভোটাররা তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ ও গণভোটের রায় প্রদান করবেন।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়