নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১৪:২৬, ৫ জুলাই ২০২৬
আপডেট: ১৬:১০, ৫ জুলাই ২০২৬

হামে শিশুমৃত্যু: ইউনূসসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন

হামে শিশুমৃত্যু: ইউনূসসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন

ফাইল ছবি

দেশে হামের টিকার তীব্র সংকট, সরবরাহ ব্যবস্থায় চরম ব্যর্থতা এবং দায়িত্বে অবহেলার কারণে ছয় শতাধিক শিশুর মৃত্যুর অভিযোগে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও সাবেক স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নুরজাহান বেগমসহ চারজনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলার আবেদন করা হয়েছে। 

রবিবার (০৫ জুলাই) সকালে ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলামের আদালতে মামলার আবেদনটি করেন সাউদা মুসকান নামের এক শিশুসন্তান হারানো বাবা সিরাজুল ইসলাম। আদালত বাদীর জবানবন্দি রেকর্ড করেছেন এবং মামলাটি গ্রহণ বা পরবর্তী পদক্ষেপের বিষয়ে আদেশের জন্য অপেক্ষমাণ রেখেছেন।

মামলার বাদী সিরাজুল ইসলাম জানান, মামলার অন্য দুই আসামি হলেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক ডা. মো. আবু জাফর এবং সাবেক প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। 

মামলার আবেদনে অভিযোগ করা হয়, বিবাদীদের চরম খামখেয়ালিপনা, টিকা সংগ্রহে ব্যর্থতা ও স্বাস্থ্য খাতে দায়িত্ব পালনে অবহেলার কারণে দেশে হামের প্রাদুর্ভাব মারাত্মক আকার ধারণ করে। যার ফলস্বরূপ দেশব্যাপী অন্তত ছয় শতাধিক শিশুর প্রাণহানি ঘটেছে এবং হাজারো শিশু বর্তমানে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। বাদী এই ঘটনাকে কেবল প্রশাসনিক ব্যর্থতা নয়, বরং সংবিধান অনুযায়ী জনস্বাস্থ্য ও জীবন রক্ষার রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব লঙ্ঘন এবং ক্ষমতার অপব্যবহার হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

আরও পড়ুন: মানবতাবিরোধী অপরাধে ইনুর ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড

ঘটনার বিস্তারিত বিবরণে বাদী জানান, শরীয়তপুর সদরের বাসিন্দা সিরাজুল ইসলামের ৯ মাস বয়সী কন্যাশিশু সাউদা মুসকান চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে হঠাৎ তীব্র জ্বরে আক্রান্ত হয়। স্থানীয় চিকিৎসায় পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়ায় মার্চের প্রথম সপ্তাহে শিশুটিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে যথাযথ শয্যা সংকট ও অক্সিজেনের তীব্র অভাবের পাশাপাশি চিকিৎসক ও নার্সদের অবহেলার শিকার হতে হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। চিকিৎসার অভাবে শিশুর অবস্থার অবনতি ঘটলে ২২ মার্চ তাকে মহাখালীর সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। 

অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়, সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক ও নার্সরা শিশুর মায়ের হাতে অক্সিজেন সিলিন্ডার ধরিয়ে দিয়ে তা মুখে লাগানোর নির্দেশ দেন। মা ব্যর্থ হলে একজন সুইপারকে দিয়ে সেই দায়িত্ব পালন করানো হয়, যার ঘণ্টা দুয়েক পরই শিশুটি মারা যায়।

বাদী সিরাজুল ইসলামের আইনজীবী তাছলিমা জাহান পপি বলেন, আদালতে আমরা অভিযোগগুলো বিস্তারিতভাবে উপস্থাপন করেছি। সঠিক সময়ে হামের টিকা সরবরাহ না থাকায় ভুক্তভোগী শিশুটি টিকা নিতে পারেনি, যা তার অকাল মৃত্যুর অন্যতম কারণ। 

বাদীর ভাষ্যমতে, সরকার ও স্বাস্থ্য বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা যদি টিকাদান কর্মসূচি যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করতেন, তবে এত শিশুর প্রাণহানি ঘটত না। এই অবহেলার দায় বিবাদীরা কোনোভাবেই এড়াতে পারেন না।

আইনি বিশ্লেষকদের মতে, রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় ব্যর্থতার এমন অভিযোগ অতীতে বিরল। বিশেষ করে সরকারি টিকা কর্মসূচি ব্যাহত হওয়ার ফলে শিশুর মৃত্যুর মতো স্পর্শকাতর বিষয়ে আইনি পদক্ষেপ দেশের স্বাস্থ্য খাতে জবাবদিহিতার নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে আদেশ প্রদান করলে তা স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনার দায়বদ্ধতা নিশ্চিতে গুরুত্বপূর্ণ নজির হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। বর্তমানে পুরো বিষয়টি বিচারিক প্রক্রিয়ায় থাকায় সংশ্লিষ্ট মহলগুলোর পক্ষ থেকে পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে নজর রাখছেন ভুক্তভোগী পরিবারগুলো।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়