News Bangladesh

নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১৮:২০, ২১ জানুয়ারি ২০২৬

পরোয়ানা জারির ৪০ মিনিটেই সিমিন রহমানের জামিন

পরোয়ানা জারির ৪০ মিনিটেই সিমিন রহমানের জামিন

ছবি: সংগৃহীত

ভুয়া স্বাক্ষর ও স্ট্যাম্প জালিয়াতি করে ট্রান্সকম গ্রুপের ১৪ হাজার ১৬০টি শেয়ার আত্মসাতের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় প্রতিষ্ঠানটির সিইও সিমিন রহমান ও তার মা মিসেস শাহনাজ রহমান আত্মসমর্পণ করে জামিন পেয়েছেন।

বুধবার (২১ জানুয়ারি) শুনানি শেষে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানার আদালত তাদের জামিন মঞ্জুর করেন।

মামলার অপর ৪ আসামি-সহ মোট ৬ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র গ্রহণের প্রক্রিয়া একই দিন সকালে ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. সেফাতুল্লাহের আদালতে সম্পন্ন হয়।

অভিযোগপত্র গ্রহণের সময় আদালতে উপস্থিত না থাকায় সিমিন রহমান ও তার মা শাহনাজসহ তিনজনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়। গ্রেফতারি পরোয়ানা দেওয়া অন্য একজন হলেন ট্রান্সকম গ্রুপের পরিচালক সামসুজ্জামান পাটোয়ারী।

মামলায় অভিযুক্ত ৬ আসামির মধ্যে ট্রান্সকম গ্রুপের পরিচালক মো. কামরুল হাসান, মো. মোসাদ্দেক, আবু ইউসুফ মো. সিদ্দিক আদালতে উপস্থিত ছিলেন। তাদের আইনজীবী স্থায়ী জামিন চেয়ে আবেদন করলে আদালত তা মঞ্জুর করেন।

তবে সিমিন রহমানসহ তিন আসামি আদালতে উপস্থিত না হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয় এবং প্রতিবেদন দাখিলের জন্য ২ ফেব্রুয়ারি দিন ধার্য করা হয়।

পরে বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে সিমিন রহমান ও তার মা শাহনাজ আদালতে আত্মসমর্পণ করেন। এই সময় তারা কালো বোরকা পরে ও মুখ ঢেকে আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

তাদের পক্ষে আইনজীবীরা জামিন আবেদন করলে আদালত ৫০০ টাকা মুচলেকায় জামিন মঞ্জুর করেন।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি শাযরেহ হক বাদী হয়ে গুলশান থানায় মামলা করেন। তদন্ত শেষে পিবিআই’র পরিদর্শক সৈয়দ সাজেদুর রহমান ১১ জানুয়ারি আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। এতে সিমিন রহমানসহ ছয়জনকে অভিযুক্ত করা হয়।

অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২০ সালের ১৩ জুন ঢাকায় বোর্ড মিটিং অনুষ্ঠিত হয়। মিটিংয়ের এজেন্ডা ছিল পূর্বের মিটিংয়ের সিদ্ধান্ত অনুমোদন, ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে অংশগ্রহণ ও ইলেকট্রনিক সিগনেচারের অনুমোদন, এবং লতিফুর রহমান কর্তৃক শেয়ার হস্তান্তরের বিষয়ে অনুমোদন।

তবে এই মিটিংয়ে হাজিরা শিটে লতিফুর রহমানকে ছুটিতে দেখানো হয়। হাজিরা শিটে আরশাদ ওয়ালিউর রহমানের স্বাক্ষর থাকলেও তিনি মিটিংয়ের সময় কুমিল্লায় অবস্থান করেন।

আরও পড়ুন: ট্রান্সকমের সিইও সিমিনসহ ৩ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা

অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, ওই বোর্ড মিটিংয়ের তৃতীয় এজেন্ডার মাধ্যমে লতিফুর রহমানের ২৩ হাজার ৬০০ শেয়ারের মধ্যে তার বড় মেয়ে সিমিন রহমানকে ১৪ হাজার ১৬০টি, ছেলে আরশাদ ওয়ালিউর রহমান ও ছোট মেয়ে শাযরেহ হককে ৪ হাজার ৭২০টি শেয়ারসহ সর্বমোট ২৩ হাজার ৬০০টি শেয়ার হস্তান্তর করা হয়।

শাযরেহ হক দাবি করেন, ২০২০ সালের ১৩ জুন এমন বোর্ড মিটিং অনুষ্ঠিত হয়নি। তদন্তকালে কম্পানির বর্তমান পরিচালককে ওই তারিখের বোর্ড মিটিং ও রেগুলেশনের কাগজপত্র উপস্থাপনের জন্য বলা হলে আসামিপক্ষ থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

এছাড়া তদন্তে বোর্ড মিটিংয়ের আগে কোনো ই-মেইল বা ডাকযোগে নোটিশ/চিঠির কপি পাওয়া যায়নি।

অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়েছে, ২০২০ সালের ১৩ জুন ট্রান্সকম লিমিটেডের শেয়ার হস্তান্তরের কাগজপত্র আরজেএসসিতে জমা দেওয়া হয়। ওই বছরের ১৭ আগস্ট শেয়ার হস্তান্তর হলেও নিয়ম অনুযায়ী ফি পরিশোধ না করে বিলম্বে ২ সেপ্টেম্বর ফি পরিশোধ করা হয়।

শেয়ার হস্তান্তর প্রক্রিয়ায় অনিয়ম করা হয়েছে। শেয়ার হস্তান্তরের সময় দাতা ও গ্রহীতা উভয় পক্ষ আরজেএসসিতে উপস্থিত ছিলেন না। শেয়ার হস্তান্তর প্রক্রিয়া চলাকালে শেয়ার গ্রহীতা (আসামিদের পক্ষে) শুধুমাত্র অ্যাডভোকেট নজরুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

কোম্পানি আইনের ৩৮ ধারার নিয়ম অনুযায়ী শেয়ার হস্তান্তরের সময় দাতা ও গ্রহীতা উভয়কে সশরীরে উপস্থিত থেকে আরজেএসসির প্রতিনিধির সম্মুখে স্বাক্ষর করা বাধ্যতামূলক। তবে এই নিয়ম অনুসরণ করা হয়নি, যা ১৯৯৪ সালের কোম্পানি আইনের ৩৮ ধারার লঙ্ঘন।

অভিযোগপত্রে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২০ সালে ভাই-বোনের ভুয়া স্বাক্ষর ব্যবহার করে বেশির ভাগ শেয়ার নিজের নামে নেওয়ার জন্য সিমিন গ্রুপ অব কম্পানির নথিপত্র ও পারিবারিক ডিড অব সেটলমেন্ট তৈরি করেন।

সিমিন রহমান দুটি ভুয়া স্ট্যাম্প এফিডেভিট ব্যবহার করে সেখানে ছোট বোন শাযরেহ হকসহ বাবা, ভাই ও অন্যদের স্ক্যান করা স্বাক্ষর ব্যবহার করে ট্রান্সকমের বেশির ভাগ শেয়ার ট্রান্সফারের দলিল তৈরি করেন এবং এগুলো আরজেএসসিতে দাখিল করেন।

শাযরেহ হকের নামে আরজেএসসিতে সিমিনের করা এফিডেভিটের নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্প ২০২৩ সালে সৃজনকৃত বলে ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে দেওয়া ডাক বিভাগ ও ঢাকা জেলা প্রশাসকের অফিসের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

চার্জশিটে বলা হয়, জাল সন্দেহ হওয়ায় দুটি স্ট্যাম্পের সত্যতা নিয়ে ঢাকার জেলা প্রশাসকের কাছে প্রতিবেদন চান আদালত। 

প্রতিবেদনে বলা হয়, যে ভেন্ডর থেকে এই স্ট্যাম্প দুটি সরবরাহের তথ্য রয়েছে, ওই ভেন্ডরের লাইসেন্স ২০২০ সালের ১৩ ডিসেম্বর বাতিল করা হয়।

ভেন্ডর ২০২৩ সালের স্ট্যাম্পকে অসদুপায়ে সংগ্রহ করে আসামিপক্ষকে ২০২০ সালের ৩ মার্চ নিজ স্বাক্ষরে সরবরাহ করেন।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়