সৌদি বিমানবন্দর ও তেল স্থাপনায় ফের হামলার হুমকি হুতিদের
ছবি: সংগৃহীত
সৌদি আরবের বিভিন্ন বিমানবন্দর ও কৌশলগত তেল স্থাপনায় ধারাবাহিক হামলার তীব্রতা বাড়িয়েছে ইয়েমেনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হুতি। সৌদি রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানি আরামকোর সদর দপ্তরে হামলার ঠিক একদিন পর বুধবার (১৪ অক্টোবর) এই স্থাপনাগুলোকে নিজেদের বৈধ লক্ষ্যবস্তু ঘোষণা করে আরও বড় ধরনের হামলার প্রকাশ্য হুমকি দিয়েছে ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীটি। এই পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক নিরাপত্তা ও উপসাগরীয় অঞ্চলে নতুন করে বড় ধরনের সংঘাতের শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, হুতিদের সাম্প্রতিক হামলায় সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলীয় শহর ধাহরানে অবস্থিত আরামকোর সদর দপ্তর এবং রাজধানী রিয়াদের কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। গত শনিবার রিয়াদের এই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে চালানো হামলায় ১৩ জনের প্রাণহানি ঘটে, যা গত এক দশকে সৌদি আরবের ভূখণ্ডে সবচেয়ে প্রাণঘাতী হামলার ঘটনা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। নিরাপত্তার স্বার্থে কর্তৃপক্ষ আগামী ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত বিমানবন্দরটি বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থা সৌদি আরবগামী তাদের বহু ফ্লাইট বাতিল করেছে।
অন্যদিকে, মঙ্গলবার রাতে ধাহরানে আরামকোর সদর দপ্তর কমপ্লেক্সে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানার পর সেখানে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ভবনটির কয়েকটি তলা ক্ষতিগ্রস্ত হলেও সৌদি জ্বালানি মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট সূত্র দাবি করেছে যে, এতে তাৎক্ষণিক কার্যক্রমে বড় কোনো ব্যাঘাত ঘটেনি এবং কর্মীদের সতর্কতামূলকভাবে বাসা থেকে কাজ করতে বলা হয়েছে। ধাহরানের এই কমপ্লেক্সটি আরামকোর অন্যতম প্রধান পরিচালনাকেন্দ্র, যেখান থেকে পাইপলাইন, শোধনাগার এবং তেল রপ্তানি টার্মিনালের বিশাল নেটওয়ার্ক তদারক করা হয়। এছাড়া বুধবার রিয়াদের আকাশসীমার দিকে ধেয়ে আসা হুতিদের একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার দাবি করেছে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট। ওই সময় রাজধানীতে বেশ কয়েকটি বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায় এবং সাময়িকভাবে আকাশপথের হুমকি নিয়ে সতর্কতা জারি করা হয়।
আরও পড়ুন: চীন থেকে আনা যন্ত্রাংশে দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র বানাচ্ছে হুতিরা
ইয়েমেনে সরকারি বাহিনীর চলমান সামরিক অভিযানে সৌদি আরবের প্রত্যক্ষ সমর্থনের জবাব দিতেই এই হামলাগুলো চালানো হচ্ছে বলে দাবি করেছে হুতিরা। চলতি বছর যুদ্ধবিরতির ভঙ্গুর শান্তি ভেঙে যাওয়ার পর গত মাসে লোহিত সাগরের উপকূল ধরে হুতিদের কৌশলগত অগ্রযাত্রা এবং বাব আল-মানদেব প্রণালির নিকটবর্তী হওয়া পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। বর্তমান সংঘাতের এই তীব্রতা সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের উচ্চাভিলাষী অর্থনৈতিক রূপান্তর ও তেলনির্ভরতা কমানোর পরিকল্পনাগুলোর জন্য বড় ধরনের ধাক্কা হিসেবে দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক নৌপরিবহন কোম্পানি, বেসামরিক নাগরিক ও তেল স্থাপনার কর্মীদের অবিলম্বে এসব সংবেদনশীল এলাকা থেকে সরে যাওয়ার কড়া সতর্কবার্তা দিয়েছে গোষ্ঠীটি।
এদিকে ভূরাজনৈতিক এই উত্তেজনার পাশাপাশি ইয়েমেনের অভ্যন্তরেও মানবিক সংকট চরমে পৌঁছেছে। আন্তর্জাতিক রেডক্রস জানিয়েছে, দেশটির বিভিন্ন রণাঙ্গনে লড়াই তীব্র আকার ধারণ করায় যুদ্ধাহত মানুষের সংখ্যা হু হু করে বাড়ছে এবং হাসপাতালগুলো চরম চিকিৎসা সংকটে পড়েছে।
অন্যদিকে, জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি) সতর্ক করে জানিয়েছে যে হুতিদের কঠোর অবরোধের কারণে সরকারি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে থাকা তাইজ শহরে জীবন রক্ষাকারী জরুরি সহায়তা পৌঁছানো সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। শহরটিতে বর্তমানে দুই লাখের বেশি নারী ও শিশুসহ প্রায় ছয় লাখ মানুষ চরম মানবেতর জীবনযাপন করছে। আঞ্চলিক এই সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে গোটা মধ্যপ্রাচ্যের অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা কাঠামো বড় ধরনের বিপর্যয়ের মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।
নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি








