রেফারির বিতর্কিত লাল কার্ডে নিষিদ্ধ হামজা
ফাইল ছবি
ইংলিশ ফুটবল লিগ (ইএফএল) চ্যাম্পিয়নশিপে পরাজয়ের তিক্ততার সাথে বড় ধাক্কা খেল শেফিল্ড ইউনাইটেড। পোর্টসমাউথের বিপক্ষে উত্তেজনাপূর্ণ ম্যাচে ৩-২ ব্যবধানে হেরে মাঠ ছেড়েছে দলটি। তবে হারের ক্ষতে বাড়তি লবণ ছিটিয়েছে দলের অভিজ্ঞ ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার হামজা চৌধুরীর লাল কার্ড ও নিষেধাজ্ঞা। দুই দফায় বিতর্কিত হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়ায় আগামী শনিবার ব্রিস্টল সিটির বিপক্ষে পরবর্তী ম্যাচে তাকে ছাড়াই মাঠে নামতে হবে শেফিল্ডকে।
পোর্টসমাউথের হোম গ্রাউন্ড ফ্রাটন পার্কে অনুষ্ঠিত ম্যাচের শুরু থেকেই লড়াই জমে ওঠে। ম্যাচের ৩৩তম মিনিটে প্রতিপক্ষের উইঙ্গার রায়ান কাভুমা ম্যাককুইনকে ফাউল করার অপরাধে রেফারি প্রথম হলুদ কার্ড দেখান হামজাকে। এই সিদ্ধান্ত নিয়ে তেমন দ্বিমত না থাকলেও, দশ মিনিট পর ৪৩তম মিনিটে ঘটে আসল বিতর্কিত ঘটনা। কাভুমা হামজার পায়ের ফাঁক দিয়ে বল বের করে সামনে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে দুই ফুটবলারের মধ্যে ধাক্কা লাগে এবং কাভুমা মাটিতে পড়ে যান। এতে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড তুলে নেন রেফারি, যার ফলে লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন বাংলাদেশের এই তারকা মিডফিল্ডার। ইএফএলের নিয়ম অনুযায়ী, এক ম্যাচে দুটি হলুদ কার্ড দেখলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা প্রযোজ্য হয়।
হামজাকে হারিয়ে ১০ জনের দলে পরিণত হওয়ার পরও দুর্দান্ত ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছিল শেফিল্ড। দুই গোলে পিছিয়ে পড়ার পর প্রতিপক্ষের ওপর চাপ সৃষ্টি করে ২-২ সমতা ফিরিয়ে আনে তারা। তবে ম্যাচের একদম শেষ মুহূর্তে, ৮৯তম মিনিটে এবু অ্যাডামসের গোলে শেষ রক্ষা হয়নি শেফিল্ডের; ৩-২ ব্যবধানের হার নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয় তাদের। এই হারের পর ১০ ম্যাচে ১২ পয়েন্ট নিয়ে তালিকার ১৫ নম্বরে নেমে গেছে শেফিল্ড ইউনাইটেড। অন্যদিকে, এক ম্যাচ কম খেলে ১১ পয়েন্ট নিয়ে ঠিক তাদের পরেই ১৬ নম্বরে অবস্থান করছে পোর্টসমাউথ।
আরও পড়ুন: লেস্টার ছেড়ে শেফিল্ডে স্থায়ী ঠিকানা গড়লেন হামজা
ম্যাচ শেষে রেফারির এমন বিতর্কিত ভূমিকা নিয়ে প্রকাশ্যে তোপ দেগেছেন শেফিল্ড ইউনাইটেডের প্রধান কোচ ক্রিস ওয়াইল্ডার। রেফারিংয়ের মান ও সিদ্ধান্ত বদল নিয়ে গভীর অসন্তোষ প্রকাশ করে তিনি দাবি করেন, শুরুতে রেফারি নাকি হামজাকে কার্ড না দেখানোর আশ্বাস দিয়েছিলেন। পরে প্রতিপক্ষ খেলোয়াড়দের দাবির মুখে রেফারি নিজের সিদ্ধান্ত বদলে হামজাকে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখান।
ক্ষোভ প্রকাশ করে ওয়াইল্ডার বলেন, হামজা ওই পরিস্থিতিতে আর কোথায় যেত? সে কি কাল্পনিক রেন্টাগোস্ট সিরিজের মিস্টার ক্লেপোলের মতো শূন্যে হাওয়ায় মিলিয়ে যাবে? মাঠের সর্বত্রই এমন স্বাভাবিক ধাক্কাধাক্কি ঘটে। এমনকি আমাদের খেলোয়াড় স্যাম ম্যাককালামকেও ম্যাচে তিন-চারবার এভাবে আটকে দেওয়া হয়েছিল।
রেফারির দ্বিমুখী নীতির কঠোর সমালোচনা করে তিনি আরও যোগ করেন, আমাদের সরাসরি বলা হয়েছিল যে হামজাকে লাল কার্ড দেওয়া হবে না। প্রতিপক্ষের আবেদনে সাড়া দিয়ে যেভাবে সিদ্ধান্ত বদলানো হলো, তাতে পরিষ্কার বোঝা যাচ্ছে আমরা অন্যায়ের শিকার হয়েছি।
সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্য ম্যাচের রেফারিংয়ের প্রসঙ্গ টেনে শেফিল্ড কোচ জানান, কুইন্স পার্ক রেনজার্স ও ওয়েস্ট হামের সাম্প্রতিক একটি ম্যাচে ৯৩ মিনিটে জার্সি টানার অপরাধে পেনাল্টি দেওয়া হয়েছিল। সে বিষয়টি উল্লেখ করে ওয়াইল্ডার প্রশ্ন তোলেন ফুটবলে কি এখন হালকা টান, মাঝারি টান কিংবা জোরে টান বলে আলাদা কোনো নিয়ম চালু হয়েছে? পুরো ম্যাচ জুড়ে রেফারির বেশ কয়েকটি পক্ষপাতদুষ্ট সিদ্ধান্ত তাদের চরম হতাশ করেছে বলে জানান তিনি।
দলীয় নির্ভরযোগ্য খেলোয়াড় হামজা চৌধুরীর অনুপস্থিতি ব্রিস্টল সিটির বিপক্ষে শেফিল্ডের জন্য বড় পরীক্ষা হতে যাচ্ছে। একই সঙ্গে রেফারির এই বিতর্কিত সিদ্ধান্ত ইএফএল চ্যাম্পিয়নশিপের চলতি মৌসুমে রেফারিংয়ের মান নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিল।
নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি








