চীন থেকে আনা যন্ত্রাংশে দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র বানাচ্ছে হুতিরা
ছবি: সংগৃহীত
চীনা সরবরাহকারীদের কাছ থেকে সংগ্রহ করা যন্ত্রাংশ ব্যবহার করে ইরানের তৈরি উন্নত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র খাইবার শেকান-এর আদলে নিজস্ব অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করছে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীরা। পরিকল্পনাটি সফল হলে প্রায় দুই হাজার কিলোমিটার পাল্লার এই ক্ষেপণাস্ত্রের মাধ্যমে সৌদি আরব ও ইসরায়েলের বিস্তীর্ণ এলাকায় হামলা চালানোর সক্ষমতা অর্জন করতে পারে গোষ্ঠীটি। তবে ক্ষেপণাস্ত্রটির উৎপাদন কত দূর এগিয়েছে এবং হুতিরা আদৌ পূর্ণাঙ্গ অস্ত্র তৈরি করতে পেরেছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়।
যুক্তরাজ্যভিত্তিক অস্ত্র গবেষণা সংস্থা কনফ্লিক্ট আর্মামেন্ট রিসার্চের (সিএআর) অনুসন্ধানের বরাতে মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) এ তথ্য প্রকাশ করেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল (ডব্লিউএসজে)।
ইয়েমেনি কর্তৃপক্ষের জব্দ করা দুটি চালানের যন্ত্রাংশ ও সংশ্লিষ্ট নথিপত্র বিশ্লেষণ করে গবেষকেরা ধারণা করছেন, হুতিদের অস্ত্র কর্মসূচি এখন শুধু বিদেশ থেকে তৈরি অস্ত্র সংগ্রহের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; বরং উন্নত ক্ষেপণাস্ত্রের বিভিন্ন অংশ সংগ্রহ করে নিজস্ব উৎপাদন ও সংযোজন সক্ষমতা বাড়ানোর দিকেও এগোচ্ছে তারা। খবরটি প্রকাশ করেছে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসও (এপি)।
সিএআরের অনুসন্ধান অনুযায়ী, ২০২৫ সালে জব্দ করা দুটি চালানে সাধারণ বাণিজ্যিক পণ্যের আড়ালে ক্ষেপণাস্ত্র তৈরিতে ব্যবহারের উপযোগী বিভিন্ন যন্ত্রাংশ আনার চেষ্টা করা হয়েছিল। পরে ইয়েমেনি কর্তৃপক্ষ এসব চালানের তথ্য গবেষণা সংস্থাটিকে সরবরাহ করে। জব্দ করা সামগ্রীর মধ্যে ছিল বিশেষভাবে তৈরি ধাতব যন্ত্রাংশ, ক্ষেপণাস্ত্রের ইঞ্জিন ও মূল কাঠামো তৈরির উপাদান, উড্ডয়নকালে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে ব্যবহৃত ফিন এবং কঠিন জ্বালানিচালিত রকেট মোটরের সঙ্গে সম্পর্কিত বিভিন্ন অংশ। পাশাপাশি পাওয়া গেছে বিশেষায়িত পরীক্ষার সরঞ্জাম ও তাপরোধী উপাদান তৈরির কাঁচামাল। এসব সামগ্রীর ধরন ও পারস্পরিক সম্পর্ক বিশ্লেষণ করে গবেষকেরা মনে করছেন, হুথিদের লক্ষ্য ইরানি নকশার একটি উন্নত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা গড়ে তোলা।
প্রতিবেদনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে উঠে এসেছে যন্ত্রাংশগুলোর বিশেষায়িত প্রকৃতি। কিছু সরঞ্জাম বেসামরিক শিল্পেও ব্যবহার করা সম্ভব হলেও, জব্দ করা কিছু উপাদান নির্দিষ্ট ধরনের ক্ষেপণাস্ত্রের জন্য তৈরি বলে গবেষকেরা মনে করছেন।
সিএআরের জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক ফ্যাবিয়ান হিন্টজের মতে, এ ধরনের যন্ত্রাংশ আমদানির ঘটনা থেকে বোঝা যায়, হুতিরা হয়তো ইতোমধ্যে উৎপাদন শুরু করেছে, অথবা সেই লক্ষ্যে কাজ করছে। তবে আমদানি করা উপকরণ পাওয়া যাওয়াই যে পূর্ণাঙ্গ ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন সফল হওয়ার প্রমাণ, তা নয়। হুতিদের অস্ত্র তৈরির স্থাপনাগুলো গোপন রাখা হয় বলে তাদের উৎপাদন সক্ষমতার প্রকৃত অবস্থা নির্ধারণ করাও কঠিন।
হুতিদের পরিকল্পিত ক্ষেপণাস্ত্রটির সম্ভাব্য নকশা ইরানের খাইবার শেকান ব্যবস্থার সঙ্গে সম্পর্কিত। ২০২২ সালে প্রকাশ্যে আনা এই ক্ষেপণাস্ত্রটি কঠিন জ্বালানিচালিত এবং নির্ভুল নিশানায় আঘাত হানার উপযোগী বলে পরিচিত। বিভিন্ন প্রতিবেদনে এর পাল্লা প্রায় ১ হাজার ৪০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ কিলোমিটার বলা হয়েছে।
অন্যদিকে, হুতিদের সম্ভাব্য সংস্করণটির পাল্লা প্রায় ১ হাজার ৯০০ থেকে ২ হাজার কিলোমিটার হতে পারে বলে ডব্লিউএসজের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে এই সক্ষমতা অর্জন করতে পারলে সৌদি আরবের বিস্তীর্ণ অঞ্চল ও ইসরায়েল হুতিদের সম্ভাব্য হামলার আওতায় চলে আসবে।
খাইবার শেকানের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো এর কঠিন জ্বালানিচালিত রকেট মোটর। পুরোনো অনেক তরল জ্বালানিচালিত ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের আগে জ্বালানি ভরার প্রয়োজন হয়, যা প্রস্তুতির সময় বাড়িয়ে দেয়। বিপরীতে, কঠিন জ্বালানিচালিত ক্ষেপণাস্ত্র আগে থেকেই উৎক্ষেপণের উপযোগী অবস্থায় রাখা যায়। ফলে এগুলো দ্রুত পরিবহনে তুলে উৎক্ষেপণস্থলে নেওয়া এবং তুলনামূলক কম সময়ে হামলার প্রস্তুতি সম্পন্ন করা সম্ভব। ক্ষেপণাস্ত্রের কিছু সংস্করণে উড্ডয়নের শেষ পর্যায়ে গতিপথ পরিবর্তনের সক্ষমতাও থাকে, যা প্রচলিত আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার জন্য বাধা সৃষ্টি করতে পারে। তবে হুতিদের সম্ভাব্য ক্ষেপণাস্ত্রে এসব সক্ষমতা ঠিক কতটা থাকবে, তা এখনো নিশ্চিত নয়।
ক্ষেপণাস্ত্রের মোটর, কাঠামো ও তাপরোধী উপাদানসংক্রান্ত যন্ত্রাংশ উদ্ধারের বিষয়টি এ ক্ষেত্রে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। উচ্চগতিতে বায়ুমণ্ডলে চলার সময় ক্ষেপণাস্ত্রের বাইরের অংশে প্রচণ্ড তাপ তৈরি হয়। এ ধরনের তাপ থেকে গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলোকে সুরক্ষিত রাখতে অ্যাবলেটিভ উপাদান ব্যবহার করা হয়। সিএআরের অনুসন্ধানে এ ধরনের উপাদানের উপস্থিতি পাওয়া গেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি কঠিন জ্বালানিচালিত রকেট মোটরের সঙ্গে সম্পর্কিত যন্ত্রাংশ উদ্ধারের ঘটনাও হুতিদের সম্ভাব্য অস্ত্র কর্মসূচির প্রকৃতি সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত দিচ্ছে।
চীনা কোম্পানি থেকে যন্ত্রাংশ সংগ্রহের বিষয়টি হুতিদের অস্ত্র সরবরাহব্যবস্থার আন্তর্জাতিক বিস্তার নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।
আরও পড়ুন: সৌদি আকাশসীমা ব্যবহারে হুতিদের হুঁশিয়ারি
ডব্লিউএসজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জব্দ করা চালানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নথিপত্রে চীনের একটি নির্ভুল ধাতব যন্ত্রাংশ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্টতার ইঙ্গিত রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি নিজেদের বিশেষায়িত মহাকাশ ও উড়োজাহাজশিল্পের যন্ত্রাংশ প্রস্তুতকারক হিসেবে পরিচয় দেয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট কোম্পানির নাম প্রকাশ করা হয়নি। একই সঙ্গে এসব যন্ত্রাংশ সরবরাহের ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানটি হুতিদের উদ্দেশ্য সম্পর্কে অবগত ছিল কি না, তারও নিশ্চিত প্রমাণ প্রকাশিত হয়নি।
এখানে বেসামরিক ও সামরিক ব্যবহারের উপযোগী পণ্যের পার্থক্যটি গুরুত্বপূর্ণ। শিল্পকারখানা, উড়োজাহাজ নির্মাণ কিংবা অন্যান্য বেসামরিক কাজে ব্যবহৃত কিছু প্রযুক্তি ও যন্ত্রাংশ সামরিক ব্যবস্থাতেও কাজে লাগানো যায়। এ ধরনের পণ্যকে দ্বৈত-ব্যবহারযোগ্য বা ডুয়াল-ইউজ সামগ্রী বলা হয়। তবে কোনো কোনো যন্ত্রাংশের নকশা ও নির্মাণপ্রক্রিয়া থেকেই তার সম্ভাব্য সামরিক ব্যবহার সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। সিএআরের অনুসন্ধানে সাধারণ বাণিজ্যিক পণ্যের পাশাপাশি ক্ষেপণাস্ত্রের জন্য বিশেষভাবে তৈরি কিছু উপাদান শনাক্ত হওয়ার বিষয়টি তাই সরবরাহব্যবস্থার ওপর নজরদারি জোরদারের প্রয়োজনীয়তা সামনে এনেছে।
জাতিসংঘের ইয়েমেন-সংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞা পর্যবেক্ষকদের বিভিন্ন প্রতিবেদনে হুথিদের কাছে পৌঁছানো জব্দকৃত পণ্যের উৎস হিসেবে চীনের উল্লেখযোগ্য ভূমিকার কথাও উঠে এসেছে। এর অর্থ এই নয় যে, চীনের সব সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান জেনেশুনে হুতিদের অস্ত্র তৈরিতে সহায়তা করছে। বরং এসব পণ্য কীভাবে সরবরাহকারী থেকে মধ্যস্থতাকারী, পরিবহনকারী ও চূড়ান্ত গ্রাহকের হাতে পৌঁছেছে, তা নির্ধারণের জন্য আরও অনুসন্ধান প্রয়োজন। বেইজিংয়ের পক্ষ থেকে জাতিসংঘের প্রযোজ্য নিষেধাজ্ঞা ও আন্তর্জাতিক বাধ্যবাধকতা মেনে চলার কথা বলা হয়েছে।
গত কয়েক বছরে হুতিদের অস্ত্র সংগ্রহ ও উৎপাদন কার্যক্রমে পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। আগে গোষ্ঠীটির অস্ত্রভান্ডারে বিদেশ থেকে পাচার করা সম্পূর্ণ অস্ত্রের পাশাপাশি পুরোনো সামরিক সরঞ্জামের গুরুত্ব বেশি ছিল। এখন বিভিন্ন যন্ত্রাংশ সংগ্রহ করে নিজস্ব নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকায় অস্ত্র সংযোজন ও উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর চেষ্টা তাদের কার্যক্রমে নতুন মাত্রা যোগ করছে। এতে বিদেশ থেকে তৈরি ক্ষেপণাস্ত্র সংগ্রহের ওপর নির্ভরতা কিছুটা কমানোর পাশাপাশি সরবরাহব্যবস্থায় বাধা সৃষ্টি হলেও অস্ত্র কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে।
সিএআরের গবেষকেরা ২০২৪ সালের শেষ দিকে তুলনামূলক কম পাল্লার সদর ক্ষেপণাস্ত্রের সঙ্গে সম্পর্কিত বিশেষভাবে তৈরি যন্ত্রাংশ আমদানির নথিও পর্যালোচনা করেছিলেন। সাম্প্রতিক চালানে আরও উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার সঙ্গে সম্পর্কিত উপাদান পাওয়ার বিষয়টি হুথিদের অস্ত্র সংগ্রহের লক্ষ্য ও প্রযুক্তিগত উচ্চাকাঙ্ক্ষায় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়। তবে এসব উপাদানের উপস্থিতি থেকে পূর্ণাঙ্গ ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির সক্ষমতা অর্জনের বিষয়টি নিশ্চিত করা যায় না। উন্নত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করতে বিশেষায়িত যন্ত্রাংশের পাশাপাশি নকশা, প্রকৌশল দক্ষতা, পরীক্ষামূলক উৎপাদন এবং বিভিন্ন নিয়ন্ত্রণব্যবস্থার সমন্বয় প্রয়োজন।
হুতিদের অস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে উদ্বেগের আরেকটি কারণ হলো, তাদের সরবরাহব্যবস্থা এখন একক কোনো দেশের ওপর নির্ভরশীল না থেকে বিভিন্ন দেশ, ব্যবসায়ী ও মধ্যস্থতাকারীর সমন্বয়ে গড়ে উঠছে বলে বিশেষজ্ঞদের ধারণা। এমন নেটওয়ার্কের মাধ্যমে যন্ত্রাংশ সংগ্রহ করা গেলে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা ও সমুদ্রপথে নজরদারি সত্ত্বেও অস্ত্র কর্মসূচির জন্য প্রয়োজনীয় উপকরণ সংগ্রহের চেষ্টা অব্যাহত রাখা সম্ভব। ফলে অস্ত্রের চালান জব্দ করার পাশাপাশি সরবরাহকারী, আর্থিক লেনদেন, মধ্যস্থতাকারী এবং চূড়ান্ত ব্যবহারকারীর মধ্যে সংযোগ শনাক্ত করাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
২০১৪ সাল থেকে ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ পক্ষ হিসেবে সক্রিয় হুতিরা দেশটির বিস্তীর্ণ অঞ্চল নিয়ন্ত্রণ করে আসছে। সৌদি-সমর্থিত সরকারি বাহিনীর সঙ্গে তাদের দীর্ঘ সংঘাত ইয়েমেনের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে জটিল করেছে। একই সঙ্গে লোহিত সাগর ও আশপাশের জলপথে জাহাজ চলাচলকে কেন্দ্র করে হুতিদের কর্মকাণ্ড আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও আঞ্চলিক নিরাপত্তায় প্রভাব ফেলেছে। উন্নত ও দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির সক্ষমতা অর্জন করতে পারলে এই সংঘাতের প্রভাব আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সৌদি আরবের জন্য সম্ভাব্য হুমকির মাত্রা বাড়ার পাশাপাশি ইসরায়েলও নতুন নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে। বিশেষ করে ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা, নির্ভুলতা এবং দ্রুত মোতায়েনের সক্ষমতা বাড়লে প্রতিরক্ষাব্যবস্থাকে আরও বিস্তৃত ভৌগোলিক এলাকা পর্যবেক্ষণ করতে হবে। একই সঙ্গে সম্ভাব্য উৎক্ষেপণস্থল শনাক্ত করা, ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো সুরক্ষিত রাখার ব্যয়ও বাড়তে পারে। তবে এসব সম্ভাব্য ঝুঁকির বাস্তব মাত্রা নির্ভর করবে হুথিরা শেষ পর্যন্ত কী ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করতে পারে এবং সেটির কার্যকারিতা কতটা নিশ্চিত করতে পারে, তার ওপর।
সব মিলিয়ে, চীনা উৎস থেকে সংগ্রহ করা বিশেষায়িত যন্ত্রাংশ হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ নতুন তথ্য সামনে এনেছে। এটি শুধু একটি উন্নত অস্ত্র তৈরির সম্ভাবনার বিষয় নয়; বরং সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে আন্তর্জাতিক সরবরাহব্যবস্থা, দ্বৈত-ব্যবহারযোগ্য প্রযুক্তি এবং অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করার সীমাবদ্ধতারও প্রতিফলন।
তবে গবেষকদের অনুসন্ধানে যে বিষয়টি এখনো অনিশ্চিত, তা হলো হুতিরা কি ইতোমধ্যে কার্যকর ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করেছে, নাকি প্রয়োজনীয় উপাদান সংগ্রহ করে সেই লক্ষ্য অর্জনের প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। এই প্রশ্নের উত্তরই শেষ পর্যন্ত নির্ধারণ করবে, মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে নতুন এই অস্ত্র কর্মসূচি কতটা বড় পরিবর্তন আনতে পারে।
নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি








