ইয়েমেনে প্রেসিডেন্ট প্রাসাদে হামলাচেষ্টা, গুলিতে নিহত ১
ছবি: সংগৃহীত
ইয়েমেনের অন্তর্বর্তীকালীন রাজধানী এডেনে আল-মাশিক প্রেসিডেন্সিয়াল প্যালেসের প্রধান ফটকে একদল সশস্ত্র বিক্ষোভকারী প্রাসাদে প্রবেশের চেষ্টাকালে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিবর্ষণে অন্তত একজন নিহত হয়েছেন। এই সংঘাতের ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত ১১ জন।
বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) আল-মাশিক প্রেসিডেন্সিয়াল প্যালেসের প্রধান ফটকে এ রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা এবং ইয়েমেনের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সাবার প্রতিবেদনে শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
সরাসরি ঘটনা তদন্ত করে আল-জাজিরার প্রতিবেদনে দেখা গেছে, হামলাকারীরা সাউদার্ন ট্রানজিশনাল কাউন্সিল (এসটিসি)-এর সঙ্গে সম্পৃক্ত। ভিডিও ফুটেজে আহত ব্যক্তিদের দৃশ্যও ধরা পড়েছে। হামলার সময় প্রাসাদে দেশের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের প্রথম বৈঠক চলছিল। প্রধানমন্ত্রী শায়া মোহসেন আল-জিন্দানি বৈঠক পরিচালনা করছিলেন।
রাষ্ট্রায়ত্ত বার্তা সংস্থা সাবা জানিয়েছে, বৈঠকের সময় প্রাসাদের বাইরে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ চলছিল।
এডেন গভর্নরেটের সিকিউরিটি কমিটি জানিয়েছে, সশস্ত্র বিক্ষোভকারীরা প্রাসাদে প্রবেশের চেষ্টা করলে নিরাপত্তা বাহিনী আইনসম্মত ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।
আরও পড়ুন: রমজানের প্রথম দিনে পাকিস্তানে বিস্ফোরণ, নিহত ১৬
কমিটি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, কোনো অনিয়ম বা নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর হামলা বরদাশত করা হবে না।
এসটিসি অভিযোগ করেছে, গুলিতে কমপক্ষে ২১ জন আহত হয়েছে। তারা নিরাপত্তা বাহিনীর অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করে ঘটনার স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠনের দাবি করেছে। এছাড়াও দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের বিরুদ্ধে ‘পদ্ধতিগত দমন-পীড়ন’ বন্ধে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের হস্তক্ষেপ কামনা করেছে।
এসটিসি সংযুক্ত আরব আমিরাতের সমর্থিত একটি সশস্ত্র বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন, যা ২০১৭ সালে গঠিত। গোষ্ঠীটি দক্ষিণ ইয়েমেনের স্বায়ত্তশাসন ও স্বাধীনতার পক্ষে আন্দোলন করে। চলতি বছরের জানুয়ারিতে সৌদি আরব সমর্থিত সরকারি বাহিনীর অভিযানে তারা এডেনসহ দক্ষিণাঞ্চলের বড় অংশ নিয়ন্ত্রণ হারায়। শুক্রবার তারা নবগঠিত ইয়েমেনি সরকারের বৈধতা প্রত্যাখ্যান করে ঘোষণা করেছে, এডেনে সরকারের উপস্থিতি ‘জনসমর্থনহীন একটি বাস্তবিক কর্তৃত্ব’ মাত্র।
তারা সতর্ক করে বলেছে, দক্ষিণাঞ্চলে সরকারের কোনো আনুষ্ঠানিক উপস্থিতি রাজনৈতিক বাধ্যবাধকতা হিসেবে গণ্য হবে না।
ইয়েমেন ২০১৪ সাল থেকে হুতি বিদ্রোহীদের রাজধানী সানা দখলের পর থেকে ধারাবাহিক সহিংসতা ও অস্থিরতার মধ্যে রয়েছে। পরিস্থিতি দক্ষিণাঞ্চলের স্বায়ত্তশাসনবাদী আন্দোলন ও কেন্দ্রীয় সরকারের মধ্যে উত্তেজনা ক্রমেই বাড়ছে।
সূত্র: সিনহুয়া, আল-জাজিরা, সাবা নিউজ এজেন্সি।
নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি








