যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত ইরান, তেহরানে আশ্রয়কেন্দ্র হচ্ছে মেট্রো-পার্কিং
ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা ও সম্ভাব্য যুদ্ধের আশঙ্কার মধ্যে রাজধানী তেহরানজুড়ে ব্যাপক সুরক্ষা প্রস্তুতি শুরু করেছে ইরান। যেকোনো জরুরি পরিস্থিতিতে বেসামরিক নাগরিকদের জানমাল রক্ষায় শহরটির মেট্রো স্টেশন, পার্কিং এলাকা এবং বিভিন্ন ভূগর্ভস্থ স্থাপনাকে দ্রুত আশ্রয়কেন্দ্রে রূপান্তর করা হচ্ছে। তেহরান সংকট ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রাথমিকভাবে প্রায় ২৫ লাখ মানুষের আশ্রয়ের জন্য এসব স্থান প্রস্তুত করা হচ্ছে।
শনিবার (৩১ জানুয়ারি ২০২৬) তেহরানে গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে তেহরান সংকট ব্যবস্থাপনা সংস্থার প্রধান আলী নাসিরি এই প্রস্তুতির বিস্তারিত তুলে ধরেন।
তিনি জানান,তেহরান সিটি করপোরেশনের প্যাসিভ ডিফেন্স কমিটি শহরের বিদ্যমান আশ্রয়কেন্দ্রগুলোর ওপর বিস্তৃত জরিপ পরিচালনা করেছে। এই জরিপে দেখা গেছে, স্কুল ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে থাকা ৫১৮টি পুরনো আশ্রয়কেন্দ্রের মধ্যে প্রায় ২০ শতাংশ বর্তমানে সংস্কারযোগ্য। রাজধানীর ৮২টি মেট্রো স্টেশনকে আনুষ্ঠানিকভাবে আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে।
মেট্রো স্টেশনগুলোর বাইরে আরও ৩০০টিরও বেশি পার্কিং এলাকা ও পাবলিক কমপ্লেক্সকে সম্ভাব্য জরুরি আশ্রয় হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এই আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে শীঘ্রই নির্দেশক সাইনবোর্ড ও লেবেল স্থাপন করা হবে। নাসিরি বলেন, প্রয়োজনীয় অনুমোদন ও প্রস্তুতি সম্পন্ন হলে এই কেন্দ্রগুলো প্রায় ২৫ লাখ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সক্ষম হবে।
আরও পড়ুন: ইরানের রেভোল্যুশনারি গার্ডকে ‘সন্ত্রাসী গোষ্ঠী’ ঘোষণা ইইউ’র
তেহরানের সাধারণ জনসংখ্যা প্রায় ১০–১২ মিলিয়ন এবং বৃহত্তর মহানগর এলাকা অন্তর্ভুক্ত করলে এটি ১৫–১৬ মিলিয়নের মধ্যে দাঁড়ায়। ২০২৫ সালের জুনে ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের ১২ দিনের সরাসরি সামরিক সংঘর্ষের সময়, তেহরানের বাসিন্দারা প্রথমবারের মতো নিকটবর্তী মেট্রো স্টেশনগুলোতে আশ্রয় নিয়েছিলেন। সেই সংঘাতের পর থেকেই তেহরানসহ বিভিন্ন এলাকায় মেট্রো স্টেশন, পার্কিং সুবিধা এবং অন্যান্য স্থাপনাকে নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে উন্নত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের দিকে বিশাল নৌবহর পাঠানোর ঘোষণা দেওয়ার পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়েছে। ইরান সরকার সতর্ক করে জানিয়েছে, দেশটির ওপর যেকোনো হামলার প্রতিক্রিয়া হবে অত্যন্ত শক্তিশালী ও কঠোর।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, তেহরানের এই প্রস্তুতি শুধুমাত্র আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণেই সীমাবদ্ধ নয়। এটি মূলত শহরের নাগরিকদের মানসিক প্রস্তুতি নিশ্চিত করা, প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা সামরিক হামলা দুটোই মোকাবিলার জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ, এবং ইরানের দূরদর্শী সামরিক ও বেসামরিক নিরাপত্তা নীতি প্রতিফলিত করে।
নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি








